বিলাসবহুল প্রাসাদ ছেড়ে বস্তিতে দিব্যা খোসলা!! নতুন ছবির প্রস্তুতিতে কি চমক আসছে ? বিস্তারিত জানুন…

দিব্যা খোসলা
টি-সিরিজ কর্ণধার ভূষণ কুমারের স্ত্রী দিব্যা খোসলা নতুন ছবি চতুর নার-এর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০ দিন কাটালেন মুম্বইয়ের বস্তিতে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় নিজেকে ঢেলে দিলেন অভিনেত্রী-পরিচালক।

বলিউডের অন্যতম সফল প্রযোজনা সংস্থা টি-সিরিজ–এর কর্ণধার ভূষণ কুমারের নাম সবারই জানা। আর তাঁর স্ত্রী দিব্যা খোসলা কুমার, যিনি একসময় ব্যর্থ অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও, পরে প্রযোজক ও পরিচালক হয়ে বলিউডে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি গ্ল্যামার, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং চমকপ্রদ স্টাইলের জন্যও নিয়মিত খবরে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি দিব্যা যেভাবে আলোচনায় এসেছেন, তা একেবারেই ভিন্ন কারণে—তিনি বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে মুম্বইয়ের এক বস্তিতে গিয়ে ২০ দিন ধরে থেকেছেন।

অভিনয় থেকে প্রযোজনায়: দিব্যা খোসলার যাত্রা

দিব্যা খোসলা কুমারের বলিউড যাত্রা শুরু হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। তবে বড় সাফল্য পাননি। বিয়ের পর জীবনের মোড় ঘোরে। তিনি মুম্বইয়ের এক নামী প্রতিষ্ঠান থেকে সিনেম্যাটোগ্রাফি শেখেন এবং টি-সিরিজ ব্যানারে একের পর এক মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করতে শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২০টিরও বেশি জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন।

তবে যতই ক্যারিয়ার জমে উঠুক, আলোচনায় দিব্যা বরাবরই থেকেছেন তাঁর গ্ল্যামারাস লুক, বিলাসবহুল জীবনধারা এবং ভূষণ কুমারের স্ত্রী হিসেবে পরিচয়ের জন্য

বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বস্তিতে পা

মুম্বইয়ের বস্তি মানেই ঘিঞ্জি পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর নালা, গন্ধ আর কষ্টের জীবন। সেই জায়গাতেই ২০ দিন ধরে থেকেছেন দিব্যা খোসলা। বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়ি ছেড়ে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের মতো দিন কাটিয়েছেন। তাঁদের ঘরে গেছেন, চা খেয়েছেন, সাধারণ খাবার খেয়েছেন।

তিনি স্বীকার করেছেন, বস্তির সেই জীবনযাপন এতটাই আলাদা যে তাঁর মাথায় উকুনও বাসা বেঁধেছিল। তবু চরিত্রের প্রতি দায়িত্ববোধ তাঁকে এই কষ্ট সহ্য করতে সাহায্য করেছে।

সংসারে অশান্তি নয়, চরিত্রের প্রস্তুতি

প্রথমদিকে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সংসারে অশান্তির কারণে দিব্যা বাড়ি ছেড়েছেন। কিন্তু আসল কারণ ছিল তাঁর আসন্ন ছবি চতুর নার। ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে এক বস্তির মেয়ের চরিত্রে। আর সেই চরিত্রকে বাস্তবিকভাবে ফুটিয়ে তুলতেই তিনি সত্যিকারের বস্তিতে গিয়ে দিন কাটিয়েছেন।

দিব্যার অভিজ্ঞতা

এক সাক্ষাৎকারে দিব্যা খোলাখুলি বলেন,
“আমি টানা ২০ দিন বস্তিতে থেকেছি, একটা নালার পাশে ঘুমাতাম। প্রথমদিকে প্রচণ্ড বাজে গন্ধ নাকে লাগত, পরে অভ্যস্ত হয়ে যাই। সেখানকার মহিলারা একে অপরের মাথার উকুন বেছে দিতেন, আমার মাথাতেও উকুন হয়েছিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি চাই দর্শকরা যেন আমার অভিনয় দেখে সত্যি মনে করেন আমি ওই বস্তির বাসিন্দা। চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে এই অভিজ্ঞতা জরুরি ছিল।”

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া

দিব্যার এই সাহসী পদক্ষেপে ভক্তরা মুগ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে অনেকেই প্রশংসা করছেন। কারও মতে, এটাই একজন সত্যিকারের অভিনেত্রীর পরিচয়। আবার অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রমাণ করেছেন বলিউডে শুধু বিলাসিতা নয়, পরিশ্রম আর প্রতিশ্রুতিই সাফল্যের আসল মাপকাঠি

আরও পরুনঃ নতুন ধারার গল্প নিয়ে ফিরছেন পরিচালক রাজীব বিশ্বাস, রণিতা দাসের সঙ্গে ছোটপর্দায় নতুন জুটি

চতুর নার: কী গল্প লুকিয়ে?

দিব্যা খোসলা অভিনীত চতুর নার এখনও মুক্তি পায়নি। তবে জানা গেছে ছবিতে তিনি বস্তির এক সাধারণ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই করেন। ছবির পরিচালকও বলেছেন, দিব্যার এই অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়ে গভীরতা আনবে।

বলিউডে বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব

বলিউডে অনেক অভিনেতাই চরিত্রের জন্য শারীরিক পরিবর্তন আনেন। কেউ ওজন বাড়ান, কেউ কমান, কেউ বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। তবে দিব্যা খোসলা কুমার যেভাবে বস্তিতে গিয়ে দিন কাটালেন, তা নিঃসন্দেহে বিরল উদাহরণ। তাঁর এই সাহসী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের অভিনেতাদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

দিব্যা খোসলা কুমার শুধু একজন তারকা স্ত্রী নন, তিনি একজন পরিশ্রমী শিল্পী। নতুন ছবি চতুর নার-এর জন্য তাঁর বস্তির অভিজ্ঞতা বলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, পর্দায় তিনি কতটা সফলভাবে এই চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে পারেন।

উর্ফী জাভেদকে ঘিরে নতুন বিতর্ক: অশালীন ছবি ফাঁসের হুমকি?

Urfi Javed
উর্ফী জাভেদ অভিযোগ করেছেন, এক ব্যক্তি তাঁর ছবি বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁসের হুমকি দিয়েছে। সাহসী উর্ফী জানালেন, এ বিষয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত নাম উর্ফী জাভেদ প্রায় প্রতিদিনই খবরের শিরোনামে থাকেন। কখনও তাঁর অদ্ভুত ফ্যাশন সেন্স, কখনও সাহসী মন্তব্য তাঁকে ভাইরাল করে তোলে। তবে এবার অন্য কারণে আলোচনায় আসলেন অভিনেত্রী। অভিযোগ, এক ব্যক্তি তাঁর কিছু ছবি বিকৃত করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তাঁকে হুমকি দিচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে উর্ফী নিজেই এই ঘটনার কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, “একজন ব্যক্তি আমাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করছে। হুমকি দিচ্ছে, আমার ছবি এডিট করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, এর মধ্যেই কিছু বিকৃত ছবি সে প্রকাশ করেছে।” এই পোস্টের সঙ্গে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের ছবিও শেয়ার করেছেন।

ঘটনায় ক্ষুব্ধ উর্ফী জানান, প্রযুক্তিকে এভাবে অপব্যবহার করা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তাঁর ভাষায়, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, মানুষজন প্রযুক্তির নামে কীসব করছে! তবে আমি চুপ থাকব না। খুব তাড়াতাড়ি এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করব।” শুধু তাই নয়, তিনি অন্য মহিলাদেরও সাহস জুগিয়ে বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে ভয় পাবেন না। সোজা আইনের সাহায্য নিন। সমস্যা আপনার মধ্যে নয়, সমস্যা এই অসুস্থ মানসিকতার মানুষগুলোর মধ্যে।”

উর্ফী জাভেদ শুধু অভিনয় বা ফ্যাশন নিয়েই নয়, বরং স্পষ্টভাষী মনোভাবের জন্যও চর্চিত। তিনি সবসময়ই হেনস্থা বা অবমাননার বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তাঁর বিশ্বাস, চুপ করে থাকলে অপরাধীরা আরও বেশি সাহস পায়। তাই প্রত্যেক নারীকে উচিত প্রতিবাদে সরব হওয়া।

এটাই প্রথম নয়। এর আগেও নানা অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উর্ফী। কিছুদিন আগে তিনি জানিয়েছিলেন, মাত্র ১৫ বছরের এক কিশোর প্রকাশ্যে তাঁকে অপমানজনক প্রশ্ন করে বসে। অভিনেত্রীর ভাষায়, “আমি যখন ছবি তুলছিলাম, একদল ছেলে পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের মধ্যে একজন হঠাৎ সবার সামনে আমাকে প্রশ্ন করে, ‘কতজনের সঙ্গে সহবাস করেছ?’ আমার মা এবং পরিবারের সামনেই এমন প্রশ্ন শোনতে হয়।” এই ঘটনা উর্ফীকে গভীরভাবে আঘাত করলেও তিনি নীরব থাকেননি। বরং ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন এবং প্রকাশ্যে এনেছেন যাতে অন্যরা সতর্ক হতে পারে।

উর্ফীর সাহসী ব্যক্তিত্ব অনেক ভক্তের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। যদিও তাঁর সমালোচকও কম নয়, তবে প্রতিবারই তিনি নিজের ভঙ্গিতে তাঁদের জবাব দেন। এবারও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ভয়ের কাছে হার মানবেন না, বরং আইনি পথে এগিয়ে যাবেন।

আরও পড়ুনঃ দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ের বাড়িতে বিপদ, ভরদুপুরে কী ঘটল জানুন

নেটিজেনদের একাংশ উর্ফীর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন। কেউ লিখছেন, “এই ধরনের মানুষদের শাস্তি পাওয়া উচিত।” আবার কেউ মন্তব্য করছেন, “উর্ফীর জনপ্রিয়তা ও খোলামেলা মতামতই তাঁকে বারবার টার্গেট বানাচ্ছে।”

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, উর্ফী জাভেদ শুধু ফ্যাশন বা বিতর্কের জন্য নয়, নিজের দৃঢ় মানসিকতা ও প্রতিবাদী সুরের জন্যও আলোচনায় থাকেন। অশালীন ছবি ফাঁসের এই হুমকি থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে হেনস্থার অভিজ্ঞতা—সবক্ষেত্রেই তিনি নারীদের জন্য এক সাহসী বার্তা দিয়েছেন। এখন দেখা যাক, তাঁর করা অভিযোগের পর কীভাবে আইনি পদক্ষেপ এগোয় এবং দোষীরা শাস্তি পায় কি না।

দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংয়ের কন্যা দুয়া এক বছরে পা রাখল

দীপিকা পাড়ুকোন মেয়ে দুয়া
দীপিকা-রণবীরের কন্যা দুয়া এক বছরে পা দিল। জন্মদিন পালনের মাঝেই ফাঁস হল খুদের ছবি। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উচ্ছ্বসিত ভক্তরা।

দুয়ার আগমন: নতুন অধ্যায়ের সূচনা

বলিউডের জনপ্রিয় দম্পতি দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিং তাঁদের অভিনয়ের জন্য যেমন ভক্তদের মন জয় করেছেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন। ২০২৩ সালের গণেশচতুর্থীর পরের দিনই তাঁদের জীবনে আসে সুখবর—প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম দেন দীপিকা। সন্তান জন্মের পর অনুরাগীদের ভালোবাসায় ভরে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া।

তবে এই সুখবর শোনালেও তাঁরা প্রথম থেকেই একান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখেন। জনসমক্ষে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুদের ছবি প্রকাশ করেননি। কেবল দীপাবলির সময়ে একটি বিশেষ মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছিলেন তাঁরা। মেয়ের ছোট্ট দুটি পায়ের ছবি দিয়ে নাম ঘোষণা করেন—দুয়া

এক বছরে পা দিল খুদে তারকা

২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কন্যা দুয়া এক বছরে পা রাখে। অনুরাগীরা যেমন অধীর আগ্রহে দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন, তেমনই দীপিকা-রণবীরও মেয়ের জন্মদিনকে স্মরণীয় করতে চেয়েছিলেন। তবে তারকাসুলভ কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন হয়নি। বরং ঘরোয়া, উষ্ণ পরিবেশে কন্যার জন্মদিন পালিত হয়।

দীপিকা নিজের হাতে বানান বিশেষ চকোলেট কেক। তাঁর মতে, এটাই তাঁর ‘লভ ল্যাঙ্গোয়েজ’—ভালোবাসার ভাষা। খুদের জন্য মায়ের হাতে বানানো কেকই সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।

কেন এত গোপনীয়তা?

বেশ কয়েক মাস ধরে দীপিকা-রণবীরের ভক্তরা বারবার জানতে চাইছিলেন, কবে দেখা যাবে খুদের ছবি। তবে এই পাওয়ার কাপল দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মেয়ের গোপনীয়তা তাঁরা বজায় রাখবেন। দীপিকা একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সন্তানকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে তিনি চান না। শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এমনকি ছবিশিকারিদের কাছেও তিনি বারবার অনুরোধ করেছেন, যেন ক্যামেরায় দুয়ার ছবি ধরা না পড়ে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—শিশুর শৈশবটুকু যেন মুক্ত ও স্বাভাবিক থাকে।

ভাইরাল ভিডিওতে প্রথম ঝলক

তবুও সমস্ত সতর্কতা সত্ত্বেও সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যায় একটি ভিডিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দীপিকার কোলে বসে রয়েছে এক ছোট্ট মেয়ে। নেটিজেনরা দাবি করেন, এটাই রণবীর-দীপিকার কন্যা দুয়া।

ভিডিওতে পরিষ্কার বোঝা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হওয়ায় বিরক্ত হয়েছেন দীপিকা। এমনকি তাঁকে স্পষ্টভাবে বলতে শোনা যায়—ভিডিও রেকর্ড না করতে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হয়নি, তবুও এটি ঘিরে চরম উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে ভক্তদের মধ্যে।

ভক্তদের আবেগ

প্রথমবার দুয়ার মুখ দেখে ভক্তদের আবেগ ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ লিখেছেন, “মেয়েটা একেবারে মায়ের মতো।” কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, “চোখে-মুখে রণবীরের ছাপ।”

ভক্তদের একাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কন্যার ছবি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে সেই সুযোগ মেলাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে।

তারকা দম্পতির জীবনযাপন ও সন্তান প্রতিপালন

দীপিকা এবং রণবীর দুজনেই বর্তমানে কাজের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। সন্তান জন্মের পর থেকেই তাঁরা মেয়েকে সময় দিচ্ছেন। দুয়ার প্রথম জন্মদিনে যে ছোটখাটো আয়োজন করেছেন, সেটাই প্রমাণ করে—সেলিব্রিটি হয়েও তাঁরা পরিবারকে কতটা স্বাভাবিকভাবে বাঁচাতে চান।

রণবীর সিং এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বাবার ভূমিকা তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হলেও প্রতিটি মুহূর্তকে তিনি উপভোগ করছেন। অন্যদিকে দীপিকার মতে, মা হওয়ার পর তাঁর জীবনের অগ্রাধিকার বদলে গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ প্রকাশ্যে ‘চোখের নীলে’: আবির-মিমির রোম্যান্টিক কেমিস্ট্রি মাতাল নেটদুনিয়া

মিডিয়ার সঙ্গে লড়াই

দীপিকা-রণবীরের মতো তারকা দম্পতির জীবনের প্রতিটি দিকেই ক্যামেরার নজর থাকে। সন্তান জন্মের পর থেকে তাঁদের বাড়ির বাইরে মিডিয়ার ভিড় লেগেই ছিল। তবুও দুয়ার ছবি প্রকাশ্যে না আসায় অনুরাগীদের কৌতূহল দিন দিন বেড়েই চলেছিল।

এই প্রেক্ষাপটে ভাইরাল ভিডিও যেন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষায় মিডিয়াকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

আরও পড়ুনঃ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়: পুজোয় ফিরছেন ‘দেবী চৌধুরাণী’ নিয়ে

ভক্তদের আশা

যদিও দুয়ার মুখ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি দীপিকা বা রণবীর, তবুও ভক্তরা আশা করছেন ভবিষ্যতে অন্তত একটি অফিসিয়াল ছবি শেয়ার করবেন তাঁরা। কারণ ভক্তদের কাছে তাঁদের প্রিয় তারকার কন্যা ইতিমধ্যেই এক ক্ষুদে সেলেব।

দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংয়ের কন্যা দুয়া জন্মের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। এক বছরে পা দেওয়া এই খুদেকে নিয়ে যতই গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা হোক, তবুও ভক্তদের আবেগ, মিডিয়ার আগ্রহ আর সোশ্যাল মিডিয়ার উন্মাদনা তাকে আড়ালে রাখতে পারছে না।

প্রথম জন্মদিন ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও কেবল নতুন বিতর্কই নয়, অনুরাগীদের আবেগেরও প্রতিফলন। এখন সকলেরই একটাই আশা—শিগগিরই অফিসিয়ালি দুয়ার ছবি শেয়ার করবেন দীপিকা-রণবীর, আর তখনই তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাস আরও এক ধাপ বাড়বে।

সলমন খানের ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’: ভারত-চিন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন ছবির ফার্স্ট লুক ভাইরাল

২০২০ সালের ভারত-চিন সংঘর্ষ অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে সলমন খানের ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’। কর্নেল সন্তোষবাবুর চরিত্রে ভাইজানকে প্রথমবার উর্দিতে দেখে মুগ্ধ অনুরাগীরা।

২০২০ সালের ভারত-চিন সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হচ্ছে সলমন খানের নতুন ছবি ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’। ছবির শুটিং চলছে পুরোদমে। এর আগে পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া লাদাখে শুটিংয়ের কিছু ঝলক শেয়ার করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই দৃশ্যই ভক্তদের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। লাদাখের শুটিং শেষ হওয়ার পর এবার শুরু হয়েছে ছবির দ্বিতীয় পর্বের শুটিং।

ভাইজানের ফার্স্ট লুক ভাইরাল

মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই শেয়ার করলেন তাঁর ছবির ফার্স্ট লুক। হাতে ক্ল্যাপস্টিক, গায়ে সেনার উর্দি আর দৃঢ় দৃষ্টিতে ভাইজান যেন একেবারে নতুন রূপে হাজির। লুক প্রকাশ্যে আসতেই ঝড় উঠেছে নেটপাড়ায়। ক্যাপশনে শুধু লেখা ছিল— “Battle of Galwan”

ভক্তরা একের পর এক কমেন্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কেউ লিখেছেন, “সুলতান ফিরে এসেছে”, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “ব্লকবাস্টার লোডিং”

লেহতে শুটিং চলছে পুরোদমে

এই মুহূর্তে লেহতে ছবির শুটিং চলছে। স্থানীয় পরিবেশ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই ছবির আবহকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে। ছবিটি নিয়ে দর্শকের মাঝে ইতিমধ্যেই আলাদা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

কর্নেল সন্তোষবাবুর চরিত্রে সলমন

এই ছবিতে সলমনকে দেখা যাবে কর্নেল বি সন্তোষবাবু-র চরিত্রে, যিনি ২০২০ সালের জুন মাসে ভারতীয় সেনাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গালওয়ান সংঘর্ষে। এই চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সলমন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।

শুধু অভিনয়ের জন্য নয়, তিনি ফিটনেসেও এনেছেন বড়সড় পরিবর্তন। খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা এনেছেন, ব্যায়ামে মনোযোগী হয়েছেন এবং মানসিকভাবে চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে মেলাতে চেষ্টা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ আভেরী সিংহ রায় নতুন চমক: ‘SIT বেঙ্গল’-এ সাব ইন্সপেক্টর নীলিমার চরিত্রে

ইদের প্রথা অব্যাহত

প্রতি বছর ইদের সময়ে ভক্তদের নতুন ছবি উপহার দেন সলমন। এ বছরও সেই ধারা অব্যাহত। তবে এবার দর্শকরা তাঁকে দেখবেন একেবারে ভিন্ন অবতারে—একজন বীর সেনা অফিসারের চরিত্রে।

অন্যান্য অভিনেতারা

ছবিতে সলমনের পাশাপাশি অভিনয় করছেন চিত্রাঙ্গদা সিং সহ আরও অনেক জনপ্রিয় তারকা। ফলে ছবিটি শুধু গল্পের জন্য নয়, তারকাখচিত উপস্থিতির জন্যও বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

ভক্তদের প্রতীক্ষা

সলমনের নতুন চরিত্র প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউন্টডাউন শুরু করে দিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, এই ছবিটি ইদের ব্লকবাস্টার হতে চলেছে। ভারত-চিন যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই গল্পে দেশপ্রেম, সাহস ও ত্যাগের এক অনন্য কাহিনি দেখতে পাওয়া যাবে।

টাইমস স্কোয়ার দুর্গাপুজোর মিউজিক ভিডিওয় তারকাদের জমজমাট উপস্থিতি, ঋতুপর্ণা থেকে শ্রীময়ী সকলের নজর কাড়লেন

টাইমস স্কোয়ার দুর্গাপুজোর মিউজিক ভিডিওয় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শ্রীময়ী চট্টরাজ, চৈতি ঘোষাল সহ তারকাদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। বিজলী সিনেমা হলে লঞ্চ ইভেন্টে ঢাকের তালে নাচলেন মদন মিত্র।

উৎসবের আমেজে নতুন মিউজিক ভিডিও

শারদ উৎসবের আগে কলকাতার বুকে যেন শুরু হয়ে গেছে এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস। দুর্গাপুজোকে ঘিরে প্রকাশিত হয়েছে টাইমস স্কোয়ার দুর্গাপুজো মিউজিক ভিডিও, যা ইতিমধ্যেই দর্শকের নজর কেড়েছে। এই ভিডিওতে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একঝাঁক জনপ্রিয় তারকা। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শ্রীময়ী চট্টরাজ ও চৈতি ঘোষালের পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

বিজলী সিনেমা হলে জমকালো লঞ্চ

ভিডিওটির অফিসিয়াল লঞ্চ হয় বিজলী সিনেমা হলে। সেদিন পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। ঢাকের তালে তাল মিলিয়ে নাচলেন উপস্থিত শিল্পীরা। এমনকি এই আনন্দে সামিল হন রাজনীতিক মদন মিত্রও। তাঁর প্রাণবন্ত নাচে অনুষ্ঠানের আবহ হয়ে ওঠে আরও রঙিন।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত: কেন্দ্রবিন্দুতে নায়িকা

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বাংলা চলচ্চিত্রের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর উপস্থিতিই যেন উৎসবকে অন্য মাত্রা দেয়। এই মিউজিক ভিডিওয়ও তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় আকর্ষণ। চিরচেনা সৌন্দর্য ও নাচের ভঙ্গিমায় তিনি মুগ্ধ করেছেন সকলকে।

শ্রীময়ী চট্টরাজের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স

ভিডিওতে নজর কাড়েন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। ছোটপর্দা থেকে বড় পর্দা—সব জায়গাতেই যিনি সমান সফল। এখানে তাঁর প্রাণবন্ত নাচ ও হাসি দর্শকদের মন জয় করেছে।

লঞ্চ ইভেন্টে তিনি আবার খুনসুটি করলেন মদন মিত্রকে নিয়ে। নেতার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মজা করে বলেন—
“আমরা কিন্তু এই ভিডিওতে মদনদাকে খুব মিস করেছি। একবার যদি তাঁর উপস্থিতি পেতাম, তাহলে পরিবেশ আরও জমে যেত। আমি এখন বিবাহিত হলেও ভালোবাসার জায়গায় কোনও কমতি নেই। মদনদাকে যতবার দেখি, মনটা ততবারই রঙিন হয়ে ওঠে।”

এই মন্তব্যে উপস্থিত সকলেই হাততালি দেন। মদন মিত্রও শ্রীময়ীর প্রশংসা শুনে খুশি মনে জানান, ভিডিওটি তাঁর ভীষণ ভালো লেগেছে।

কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ীর chemistry

ভিডিও লঞ্চে আলাদা মাত্রা যোগ করেন কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী। তাঁদের মধ্যে মিষ্টি সম্পর্ক প্রায়ই আলোচনায় আসে। এদিন লঞ্চ ইভেন্টে কাঞ্চনকে দেখা যায় শ্রীময়ীর গালে চুমু খেতে। উপস্থিত ভক্ত ও সাংবাদিকরা সেই দৃশ্যকে মুহূর্তেই ক্যামেরাবন্দি করেন। তাঁদের chemistry অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

চৈতি ঘোষালের সৌন্দর্য

চৈতি ঘোষালও ছিলেন এই মিউজিক ভিডিওর অন্যতম আকর্ষণ। তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত নাচ ও উপস্থিতি দর্শকের কাছে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

ঋতুপর্ণা ও শ্রীময়ীর প্রথম কাজ একসঙ্গে

অনেকদিন ধরেই ভক্তরা জানতে চাইছিলেন—কবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও শ্রীময়ী চট্টরাজকে একসঙ্গে দেখা যাবে? অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান হলো। দুর্গাপুজোর আগে এই ভিডিওতে তাঁদের একসঙ্গে নাচ ভক্তদের মন ভরিয়ে দিয়েছে।

শুধু পেশাগত ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও শ্রীময়ী ও কাঞ্চন মল্লিক নাকি ঋতুপর্ণার পারিবারিক বন্ধু। প্রায়ই দেখা যায় তাঁদের নায়িকার বাড়ির নানা উৎসবে। ফলে এই সহযোগিতা অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল।

শ্রীময়ীর ব্যক্তিগত দিক

শ্রীময়ী চট্টরাজ বাংলা ধারাবাহিক জগতের এক জনপ্রিয় মুখ। তবে বর্তমানে তিনি সিরিয়াল থেকে বিরতি নিয়েছেন। সময় দিচ্ছেন পরিবার ও বিশেষ করে তাঁর মেয়েকে বড় করে তোলার জন্য। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে আসেননি তিনি। বরং দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে তাঁকে নতুন কোনো বড় প্রজেক্টে দেখা যাবে।

ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার ঢেউ উঠেছে। ভক্তরা লিখেছেন—

  • “দুর্দান্ত নাচ ও ভিজ্যুয়াল।”
  • “ঋতুপর্ণা দিদি যেন আজও সমান উজ্জ্বল।”
  • “শ্রীময়ী আর কাঞ্চনের chemistry অসাধারণ।”

দুর্গাপুজোর আগে এই ভিডিও দর্শকদের মনে উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলা চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতে বর্তমানে মিউজিক ভিডিওর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষত দুর্গাপুজোর মতো উৎসবকেন্দ্রিক গান দর্শকের কাছে আলাদা আবেদন রাখে। এই ভিডিওও তার ব্যতিক্রম নয়।

টাইমস স্কোয়ার দুর্গাপুজোর মিউজিক ভিডিও শুধু একটি গানের ভিডিও নয়, বরং টলিউডের তারকাদের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সৌন্দর্য, শ্রীময়ী চট্টরাজের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স, কাঞ্চন মল্লিকের মিষ্টি মুহূর্ত, চৈতি ঘোষালের উপস্থিতি আর মদন মিত্রর নাচ—সব মিলিয়ে ভিডিওটি হয়ে উঠেছে সত্যিকারের উৎসবের প্রতিচ্ছবি।

দর্শকরা যেমন মুগ্ধ হয়েছেন, তেমনি প্রতীক্ষায় রয়েছেন ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও জমকালো মিউজিক ভিডিওর জন্য।

টলিউডের হিট জুটি কোয়েল-জিৎ: সিনেমা থেকে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের অজানা গল্প

কোয়েল মল্লিক ও জিতের টলিউড জুটি দর্শকের প্রিয়। ‘নাটের গুরু’ থেকে শুরু করে ‘শেষ থেকে শুরু’—সব ছবিতেই তাঁদের অন-স্ক্রিন রসায়ন হিট ও ভাইরাল হয়েছে।

টলিউডের রোম্যান্সে যদি সোনালি অধ্যায়ের নাম লিখতে হয়, তবে নিঃসন্দেহে সেখানে থাকবে কোয়েল মল্লিক ও জিৎ-এর নাম। তাঁদের প্রথম ছবি ‘নাটের গুরু’ (২০০৩) থেকেই শুরু হয় এক জাদুকরী যাত্রা। দর্শক তাঁদের রসায়নে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, একের পর এক ছবি হিট হতে থাকে। তবে শুধু অন-স্ক্রিন নয়, অফ-স্ক্রিন সম্পর্কও তাঁদের নিয়ে কৌতূহল তৈরি করেছে দর্শকের মনে।

শুরুটা ‘নাটের গুরু’ দিয়ে

কোয়েল মল্লিক প্রথমবার টলিউডে পা রাখেন ‘নাটের গুরু’ ছবির মাধ্যমে। তাঁর বিপরীতে ছিলেন ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অভিনেতা জিৎ, যিনি ‘সাথী’ সিনেমা দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।
‘নাটের গুরু’-তে কোয়েল-জিতের জুটি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। ছবিটি ব্লকবাস্টার হিট হয় এবং এখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের অনবদ্য অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রির যাত্রা।

একের পর এক হিট সিনেমা

‘নাটের গুরু’-এর পর একাধিক ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন কোয়েল ও জিৎ। ‘মানিক’, ‘শুভদৃষ্টি’, ‘হিরো’, ‘দুই পৃথিবী’, ‘১০০% লাভ’—প্রতিটি ছবিই দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। তাঁদের জুটি হয়ে ওঠে টলিউডের বাণিজ্যিক ছবির সফল সমীকরণ।

দর্শকদের কাছে এই জুটি শুধু সিনেমার চরিত্র নয়, একপ্রকার আবেগে পরিণত হয়। সিনেমা মুক্তি পেলেই দর্শক হলভর্তি করে তাঁদের দেখতে ছুটে আসতেন।

জিতের চোখে কোয়েল

অনেকেই ভেবেছিলেন, বারবার একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে হয়তো কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে। তবে জিৎ এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি পরিষ্কার করেছিলেন। তাঁর কথায়—
“কোয়েল আমার খুব কাছের বন্ধু। শুধু পেশাদার সম্পর্ক নয়, তিনি পরিবারের মতোই। আমাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ঝামেলা তৈরি হয়নি। বরং আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আনন্দ পাই।”

শুটিং সেটে নাকি সর্বক্ষণ ঠাট্টা-আড্ডায় মেতে থাকেন তাঁরা। জিতের মতে, কোয়েলের উপস্থিতি সেটে পরিবেশকে সবসময় প্রাণবন্ত করে তোলে।

ভুল হলে কী করেন জিৎ?

সাক্ষাৎকারে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন—“যদি কখনো কোয়েল কোনো ভুল করেন?”
এর উত্তরে জিৎ হেসে বলেছিলেন—
“কোয়েল খুবই মনোযোগী অভিনেত্রী। ভুল হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে যদি কখনো এমন কিছু হয়, আমি কখনোই প্রকাশ্যে কিছু বলব না। বিষয়টি ব্যক্তিগত আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করব।”

এই উত্তরে স্পষ্ট, কোয়েল ও জিতের সম্পর্ক শুধু সহঅভিনেতা-অভিনেত্রী নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে।

কোয়েলের চোখে জিৎ

অন্যদিকে কোয়েল মল্লিকও একাধিকবার জানিয়েছেন যে জিতের সঙ্গে কাজ করতে তাঁর আলাদা স্বাচ্ছন্দ্য আছে। তাঁর কথায়—
“জিতের সঙ্গে কাজ করা খুব সহজ। তিনি সবসময় সহযোগিতাপূর্ণ। আমার কাছে জিৎ হলেন একপ্রকার জ্ঞানের গুরু। আমরা প্রথম ‘নাটের গুরু’-তে একসঙ্গে কাজ শুরু করি, আর সেখান থেকেই আমি তাঁকে এভাবেই দেখি।”

কোয়েলের মতে, জিৎ শুধু পর্দার নায়ক নন, বাস্তব জীবনেও তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী ও পরিপক্ব মানুষ।

তাঁদের শেষ ছবি: ‘শেষ থেকে শুরু’

জিৎ-কোয়েলের সর্বশেষ ছবি ছিল ‘শেষ থেকে শুরু’ (২০১৯)। ছবিটি বক্স অফিসে সফল হয় এবং তাঁদের জুটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ যে এখনো অটুট, সেটি আবার প্রমাণিত হয়। সিনেমায় তাঁদের অভিনয় ও আবেগঘন কাহিনি দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।

তবে এই ছবির পর থেকে তাঁরা আর একসঙ্গে কোনো সিনেমায় কাজ করেননি। তাই ভক্তরা এখনো প্রতীক্ষায় রয়েছেন—কবে আবার ফিরে আসবে এই জুটি।

অফ-স্ক্রিন সম্পর্কের সমীকরণ

টলিউডের অনেক গ্ল্যামারাস জুটির মতো নয়, কোয়েল-জিতের অফ-স্ক্রিন সম্পর্ক খুব সহজ-সরল। তাঁদের মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া।
শুটিং সেটে দু’জনের মজাদার সম্পর্ক অনেক সময় সহকর্মীরাও লক্ষ্য করেছেন।

কোয়েলের কথায়, “আমাদের বন্ধুত্ব কাজেও প্রতিফলিত হয়। একসঙ্গে থাকলে কাজ করতে কোনো চাপ অনুভব করি না।”

কোয়েলের বর্তমান অবস্থান

বর্তমানে কোয়েল মল্লিক টলিউডে বেছে বেছে কাজ করছেন। মাতৃত্ব ও ব্যক্তিগত জীবন সামলিয়ে তিনি এখন বিশেষ কিছু প্রজেক্টেই সাইন করেন। তাঁর ক্যারিয়ারের দুই দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেছে, তবুও আজও তিনি সমান জনপ্রিয়।

জিতের বর্তমান অবস্থা

অন্যদিকে জিৎও কিছুটা বিরতিতে আছেন। তিনি প্রযোজক হিসেবেও কাজ শুরু করেছেন। মাঝে মধ্যে অভিনয় করলেও এখন তিনি সময় নিচ্ছেন নিজের প্রজেক্ট বাছাই করার ক্ষেত্রে।

দর্শকদের কাছে জিৎ-কোয়েল জুটি এখনো এক অনন্য আবেগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তরা বারবার দাবি করেন, তাঁরা যেন আবারও একসঙ্গে বড়পর্দায় ফেরেন।
‘নাটের গুরু’ থেকে ‘শেষ থেকে শুরু’—প্রতিটি ছবিই তাঁদের জুটিকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে গেছে। তাই টলিউডপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁদের কামব্যাকের জন্য।

কোয়েল মল্লিক ও জিৎ শুধু পর্দায় নয়, দর্শকের হৃদয়েও তৈরি করেছেন অমলিন ছাপ। তাঁদের জুটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল সমীকরণ। অন-স্ক্রিন রোম্যান্স থেকে অফ-স্ক্রিন বন্ধুত্ব—সব জায়গাতেই তাঁদের বোঝাপড়া প্রশংসনীয়।


যদিও বর্তমানে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করছেন না, তবে টলিউড ভক্তরা এখনো প্রত্যাশায় দিন গুনছেন—কবে আবার পর্দায় ফিরবে এই কিংবদন্তি জুটি।

আভেরী সিংহ রায় নতুন চমক: ‘SIT বেঙ্গল’-এ সাব ইন্সপেক্টর নীলিমার চরিত্রে

নাটক থেকে সিনেমা, ওয়েব সিরিজ—সব জায়গাতেই ছাপ ফেলেছেন আভেরী সিংহ রায়। এবার তিনি ফিরছেন ছোটপর্দায় SIT বেঙ্গল-এর মাধ্যমে। সাব ইন্সপেক্টর নীলিমা ও ফুড ভ্লগার অনন্য অন্বেষার ভূমিকায় কেমন অভিজ্ঞতা হলো তাঁর? জানুন বিস্তারিত।

অভিনয়ের শুরু থেকে আজকের যাত্রা

অভিনেত্রী আভেরী সিংহ রায়ের অভিনয়-জীবন শুরু হয়েছিল নাটকের মঞ্চে। সেখানেই তিনি অভিনয়ের প্রেমে পড়েন। মঞ্চ থেকে ছোটপর্দা, তারপর সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ—প্রতিটি ধাপে নিজের প্রতিভার প্রমাণ রেখেছেন আভেরী। তবে তিনি মনে করেন, প্রতিদিন দর্শকের কাছে পৌঁছনোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম এখনো ধারাবাহিক। তাই তিনি আবার ফিরছেন ছোটপর্দায়, একেবারে নতুন রূপে।

‘SIT বেঙ্গল’: ভিন্ন ধারার গল্প

জি বাংলা সোনার-এর নতুন ধারাবাহিক SIT বেঙ্গল বা Special Investigative Team Bengal-এ এক ঝলকেই ধরা দেবে থ্রিলার ঘরানার স্বাদ। এখানে অপরাধ, তদন্ত, টানটান উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন স্বাদের কাহিনি। আর এই সিরিজেই আভেরীকে দেখা যাবে সাব ইন্সপেক্টর নীলিমার ভূমিকায়।

সাব ইন্সপেক্টর নীলিমা: দায়িত্ববান ও আত্মনির্ভর

নীলিমা শুধু পুলিশ অফিসার নন, তিনি একজন ফুড ভ্লগারও। তাঁর চরিত্রটি দর্শকের কাছে একেবারেই নতুন। পুলিশের কাজের পাশাপাশি ফুড ভ্লগিং-এর প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তাঁকে আলাদা করে তোলে।

আভেরীর কথায়—
“প্রথমবার এরকম চরিত্রে কাজ করছি। নানারকম কেস সলভ করতে করতে আমি যেন নতুন এক জগতে ঢুকে যাচ্ছি। তার সঙ্গে ফুড ভ্লগিং-এর দিকটা দর্শকদের কাছে অন্য রকম এক আনন্দ দেবে।”

ফুড ভ্লগার অনন্য অন্বেষা

নীলিমার আরেকটি পরিচয় হলো অনন্য অন্বেষা—একজন জনপ্রিয় ফুড ভ্লগার। তাঁর ট্যাগলাইন—
“আমি খেতে ভালোবাসি, খাওয়াতেও ভালোবাসি।”

তিনি অফিসের ব্যস্ততার মাঝেও সহকর্মীদের জন্য রান্না করে নিয়ে আসেন। অনেক সময় অফিসেই রাত কাটিয়ে দেন। তাঁর চোখে অফিসই যেন আসল বাড়ি। আভেরী জানালেন,
“অফিসে আমি যতটা সময় কাটাই, মনে হয় ওটাই আমার পরিবার। কাজ করতে যেমন ভালোবাসি, তেমনই রান্না করতেও অসীম আনন্দ পাই।”

চরিত্রে নতুনত্বের স্বাদ

এতদিন আভেরীকে নানা সম্পর্কভিত্তিক চরিত্রে দেখা গেছে—দিদি, বৌদি, মা বা কাকিমা হিসেবে। কিন্তু SIT বেঙ্গল-এ তিনি প্রথমবার এমন এক চরিত্রে অভিনয় করছেন, যেখানে তাঁর স্বাধীন পরিচয় ও পেশাগত দৃঢ়তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।

তিনি বলেন—
“এমন চরিত্রে কাজ করার জন্য আমি বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। নিজের পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি চরিত্র অভিনয়ের সুযোগ খুব সহজে আসে না। তাই একে হাতছাড়া করার প্রশ্নই ওঠে না।”

টিআরপি লড়াই নিয়ে আভেরীর মত

বাংলা ধারাবাহিকের দুনিয়ায় প্রতিদিনই নতুন সিরিয়াল শুরু হচ্ছে আবার অনেক সিরিয়াল বন্ধও হয়ে যাচ্ছে। টিআরপি-র চাপ তাই বিশাল। কিন্তু আভেরী এসব নিয়ে বেশি ভাবেন না।

তিনি বলেন—
“আমার প্রতিদিন অভিনয় করা প্রয়োজন। ধারাবাহিকের আয়ু নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। ওঠাপড়া তো জীবনের অঙ্গ। একটা শেষ হলে আরেকটা শুরু হবেই। যেমন ‘তেঁতুলপাতা’ শেষ হয়ে গেল, কিন্তু সেটা কোনোভাবে আমাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।”

দর্শকের জন্য দ্বৈত আনন্দ

‘SIT বেঙ্গল’-এ দর্শকরা একসঙ্গে দুটি রূপে আভেরীকে পাবেন—একদিকে পুলিশ অফিসার নীলিমা, অন্যদিকে ফুড ভ্লগার অনন্য অন্বেষা। এই দ্বৈত পরিচয় কাহিনিকে করবে আরও আকর্ষণীয়। অপরাধ তদন্তের উত্তেজনার সঙ্গে মিশে থাকবে রান্নার মজা।

আভেরীর নিজের জীবনে ফুড ভ্লগিং

বাস্তব জীবনেও খাওয়ার প্রতি আলাদা টান আছে আভেরীর। ছোটবেলা থেকেই তিনি পেটুক বলে পরিচিত। তাই ফুড ভ্লগিং-এর চরিত্রে অভিনয় তাঁর কাছে খুব কাছের মনে হয়েছে।

অভিনেত্রীর মতে—
“আমি যদি সত্যিই ফুড ভ্লগিং শুরু করি, তবে সেটি জমে যাবে। কারণ আমি শুধু খেতে ভালোবাসি না, অন্যকে খাওয়াতেও ভীষণ আনন্দ পাই। আমার ভিডিও দেখে যদি মানুষ নতুন কিছু শিখতে পারেন, তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

দর্শকের প্রত্যাশা

বাংলা দর্শকরা নতুন গল্প, নতুন চরিত্র দেখতে ভালোবাসেন। SIT বেঙ্গল-এ আভেরীর দ্বৈত চরিত্র দর্শকদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর পর্দার ক্যারিশমা, দৃঢ় চরিত্রাভিনয় ও রান্নাবান্নার মিশ্রণ নিঃসন্দেহে টিআরপি-তে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আভেরী সিংহ রায় আবারও প্রমাণ করতে চলেছেন যে তিনি শুধু সম্পর্কভিত্তিক চরিত্রেই নন, স্বাধীন পরিচয়-সমৃদ্ধ চরিত্রেও সমান দক্ষ। SIT বেঙ্গল-এ সাব ইন্সপেক্টর নীলিমা ও ফুড ভ্লগার অনন্য অন্বেষা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ছোটপর্দায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। দর্শকরা অপেক্ষায় রয়েছেন—এই চরিত্র তাঁকে কোথায় নিয়ে যায়।

ফের আইনি জটিলতায় দক্ষিণী সুপারস্টার অল্লু অর্জুন, বেআইনি বহুতল নির্মাণের অভিযোগ

হায়দরাবাদের জুবিলি হিল্‌সে অবস্থিত সুপারস্টার অল্লু অর্জুনের মালিকানাধীন বহুতল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (GHMC) দাবি করছে, অনুমোদিত সীমা ছাড়িয়ে বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছে ভবনের একটি অংশ। সেই কারণেই অল্লুকে দেওয়া হয়েছে শো-কজ নোটিস

GHMC-এর অভিযোগ কী?

অল্লু বিজনেস পার্ক’ নামে পরিচিত এই বহুতলেই বর্তমানে বসবাস করেন অল্লু অর্জুন ও তাঁর পরিবার। GHMC-এর অভিযোগ, প্রকৃত অনুমোদন অনুযায়ী এই জমিতে জি+৪ (পাঁচতলা) কাঠামো তৈরির অনুমতি ছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, অনুমোদিত সীমা ভেঙে উপরে আরও একটি তলা যোগ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, এই অতিরিক্ত তলা সম্পূর্ণ বেআইনি নির্মাণ

শো-কজ নোটিস জারি

ঘটনার পর GHMC অল্লু অর্জুনের নামে সরাসরি শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে। কেন অনুমোদন না নিয়েই বাড়তি তলা বানানো হলো, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, যথাযথ উত্তর না এলে ভবনের বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলা হবে

বহুতলটির পটভূমি

প্রায় দু’বছর আগে তৈরি হয়েছিল এই বহুতল। শুধু আবাসন নয়, অল্লুর পারিবারিক ব্যবসার অফিসগুলিও রয়েছে এখানে। দক্ষিণী তারকার পরিবারের জন্য এই ভবনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবুও অনুমোদিত নকশা না মেনে নির্মাণ করায় বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন অল্লু অর্জুন।

অল্লুর প্রতিক্রিয়া কী?

এখনও পর্যন্ত অল্লু অর্জুন বা তাঁর টিমের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। সূত্রের খবর, পুরো বিষয়টি তাঁদের আইনজীবী দল খতিয়ে দেখছে।

অতীতেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অল্লু

এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘পুষ্পা ২’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে পদপিষ্ট হয়ে এক দর্শকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময়ও আইনি ঝামেলায় পড়েছিলেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা

বেআইনি নির্মাণ প্রমাণিত হলে GHMC কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। সেক্ষেত্রে বহুতলের বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলার ঝুঁকি রয়েছে। এতে শুধু অল্লু অর্জুন নয়, তাঁর পরিবার ও ব্যবসাও সমস্যায় পড়তে পারে।

দক্ষিণী সুপারস্টার অল্লু অর্জুনের বিরুদ্ধে নতুন করে ওঠা এই বেআইনি বহুতল নির্মাণের অভিযোগ ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলেছে ভক্ত ও ইন্ডাস্ট্রিতে। এখন নজর রয়েছে—GHMC-এর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অল্লুর আনুষ্ঠানিক জবাবের দিকে।

গায়িকা মোনালি ঠাকুরের দাম্পত্য ভাঙনের গুঞ্জন: ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

জনপ্রিয় গায়িকা মোনালি ঠাকুর ও তাঁর স্বামী মাইক-এর দাম্পত্যে নাকি ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে আনফলো করা, পুরনো ছবি মুছে ফেলা এবং ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে ভক্তদের মধ্যে।

মোনালি ঠাকুর ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। বলিউডের পাশাপাশি বাংলা সিনেমার গানেও তাঁর সমান দক্ষতা রয়েছে। তাঁর গাওয়া গানগুলো কোটি ভিউ পেয়েছে, এবং অগণিত ভক্তের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি শুধু গানের জন্য নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিচ্ছেদের জল্পনা: সূত্রপাত কোথায়?

গত কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, মোনালি ঠাকুরের বিয়ে ভাঙছে। খবর বেরোয়, তিনি এবং তাঁর স্বামী মাইক নাকি ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আর অনুসরণ করেন না। শুধু তাই নয়, মাইক তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ‘প্রাইভেট’ করে দিয়েছেন। এর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের বিচ্ছেদের জল্পনা জোরালো হতে শুরু করে।

ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে নতুন বিতর্ক

এই জল্পনার আগুনে ঘি ঢাললেন মোনালি নিজেই। সম্প্রতি তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়—তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কখনও তাঁকে কিল-চড় মারা হচ্ছে, আবার কখনও তিনি কষ্টের মাঝেও হাসছেন। হাসির আড়ালে যে বেদনা লুকিয়ে আছে, তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

আসলে এটি তাঁর নিজের গান ‘এক বার ফির’ থেকে নেওয়া একটি দৃশ্য। গায়িকার দাবি, এই গানটি তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগময়। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন—“এটাই কারণ।” তবে তিনি কোন কারণের দিকে ইঙ্গিত করছেন, সেটা স্পষ্ট করেননি। ফলে তাঁর ভক্তদের কৌতূহল আরও বেড়েছে।

মোনালি ও মাইকের বিয়ের গল্প

২০১৭ সালে অত্যন্ত সাধারণভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মোনালি ঠাকুর ও তাঁর বিদেশি স্বামী মাইক। তাঁদের প্রেম ও বিবাহের কাহিনি ভক্তদের কাছে অনুপ্রেরণামূলক ছিল। দাম্পত্য জীবনের প্রথম দিকে তাঁরা প্রায়ই একসঙ্গে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতেন। বিদেশে একসঙ্গে সময় কাটানোর ঝলক দেখা যেত তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ায়।

কিন্তু বর্তমানে সেই সুখের মুহূর্তগুলোর কোনও অস্তিত্ব নেই। একে একে সমস্ত পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে দিয়েছেন মোনালি।

সম্পর্কে ভাঙনের সম্ভাব্য কারণ

তাঁদের বিচ্ছেদের আসল কারণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। অনেকেই মনে করছেন, ভৌগোলিক দূরত্ব এর জন্য সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল। মোনালি ভারতে থাকলেও মাইক থাকেন বিদেশে। দূরত্বের কারণে যোগাযোগে ফাঁক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, গায়িকার সাম্প্রতিক পোস্টে নির্যাতনের প্রতীকী ছবি দেখে কেউ কেউ ধারণা করছেন, হয়তো সম্পর্কের ভিতরে গভীর সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে মোনালি বা মাইক কারোরই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সমালোচনা ও কটাক্ষের মুখে মোনালি

বিয়ের সময় থেকেই মোনালি ঠাকুর কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন। অনেকেই তাঁকে ‘গোল্ড ডিগার’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল, অর্থের জন্যই তিনি বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করেছেন।

কিন্তু মোনালি সে সময় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁর রোজগার স্বামীর থেকেও বেশি। তিনি আরও বলেছিলেন, মাইক কৃষিকাজ ও পশুপালন করতে ভালোবাসেন—যা তাঁর কাছে অনেক সম্মানের বিষয়।

ভক্তদের প্রতিক্রিয়া

গায়িকার সাম্প্রতিক পোস্ট এবং ইনস্টাগ্রামে পরিবর্তন দেখে ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই কমেন্ট করে তাঁকে সাহস যোগাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ স্পষ্ট জবাব চাইছেন। ভক্তরা জানতে চাইছেন—আসলে কী ঘটছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে।

মোনালি ঠাকুরের ক্যারিয়ার: আলো ঝলমলে দিক

দাম্পত্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মোনালি ঠাকুরের গানের জগতে জনপ্রিয়তা আজও অটুট। তাঁর কণ্ঠে ‘মোহ মায়া’, ‘সাওয়ার লুঁ’, ‘মোহে রঙ দো লাল’-এর মতো অসংখ্য হিট গান রয়েছে। তিনি জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

তবে ভক্তরা মনে করেন, ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় যত বড়ই হোক, তাঁর গানের প্রতি ভালোবাসা ও প্রতিভা কোনওদিন ম্লান হবে না।

দাম্পত্যে ভাঙন: বলিউডে সাধারণ ঘটনা?

বলিউডে সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রায়ই জল্পনা তৈরি হয়। বিয়ে, বিচ্ছেদ, সম্পর্ক ভাঙন—এসব ঘটনা নতুন নয়। মোনালি ও মাইকের ক্ষেত্রে ভক্তরা আশা করছেন, গুজবের থেকেও বাস্তবটা ভিন্ন হবে। তবে সময়ই বলে দেবে, তাঁদের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে।

মোনালি ঠাকুর ও তাঁর স্বামী মাইক-এর দাম্পত্য নিয়ে জল্পনা এখনো চলছেই। ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আনফলো করা, পুরনো ছবি মুছে ফেলা এবং ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ভক্তদের মধ্যে সন্দেহ বাড়িয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেননি।

ভক্তদের প্রত্যাশা, গায়িকা শীঘ্রই সত্যিটা সামনে আনবেন। তবে যা-ই হোক না কেন, মোনালি ঠাকুরের গান ও প্রতিভা যে চিরকাল অম্লান থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ের বাড়িতে বিপদ, ভরদুপুরে কী ঘটল জানুন

টলিউড তারকা দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ের বাড়িতে হঠাৎ উপস্থিত রহস্যময় ব্যক্তি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অভিনেত্রী। বিস্তারিত জেনে নিন।

অপ্রত্যাশিত বিপদে দেবচন্দ্রিমা

দুপুরবেলা যখন বাড়িতে শান্তভাবে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন টলিউড অভিনেত্রী দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায় (Debchandrima Singha Roy), তখনই ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কিছুদিন আগেই তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো—সরাসরি তাঁর ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়ে হাজির এক অচেনা ব্যক্তি।


সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মুখ থেকে সমস্যার সূত্রপাত

শুধু অভিনয় নয়, দেবচন্দ্রিমা ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত সক্রিয়। ব্র্যান্ড প্রোমোশনের কাজ তিনি প্রায়ই নিজের বাড়িতেই করেন। ফলে ডেলিভারি বয় এবং কর্মীদের যাতায়াত তাঁর বাড়িতে নিত্যদিনের ঘটনা। সেই সুযোগকেই ব্যবহার করে ঘটল এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।


দরজা খোলার পর কী ঘটল?

অভিনেত্রীর বয়ানে—
“সেদিন রক্ষী ফোন করে জানায়, কেউ আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। আমি ভেবেছিলাম কোনও ডেলিভারি বয় কিছু দিতে এসেছে। তাই দরজা খুলতেই চমকে উঠি। সামনে দাঁড়ানো ভদ্রলোক একেবারেই ডেলিভারির জন্য আসেননি।”

দেবচন্দ্রিমার দাবি, লোকটির বয়স চল্লিশের কোঠায়। তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আমাকে চিনতে পারছো না? আমরা নাকি ছ’মাস ধরে সম্পর্কে রয়েছি।” আচমকা এই দাবি শুনে একেবারে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী।


ভুয়ো প্রোফাইলের ছায়া

দেবচন্দ্রিমা আগেও জানিয়েছেন, তাঁর নামে একাধিক ফেক আইডি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেসব প্রোফাইল থেকে অনেক সময় ভক্তদের বিভ্রান্ত করা হয়। ফলে এবার তিনি ভাবছেন—এই রহস্যময় ব্যক্তি কি সেইসব ভুয়ো প্রোফাইলের শিকার? নাকি ইচ্ছে করেই কেউ তাঁকে বিপদে ফেলতে চাইছে?


আইনি পথে পদক্ষেপ

ঘটনার পর আর সময় নষ্ট করেননি দেবচন্দ্রিমা। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।


সেলিব্রিটি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা যেমন ভক্তদের কাছে কাছাকাছি নিয়ে আসে, তেমনই কিছু সময় তা হয়ে ওঠে বিপদের কারণ।


টলিউডের জনপ্রিয় মুখ দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ের বাড়িতে ঘটে যাওয়া এই অনভিপ্রেত ঘটনা ভুয়ো প্রোফাইলের সমস্যা এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সাহসের সঙ্গে অভিনেত্রী পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন এবং আইনি পথে পদক্ষেপ নিয়ে প্রমাণ করেছেন—ভয়ের কাছে হার মানা তাঁর স্বভাব নয়।

দুর্গাপুজোয় শহরে ফেরেন গায়ক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, নতুন গান নিয়ে ফিরছেন আলোচনায়

দুর্গাপুজোয় নিজের শহরে ফিরে পরিবার ও স্মৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে চান গায়ক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়; নতুন আগমনী গান নিয়ে উৎসবকে আরও অর্থবহ করতে ব্যস্ত তিনি।

বরাহনগরের ছেলে এবং জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Jeet Gannguli), বর্তমানে মায়ানগরী মুম্বইয়ে বসবাস করলেও, দুর্গাপুজোর সময় বারবার তাঁর জন্মশহর কলকাতা তাঁকে টেনে আনে। বছরের বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে বা অন্য শহরে অনুষ্ঠান থাকলেও, পুজোর চারটি দিন তিনি চেষ্টা করেন কলকাতায় ফিরতে। যদিও অনেক সময় বিদেশে শো থাকায় তাঁর শহরে আসা সম্ভব হয় না, তবুও মা ছেলের অপেক্ষায় দিন গোনেন।

জিৎ জানান, “আমাদের আলমবাজারের বাড়ি থেকে পুজোর সময় হাঁটতে হাঁটতে দক্ষিণেশ্বর, উত্তরপাড়া, হিন্দমোটরের প্যান্ডেল দেখতে যেতাম। বালি ব্রিজে কতবার যে হেঁটেছি!” সেই স্মৃতিই এখন তাঁর হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে অনেক সময় সরাসরি শো করতে চলে যাই। মাঝে মাঝে মনে হয় যদি বালি ব্রিজে নেমে একটু দাঁড়াতে পারতাম!”

স্ত্রী চন্দ্রাণী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বহুদিন মুম্বইয়ে সংসার পেতেছেন জিৎ। পুজোর সময় অত বেশি প্রেমপ্রকাশ না করলেও স্ত্রীকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছেন তিনি। এমনকি এক পুজোয় স্ত্রীকে উপহার দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “বিয়ের সময় আমি মুম্বইয়ে নিজের জমি খুঁজছিলাম। পকেটে মাত্র আট টাকা। তখন কোনও উপহার দিতে পারিনি। এখন ভাবি, যা হয় সব ভালোর জন্যই হয়।” সেই সময় চন্দ্রাণী একটি বিশেষ উপহার চেয়েছিলেন, যা পরে তিনি পূরণ করেন।

জিৎ স্মৃতিচারণা করেন, “মুম্বইয়ে রগড়া প্যাটি নামে একটা খাবার কিনে দু’জনে ভাগ করে খেতাম। এক পুজোয় চন্দ্রাণী আমাকে বলেছিল বাংলা সিনেমার গান উপহার হিসেবে চায়। পরে আমি তার সে ইচ্ছা পূরণ করেছি। পুজোর প্যান্ডেলে আমার গান বাজছে—এটাই মা-বাবা আর চন্দ্রাণীর কাছে বড় প্রাপ্তি।” বর্তমানে তাঁর রোজগার বেড়েছে, এবং তিনি প্রতি বছর স্ত্রীকে একটি বিশেষ শাড়ি উপহার দেন।

এই বছরের দুর্গাপুজোয়ও নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন জিৎ। তাঁর পাঁচটি নতুন গান মুক্তি পাবে, যার মধ্যে দুটি গান লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি সুরুচি সংঘের পুজোর গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে একটি নতুন আগমনী গান, যার সুর করেছেন জিৎ নিজে এবং লেখা ও গাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন স্ত্রী চন্দ্রাণী।

দুর্গাপুজো, বাংলা গান, আগমনী গান এবং জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নতুন কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর শহরে ফেরা, পরিবারকে নিয়ে পুজোর আনন্দ এবং নতুন গান দর্শকদের মধ্যে উৎসবের আবহ আরও উজ্জ্বল করবে।

নতুন ধারার গল্প নিয়ে ফিরছেন পরিচালক রাজীব বিশ্বাস, রণিতা দাসের সঙ্গে ছোটপর্দায় নতুন জুটি

পরিচালক রাজীব বিশ্বাসের নতুন ধারাবাহিক ‘ও মোর দরদিয়া’-তে রণিতা দাসের কামব্যাক, যেখানে এক নারীর লড়াইয়ের গল্পে নতুন ধাঁচে ছোটপর্দায় ফের আলোড়ন তুলছেন তাঁরা।

নতুন মুখ, নতুন গল্প, নতুন ধরণ—এবার আবার ছোটপর্দায় ফিরছেন পরিচালক রাজীব বিশ্বাস (Rajiv Kumar Biswas)। তাঁর আসন্ন ধারাবাহিক ‘ও মোর দরদিয়া’ দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিকে কামব্যাক করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রণিতা দাস (Ranieeta Dash)। রণিতা আশাবাদী যে এই ধারাবাহিক তাঁকে আবার দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যাবে।

রাজীব বিশ্বাস জানিয়েছেন, ছোটপর্দা তিনি কখনোই ছাড়েননি। তাঁর কথায়, “আমি কখনও ছোটপর্দা ছেড়ে যাইনি। এই মাধ্যমে কাজ করতে আমি বরাবরই ভালোবাসি।”

ধারাবাহিকের শুটিং শুরু হয়েছে বোড়াল হাই স্কুলের কাছের একটি মন্দিরে। সেখানে রণিতার সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বচ্ছন্দ। তবে কি নতুন করে তৈরি হচ্ছে পরিচালক-নায়িকার জনপ্রিয় জুটি? রাজীব জানান, “আমার ধারাবাহিকে মূলত দু’জন নায়িকা—রণিতা আর সোমাশ্রী। কিন্তু গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম একজন নায়িকা দরকার। সেটা রণিতার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি, সে নিজেও অনেক দিন পর আবার ধারাবাহিকে ফিরে আসতে চেয়েছিল। এক নারীর লড়াইয়ের গল্প আগেও সে দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়েছে। এসব বিবেচনা করেই তাকে বেছে নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, এই ধারাবাহিকে গল্প বলার ধরন বদলে দিয়েছেন তিনি। “সাধারণত সবাই প্রেম দিয়ে শুরু করে। তারপর বিয়ে, সন্তান, পারিবারিক টানাপোড়েন, বিচ্ছেদ—এই ধারাতেই গল্প এগোয়। কিন্তু আমি শুরু করছি নায়িকার মা হওয়ার গল্প দিয়ে। এটা সাধারণত বড়পর্দায় দেখা যায়, ছোটপর্দায় নয়,” বলেন তিনি।

রাজীব বিশ্বাসের পরিচালনায় এক সময়ের ব্লকবাস্টার সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘পাগলু’, ‘অমানুষ’, ‘বিক্রম সিংহ’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবি। বহুদিন ধরে বড়পর্দা থেকে দূরে থাকলেও তিনি সেই অভাব ছোটপর্দায় পূরণ করছেন। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বড় বাজেটের দুটি ছবি—‘অপারেশন জ্যাকপট’ ও ‘চিতা’র কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলো শেষ করে তবেই নতুন ছবিতে হাত দেব। এর আগে ছোটপর্দার কাজ ছাড়িনি। দীর্ঘদিন ধরে সুরিন্দর ফিল্মসের ধারাবাহিক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি।”

বর্তমানে ধারাবাহিকের অনিশ্চিত পরিবেশ নিয়েও তাঁর মাথাব্যথা নেই। “এক পুরুষ যখন নারীর হাত ছেড়ে দেয়, তখন অন্য পুরুষ কি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়? এত স্পর্শকাতর বিষয় আগে ধারাবাহিকে দেখানো হয়েছে? আমার মনে হয়, এই ধরনের গল্প থেকে দর্শক মুখ ফেরাতে পারবেন না,” মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে বড়পর্দার তারকারা ধারাবাহিকে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করছেন। শ্রাবন্তীকে নিয়ে সে রকম পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে রাজীব বলেন, “শ্রাবন্তী এখন বড়পর্দায় চুটিয়ে অভিনয় করছে। সে এখনই ছোটপর্দায় আসবে না। শুধু ধারাবাহিকের জৌলুস বাড়াতে তাকে অতিথি চরিত্রে আনব না। বরং সুযোগ পেলে বড়পর্দার জন্য ছবি বানিয়ে তাকে পরিচালনা করব।”

রাজীব বিশ্বাসের এই নতুন ধারার গল্প এবং রণিতা দাসের কামব্যাক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তাঁর অনন্য গল্প বলার ধরণ এবং নতুন বিষয় তুলে ধরার সাহস ছোটপর্দায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।