অভিনেত্রী দিশা পটানির বরেলীর বাড়িতে চলল গুলি। অভিযুক্ত গোল্ডি ব্রার। ধর্মগুরুকে কটাক্ষ করায় দিদি খুশবু পটানিকে নিশানা বলেই দাবি গ্যাংস্টারের।
দিশা পটানির বাড়িতে মাঝরাতে গুলি! ফের মাথাচাড়া দিল গোল্ডি ব্রার গ্যাং
শুক্রবার ভোর ৩টা নাগাদ, উত্তরপ্রদেশের বরেলী শহরে দিশা পটানির বাড়িতে ঘটে যায় রহস্যজনক গুলি চালানোর ঘটনা। অজ্ঞাতপরিচয় দুই বাইক আরোহী মোটরবাইকে করে এসে ১০-১২ রাউন্ড গুলি চালায় বলে জানায় পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় কেউ আহত হননি, তবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
একনজরে
গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার
সলমন খানের বাড়িতে গুলি চালানোর দায় আগেও স্বীকার করেছিলেন গোল্ডি ব্রার ও লরেন্স বিষ্ণোই। এবার দিশা পটানির বাড়িতে গুলি চালানোর দায় নিজে থেকেই স্বীকার করেছেন গোল্ডি ব্রার। তাঁর দাবি, এই হামলা ছিল একটি ‘সতর্কবার্তা’—তাঁর ভাষায়, “সনাতন ধর্মকে অপমানের প্রতিশোধ”।
কেন এত রাগ? দিদি খুশবু পটানির মন্তব্য ঘিরেই কি গ্যাংস্টারের প্রতিক্রিয়া?
দিশার দিদি খুশবু পটানি, যিনি পেশায় সাবেক সেনা অফিসার, সম্প্রতি ধর্মগুরু অনিরুদ্ধ আচার্য ও প্রেমানন্দ মহারাজকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। খুশবুর বক্তব্য ছিল, এই দুই ধর্মগুরু নারীবিদ্বেষী ও অবমাননাকর মন্তব্য করছেন।
একটি ধর্মীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনিরুদ্ধ আচার্য বলেন: “আজকের দিনের পুরুষেরা এমন মেয়েদের খোঁজেন, যারা ২৫ বছরের নিচে। কিন্তু এই মেয়েরা এতদিনে ৪-৫ জনের শয্যাসঙ্গিনী হয়ে গেছে।” এই মন্তব্য মহিলা সমাজের প্রতি অত্যন্ত অবমাননাকর বলেই মনে করেছেন অনেকে। মন্তব্য ঘিরে সমাজমাধ্যমে প্রচণ্ড বিতর্ক শুরু হয়।
খুশবু পটানি এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানান—তাঁর ভাষায়: “এই লোকটা নারীবিদ্বেষী, দেশদ্রোহী এবং নপুংসক। সামনে পেলে ওকে শিখিয়ে দিতাম। এমন লোকের অনুসারীরা সমাজের কলঙ্ক।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের গোঁড়া মনোভাব হিন্দু ধর্মকেই অপমান করছে।
আরও পড়ুনঃ সাত বছর পর ছোটপর্দায় কামব্যাক মধুমিতা সরকার! নীল ভট্টাচার্যের সঙ্গে জুটি বাঁধলেন ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-য়
শুধু অনিরুদ্ধ আচার্যই নয়, প্রেমানন্দ মহারাজকেও কটাক্ষ করেন দিশার দিদি। তাঁর মতে, এইসব ধর্মগুরুর মাধ্যমে সনাতন ধর্মের বিকৃতি ঘটছে এবং নারীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে।
গোল্ডি ব্রার এই আক্রমণের কারণ হিসাবে বলেন—খুশবুর মন্তব্য হিন্দু ধর্মকে অপমান করেছে। তিনি দাবি করেন, সনাতন ধর্মকে কেউ অপমান করলে তা সহ্য করা হবে না। তাই দিশার বাড়িতে গুলি চালিয়ে তাঁরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ
গুলি চলার খবর পেয়ে দ্রুত দিশার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয় পুলিশ। বরেলীর ওই বাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশ ATS এবং সাইবার সেলে পাঠানো হয়েছে তদন্তের জন্য।
আরও পড়ুনঃ নেপালের অস্থির পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বিগ্ন অভিনেত্রী প্রাজক্তা কোলি, বাতিল করলেন সফর

সেলিব্রিটির বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা কেন বাড়ছে?
গত বছর যেমন সলমন খানের বাড়িতে গুলি চলে, এবার দিশার বাড়ি। প্রশ্ন উঠছে—বিনোদন জগতের তারকাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের হুমকি বা আক্রমণ কেন বাড়ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় মন্তব্য বা বিতর্ক এখন গ্যাংস্টারদের ‘টার্গেটিং টুল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিশা পটানির সমর্থনে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুলেছেন। অনেকে বলছেন, “খুশবু একজন সাবেক সেনা অফিসার। তাঁর মতামত জানানো অপরাধ নয়।” আবার অনেকে বলছেন, সেলেবদের উচিত বিতর্কিত মন্তব্য থেকে দূরে থাকা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গুলি চালানো দু’জনই পেশাদার শ্যুটার হতে পারে। তাদের শনাক্ত করতে CCTV ফুটেজ এবং স্থানীয় মোবাইল টাওয়ার ডেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দিশার পরিবার এখন আতঙ্কের মধ্যে, যদিও তাঁরা পুলিশের উপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট—ধর্মীয় মন্তব্য, সেলেব্রিটি স্ট্যাটাস এবং গ্যাংস্টার রাজনীতি আজকের সমাজে এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি করছে। দিশা পটানির বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা শুধু একটি সেলিব্রিটিকে নিশানা করা নয়, এটি একটি বড় সামাজিক ইস্যুর প্রতিফলন। কীভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় থাকবে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
অবশ্যই দেখবেন
| বিষয় | লিংক |
| বলিউড | Bollywood News |
| টলিউড | Tollywood News |
| সিরিয়াল | Serial News |