বিলাসবহুল প্রাসাদ ছেড়ে বস্তিতে দিব্যা খোসলা!! নতুন ছবির প্রস্তুতিতে কি চমক আসছে ? বিস্তারিত জানুন…

টি-সিরিজ কর্ণধার ভূষণ কুমারের স্ত্রী দিব্যা খোসলা নতুন ছবি চতুর নার-এর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০ দিন কাটালেন মুম্বইয়ের বস্তিতে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় নিজেকে ঢেলে দিলেন অভিনেত্রী-পরিচালক।

বলিউডের অন্যতম সফল প্রযোজনা সংস্থা টি-সিরিজ–এর কর্ণধার ভূষণ কুমারের নাম সবারই জানা। আর তাঁর স্ত্রী দিব্যা খোসলা কুমার, যিনি একসময় ব্যর্থ অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও, পরে প্রযোজক ও পরিচালক হয়ে বলিউডে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি গ্ল্যামার, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং চমকপ্রদ স্টাইলের জন্যও নিয়মিত খবরে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি দিব্যা যেভাবে আলোচনায় এসেছেন, তা একেবারেই ভিন্ন কারণে—তিনি বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে মুম্বইয়ের এক বস্তিতে গিয়ে ২০ দিন ধরে থেকেছেন।

অভিনয় থেকে প্রযোজনায়: দিব্যা খোসলার যাত্রা

দিব্যা খোসলা কুমারের বলিউড যাত্রা শুরু হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। তবে বড় সাফল্য পাননি। বিয়ের পর জীবনের মোড় ঘোরে। তিনি মুম্বইয়ের এক নামী প্রতিষ্ঠান থেকে সিনেম্যাটোগ্রাফি শেখেন এবং টি-সিরিজ ব্যানারে একের পর এক মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করতে শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২০টিরও বেশি জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন।

তবে যতই ক্যারিয়ার জমে উঠুক, আলোচনায় দিব্যা বরাবরই থেকেছেন তাঁর গ্ল্যামারাস লুক, বিলাসবহুল জীবনধারা এবং ভূষণ কুমারের স্ত্রী হিসেবে পরিচয়ের জন্য

বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বস্তিতে পা

মুম্বইয়ের বস্তি মানেই ঘিঞ্জি পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর নালা, গন্ধ আর কষ্টের জীবন। সেই জায়গাতেই ২০ দিন ধরে থেকেছেন দিব্যা খোসলা। বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়ি ছেড়ে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের মতো দিন কাটিয়েছেন। তাঁদের ঘরে গেছেন, চা খেয়েছেন, সাধারণ খাবার খেয়েছেন।

তিনি স্বীকার করেছেন, বস্তির সেই জীবনযাপন এতটাই আলাদা যে তাঁর মাথায় উকুনও বাসা বেঁধেছিল। তবু চরিত্রের প্রতি দায়িত্ববোধ তাঁকে এই কষ্ট সহ্য করতে সাহায্য করেছে।

সংসারে অশান্তি নয়, চরিত্রের প্রস্তুতি

প্রথমদিকে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সংসারে অশান্তির কারণে দিব্যা বাড়ি ছেড়েছেন। কিন্তু আসল কারণ ছিল তাঁর আসন্ন ছবি চতুর নার। ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে এক বস্তির মেয়ের চরিত্রে। আর সেই চরিত্রকে বাস্তবিকভাবে ফুটিয়ে তুলতেই তিনি সত্যিকারের বস্তিতে গিয়ে দিন কাটিয়েছেন।

দিব্যার অভিজ্ঞতা

এক সাক্ষাৎকারে দিব্যা খোলাখুলি বলেন,
“আমি টানা ২০ দিন বস্তিতে থেকেছি, একটা নালার পাশে ঘুমাতাম। প্রথমদিকে প্রচণ্ড বাজে গন্ধ নাকে লাগত, পরে অভ্যস্ত হয়ে যাই। সেখানকার মহিলারা একে অপরের মাথার উকুন বেছে দিতেন, আমার মাথাতেও উকুন হয়েছিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি চাই দর্শকরা যেন আমার অভিনয় দেখে সত্যি মনে করেন আমি ওই বস্তির বাসিন্দা। চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে এই অভিজ্ঞতা জরুরি ছিল।”

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া

দিব্যার এই সাহসী পদক্ষেপে ভক্তরা মুগ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে অনেকেই প্রশংসা করছেন। কারও মতে, এটাই একজন সত্যিকারের অভিনেত্রীর পরিচয়। আবার অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রমাণ করেছেন বলিউডে শুধু বিলাসিতা নয়, পরিশ্রম আর প্রতিশ্রুতিই সাফল্যের আসল মাপকাঠি

আরও পরুনঃ নতুন ধারার গল্প নিয়ে ফিরছেন পরিচালক রাজীব বিশ্বাস, রণিতা দাসের সঙ্গে ছোটপর্দায় নতুন জুটি

চতুর নার: কী গল্প লুকিয়ে?

দিব্যা খোসলা অভিনীত চতুর নার এখনও মুক্তি পায়নি। তবে জানা গেছে ছবিতে তিনি বস্তির এক সাধারণ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই করেন। ছবির পরিচালকও বলেছেন, দিব্যার এই অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়ে গভীরতা আনবে।

বলিউডে বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব

বলিউডে অনেক অভিনেতাই চরিত্রের জন্য শারীরিক পরিবর্তন আনেন। কেউ ওজন বাড়ান, কেউ কমান, কেউ বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। তবে দিব্যা খোসলা কুমার যেভাবে বস্তিতে গিয়ে দিন কাটালেন, তা নিঃসন্দেহে বিরল উদাহরণ। তাঁর এই সাহসী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের অভিনেতাদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

দিব্যা খোসলা কুমার শুধু একজন তারকা স্ত্রী নন, তিনি একজন পরিশ্রমী শিল্পী। নতুন ছবি চতুর নার-এর জন্য তাঁর বস্তির অভিজ্ঞতা বলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, পর্দায় তিনি কতটা সফলভাবে এই চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে পারেন।

Leave a Comment