নেপালের অস্থির পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বিগ্ন অভিনেত্রী প্রাজক্তা কোলি, বাতিল করলেন সফর

অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার প্রাজক্তা কোলি নেপালের উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে স্বামীর জন্মদিনে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করলেন। অশান্ত পরিবেশে উদ্বেগে নেপালের ভূমিকন্যা মনীষা কৈরালাও সরব হয়েছেন।

বলিউডের জনপ্রিয় মুখ, ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সার ও অভিনেত্রী প্রাজক্তা কোলি গত বছর বিয়ে করেন নেপালের ব্যবসায়ী যুবক বৃষাঙ্ক খনালকে। তাঁদের প্রেমের গল্প এবং বিয়ের অনুষ্ঠান ব্যাপকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। বৃষাঙ্কের পরিবারের শিকড় নেপালে থাকায় প্রাজক্তা প্রায়ই সেখানে সফর করেন। চলতি সপ্তাহেও তাঁর পরিকল্পনা ছিল নেপাল সফরের—বিশেষত স্বামীর জন্মদিন উদ্‌যাপন করার জন্য। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে নেপালে শুরু হয়েছে ভয়াবহ অস্থিরতা, রক্তক্ষয়ী ছাত্র-যুব আন্দোলন এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। সেই কারণেই প্রাজক্তা নিজের সফর স্থগিত করেছেন।

প্রাজক্তার উদ্বেগ ও সিদ্ধান্ত

অভিনেত্রী প্রাজক্তা কোলি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে আনন্দ-উদ্‌যাপন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। নেপালের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব ও প্রশাসনিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লেখেন:
“নেপালে যা ঘটছে, তা দেখে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। অসংখ্য পরিবার এই ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি। আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নেপালে যেতে চাই, তাঁদের কথা শুনতে চাই এবং তাঁদের পাশে থাকতে চাই। যদিও পরিস্থিতি আপাতত ভয়াবহ, তবে শান্ত হলে আমি অবশ্যই যাব।”

প্রাজক্তার এই বক্তব্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে, তিনি শুধু একজন বিনোদন জগতের মানুষ নন, বরং সমাজসচেতন একজন নাগরিকও। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ভক্তদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

মনীষা কৈরালার প্রতিক্রিয়া

নেপালের মেয়ে ও বলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী মনীষা কৈরালাও বর্তমান পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে,
“এটা নেপালের ইতিহাসের এক কালো দিন। দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে যখন সাধারণ মানুষ কণ্ঠ তুলেছেন, তখন তাঁদের দমন করতে গুলি চালানো হচ্ছে। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

মনীষার এই প্রতিক্রিয়া শুধু নেপাল নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর মতো একজন আন্তর্জাতিক তারকার বক্তব্য নেপালের অশান্ত পরিস্থিতিকে আরও বেশি গুরুত্বের আলোয় নিয়ে এসেছে।

নেপালের পরিস্থিতি: ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে সেনার দখল

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নেপালে ছাত্র-যুব আন্দোলন জোরদার আকার নিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাবের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছেন।
  • হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান নিয়ে তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন।
  • পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে, রাস্তায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবারের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নেপালের সংসদ ভবন ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়, এমনকি আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টের কিছু অংশেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলির ফলে গোটা দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

সেনার দখলে নেপাল

অবশেষে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। সেনা রাস্তায় নেমে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে, জনজীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ অচলাবস্থা।

তবে সেনার কঠোর পদক্ষেপেও আন্দোলন দমন হয়নি। বরং মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তাঁদের দাবি, নেপালের রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অবিচারের অবসান ঘটাতে হবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বলিউড তারকাদের উদ্বেগ

নেপালের পরিস্থিতি শুধু দেশীয় রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তা আলোড়ন তুলেছে। ভারত, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলিও এই অশান্তির দিকে নজর রাখছে।

বলিউড তারকাদের মধ্যেও এই ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। প্রাজক্তা কোলি ও মনীষা কৈরালার মতো অভিনেত্রীরা খোলাখুলি নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন। তাঁদের এই প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও নেপালের আন্দোলনকে দৃশ্যমান করেছে।

প্রাজক্তা কোলি: শুধু অভিনেত্রী নন, এক দায়িত্বশীল কণ্ঠ

প্রাজক্তা কোলি একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার, যিনি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর কনটেন্টে যেমন বিনোদন আছে, তেমনই আছে সামাজিক বার্তা। নেপালের এই অস্থিরতার সময় তাঁর অবস্থান প্রমাণ করে, তিনি কেবল বলিউড বা ডিজিটাল দুনিয়ার একজন তারকা নন, বরং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলও।

ভক্তরা মনে করছেন, তাঁর মতো তারকারা যখন সামাজিক বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়ে।

আরও পড়ুনঃ নেপালে অশান্তি: ‘ব্ল্যাক ডে’ বললেন মনীষা কৈরালা

আন্দোলনের প্রভাব: নেপালের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে

নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। গত কয়েক দশকে দেশটি একাধিকবার সরকার পরিবর্তন ও গণআন্দোলনের সাক্ষী হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি যে ভয়াবহ আকার নিয়েছে, তা নেপালের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে, পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।

নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি কেবল দেশটির রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিনেত্রী প্রাজক্তা কোলি তাঁর সফর বাতিল করে যে বার্তা দিয়েছেন, তা সমাজের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে। অন্যদিকে মনীষা কৈরালার বক্তব্য প্রমাণ করে, নেপালের পরিস্থিতি কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ভয়াবহ।

বর্তমান অবস্থায় প্রশ্ন একটাই—কবে শান্তি ফিরবে নেপালে? আর সাধারণ মানুষ কবে তাঁদের অধিকার ফিরে পাবেন? সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে বলিউডের তারকারা যে তাঁদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন, তা নিঃসন্দেহে আন্দোলনকে আরও জোরদার করেছে।

বিলাসবহুল প্রাসাদ ছেড়ে বস্তিতে দিব্যা খোসলা!! নতুন ছবির প্রস্তুতিতে কি চমক আসছে ? বিস্তারিত জানুন…

দিব্যা খোসলা
টি-সিরিজ কর্ণধার ভূষণ কুমারের স্ত্রী দিব্যা খোসলা নতুন ছবি চতুর নার-এর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০ দিন কাটালেন মুম্বইয়ের বস্তিতে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় নিজেকে ঢেলে দিলেন অভিনেত্রী-পরিচালক।

বলিউডের অন্যতম সফল প্রযোজনা সংস্থা টি-সিরিজ–এর কর্ণধার ভূষণ কুমারের নাম সবারই জানা। আর তাঁর স্ত্রী দিব্যা খোসলা কুমার, যিনি একসময় ব্যর্থ অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও, পরে প্রযোজক ও পরিচালক হয়ে বলিউডে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি গ্ল্যামার, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং চমকপ্রদ স্টাইলের জন্যও নিয়মিত খবরে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি দিব্যা যেভাবে আলোচনায় এসেছেন, তা একেবারেই ভিন্ন কারণে—তিনি বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে মুম্বইয়ের এক বস্তিতে গিয়ে ২০ দিন ধরে থেকেছেন।

অভিনয় থেকে প্রযোজনায়: দিব্যা খোসলার যাত্রা

দিব্যা খোসলা কুমারের বলিউড যাত্রা শুরু হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। তবে বড় সাফল্য পাননি। বিয়ের পর জীবনের মোড় ঘোরে। তিনি মুম্বইয়ের এক নামী প্রতিষ্ঠান থেকে সিনেম্যাটোগ্রাফি শেখেন এবং টি-সিরিজ ব্যানারে একের পর এক মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করতে শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২০টিরও বেশি জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন।

তবে যতই ক্যারিয়ার জমে উঠুক, আলোচনায় দিব্যা বরাবরই থেকেছেন তাঁর গ্ল্যামারাস লুক, বিলাসবহুল জীবনধারা এবং ভূষণ কুমারের স্ত্রী হিসেবে পরিচয়ের জন্য

বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বস্তিতে পা

মুম্বইয়ের বস্তি মানেই ঘিঞ্জি পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর নালা, গন্ধ আর কষ্টের জীবন। সেই জায়গাতেই ২০ দিন ধরে থেকেছেন দিব্যা খোসলা। বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়ি ছেড়ে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের মতো দিন কাটিয়েছেন। তাঁদের ঘরে গেছেন, চা খেয়েছেন, সাধারণ খাবার খেয়েছেন।

তিনি স্বীকার করেছেন, বস্তির সেই জীবনযাপন এতটাই আলাদা যে তাঁর মাথায় উকুনও বাসা বেঁধেছিল। তবু চরিত্রের প্রতি দায়িত্ববোধ তাঁকে এই কষ্ট সহ্য করতে সাহায্য করেছে।

সংসারে অশান্তি নয়, চরিত্রের প্রস্তুতি

প্রথমদিকে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সংসারে অশান্তির কারণে দিব্যা বাড়ি ছেড়েছেন। কিন্তু আসল কারণ ছিল তাঁর আসন্ন ছবি চতুর নার। ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে এক বস্তির মেয়ের চরিত্রে। আর সেই চরিত্রকে বাস্তবিকভাবে ফুটিয়ে তুলতেই তিনি সত্যিকারের বস্তিতে গিয়ে দিন কাটিয়েছেন।

দিব্যার অভিজ্ঞতা

এক সাক্ষাৎকারে দিব্যা খোলাখুলি বলেন,
“আমি টানা ২০ দিন বস্তিতে থেকেছি, একটা নালার পাশে ঘুমাতাম। প্রথমদিকে প্রচণ্ড বাজে গন্ধ নাকে লাগত, পরে অভ্যস্ত হয়ে যাই। সেখানকার মহিলারা একে অপরের মাথার উকুন বেছে দিতেন, আমার মাথাতেও উকুন হয়েছিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি চাই দর্শকরা যেন আমার অভিনয় দেখে সত্যি মনে করেন আমি ওই বস্তির বাসিন্দা। চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে এই অভিজ্ঞতা জরুরি ছিল।”

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া

দিব্যার এই সাহসী পদক্ষেপে ভক্তরা মুগ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে অনেকেই প্রশংসা করছেন। কারও মতে, এটাই একজন সত্যিকারের অভিনেত্রীর পরিচয়। আবার অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রমাণ করেছেন বলিউডে শুধু বিলাসিতা নয়, পরিশ্রম আর প্রতিশ্রুতিই সাফল্যের আসল মাপকাঠি

আরও পরুনঃ নতুন ধারার গল্প নিয়ে ফিরছেন পরিচালক রাজীব বিশ্বাস, রণিতা দাসের সঙ্গে ছোটপর্দায় নতুন জুটি

চতুর নার: কী গল্প লুকিয়ে?

দিব্যা খোসলা অভিনীত চতুর নার এখনও মুক্তি পায়নি। তবে জানা গেছে ছবিতে তিনি বস্তির এক সাধারণ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই করেন। ছবির পরিচালকও বলেছেন, দিব্যার এই অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়ে গভীরতা আনবে।

বলিউডে বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব

বলিউডে অনেক অভিনেতাই চরিত্রের জন্য শারীরিক পরিবর্তন আনেন। কেউ ওজন বাড়ান, কেউ কমান, কেউ বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। তবে দিব্যা খোসলা কুমার যেভাবে বস্তিতে গিয়ে দিন কাটালেন, তা নিঃসন্দেহে বিরল উদাহরণ। তাঁর এই সাহসী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের অভিনেতাদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

দিব্যা খোসলা কুমার শুধু একজন তারকা স্ত্রী নন, তিনি একজন পরিশ্রমী শিল্পী। নতুন ছবি চতুর নার-এর জন্য তাঁর বস্তির অভিজ্ঞতা বলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার বিষয়, পর্দায় তিনি কতটা সফলভাবে এই চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে পারেন।

উর্ফী জাভেদকে ঘিরে নতুন বিতর্ক: অশালীন ছবি ফাঁসের হুমকি?

Urfi Javed
উর্ফী জাভেদ অভিযোগ করেছেন, এক ব্যক্তি তাঁর ছবি বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁসের হুমকি দিয়েছে। সাহসী উর্ফী জানালেন, এ বিষয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত নাম উর্ফী জাভেদ প্রায় প্রতিদিনই খবরের শিরোনামে থাকেন। কখনও তাঁর অদ্ভুত ফ্যাশন সেন্স, কখনও সাহসী মন্তব্য তাঁকে ভাইরাল করে তোলে। তবে এবার অন্য কারণে আলোচনায় আসলেন অভিনেত্রী। অভিযোগ, এক ব্যক্তি তাঁর কিছু ছবি বিকৃত করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তাঁকে হুমকি দিচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে উর্ফী নিজেই এই ঘটনার কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, “একজন ব্যক্তি আমাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করছে। হুমকি দিচ্ছে, আমার ছবি এডিট করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, এর মধ্যেই কিছু বিকৃত ছবি সে প্রকাশ করেছে।” এই পোস্টের সঙ্গে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের ছবিও শেয়ার করেছেন।

ঘটনায় ক্ষুব্ধ উর্ফী জানান, প্রযুক্তিকে এভাবে অপব্যবহার করা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তাঁর ভাষায়, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, মানুষজন প্রযুক্তির নামে কীসব করছে! তবে আমি চুপ থাকব না। খুব তাড়াতাড়ি এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করব।” শুধু তাই নয়, তিনি অন্য মহিলাদেরও সাহস জুগিয়ে বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে ভয় পাবেন না। সোজা আইনের সাহায্য নিন। সমস্যা আপনার মধ্যে নয়, সমস্যা এই অসুস্থ মানসিকতার মানুষগুলোর মধ্যে।”

উর্ফী জাভেদ শুধু অভিনয় বা ফ্যাশন নিয়েই নয়, বরং স্পষ্টভাষী মনোভাবের জন্যও চর্চিত। তিনি সবসময়ই হেনস্থা বা অবমাননার বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তাঁর বিশ্বাস, চুপ করে থাকলে অপরাধীরা আরও বেশি সাহস পায়। তাই প্রত্যেক নারীকে উচিত প্রতিবাদে সরব হওয়া।

এটাই প্রথম নয়। এর আগেও নানা অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উর্ফী। কিছুদিন আগে তিনি জানিয়েছিলেন, মাত্র ১৫ বছরের এক কিশোর প্রকাশ্যে তাঁকে অপমানজনক প্রশ্ন করে বসে। অভিনেত্রীর ভাষায়, “আমি যখন ছবি তুলছিলাম, একদল ছেলে পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের মধ্যে একজন হঠাৎ সবার সামনে আমাকে প্রশ্ন করে, ‘কতজনের সঙ্গে সহবাস করেছ?’ আমার মা এবং পরিবারের সামনেই এমন প্রশ্ন শোনতে হয়।” এই ঘটনা উর্ফীকে গভীরভাবে আঘাত করলেও তিনি নীরব থাকেননি। বরং ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন এবং প্রকাশ্যে এনেছেন যাতে অন্যরা সতর্ক হতে পারে।

উর্ফীর সাহসী ব্যক্তিত্ব অনেক ভক্তের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। যদিও তাঁর সমালোচকও কম নয়, তবে প্রতিবারই তিনি নিজের ভঙ্গিতে তাঁদের জবাব দেন। এবারও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ভয়ের কাছে হার মানবেন না, বরং আইনি পথে এগিয়ে যাবেন।

আরও পড়ুনঃ দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ের বাড়িতে বিপদ, ভরদুপুরে কী ঘটল জানুন

নেটিজেনদের একাংশ উর্ফীর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন। কেউ লিখছেন, “এই ধরনের মানুষদের শাস্তি পাওয়া উচিত।” আবার কেউ মন্তব্য করছেন, “উর্ফীর জনপ্রিয়তা ও খোলামেলা মতামতই তাঁকে বারবার টার্গেট বানাচ্ছে।”

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, উর্ফী জাভেদ শুধু ফ্যাশন বা বিতর্কের জন্য নয়, নিজের দৃঢ় মানসিকতা ও প্রতিবাদী সুরের জন্যও আলোচনায় থাকেন। অশালীন ছবি ফাঁসের এই হুমকি থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে হেনস্থার অভিজ্ঞতা—সবক্ষেত্রেই তিনি নারীদের জন্য এক সাহসী বার্তা দিয়েছেন। এখন দেখা যাক, তাঁর করা অভিযোগের পর কীভাবে আইনি পদক্ষেপ এগোয় এবং দোষীরা শাস্তি পায় কি না।

দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংয়ের কন্যা দুয়া এক বছরে পা রাখল

দীপিকা পাড়ুকোন মেয়ে দুয়া
দীপিকা-রণবীরের কন্যা দুয়া এক বছরে পা দিল। জন্মদিন পালনের মাঝেই ফাঁস হল খুদের ছবি। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে উচ্ছ্বসিত ভক্তরা।

দুয়ার আগমন: নতুন অধ্যায়ের সূচনা

বলিউডের জনপ্রিয় দম্পতি দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিং তাঁদের অভিনয়ের জন্য যেমন ভক্তদের মন জয় করেছেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন। ২০২৩ সালের গণেশচতুর্থীর পরের দিনই তাঁদের জীবনে আসে সুখবর—প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম দেন দীপিকা। সন্তান জন্মের পর অনুরাগীদের ভালোবাসায় ভরে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া।

তবে এই সুখবর শোনালেও তাঁরা প্রথম থেকেই একান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখেন। জনসমক্ষে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুদের ছবি প্রকাশ করেননি। কেবল দীপাবলির সময়ে একটি বিশেষ মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছিলেন তাঁরা। মেয়ের ছোট্ট দুটি পায়ের ছবি দিয়ে নাম ঘোষণা করেন—দুয়া

এক বছরে পা দিল খুদে তারকা

২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কন্যা দুয়া এক বছরে পা রাখে। অনুরাগীরা যেমন অধীর আগ্রহে দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন, তেমনই দীপিকা-রণবীরও মেয়ের জন্মদিনকে স্মরণীয় করতে চেয়েছিলেন। তবে তারকাসুলভ কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন হয়নি। বরং ঘরোয়া, উষ্ণ পরিবেশে কন্যার জন্মদিন পালিত হয়।

দীপিকা নিজের হাতে বানান বিশেষ চকোলেট কেক। তাঁর মতে, এটাই তাঁর ‘লভ ল্যাঙ্গোয়েজ’—ভালোবাসার ভাষা। খুদের জন্য মায়ের হাতে বানানো কেকই সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।

কেন এত গোপনীয়তা?

বেশ কয়েক মাস ধরে দীপিকা-রণবীরের ভক্তরা বারবার জানতে চাইছিলেন, কবে দেখা যাবে খুদের ছবি। তবে এই পাওয়ার কাপল দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মেয়ের গোপনীয়তা তাঁরা বজায় রাখবেন। দীপিকা একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সন্তানকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে তিনি চান না। শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এমনকি ছবিশিকারিদের কাছেও তিনি বারবার অনুরোধ করেছেন, যেন ক্যামেরায় দুয়ার ছবি ধরা না পড়ে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—শিশুর শৈশবটুকু যেন মুক্ত ও স্বাভাবিক থাকে।

ভাইরাল ভিডিওতে প্রথম ঝলক

তবুও সমস্ত সতর্কতা সত্ত্বেও সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যায় একটি ভিডিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দীপিকার কোলে বসে রয়েছে এক ছোট্ট মেয়ে। নেটিজেনরা দাবি করেন, এটাই রণবীর-দীপিকার কন্যা দুয়া।

ভিডিওতে পরিষ্কার বোঝা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হওয়ায় বিরক্ত হয়েছেন দীপিকা। এমনকি তাঁকে স্পষ্টভাবে বলতে শোনা যায়—ভিডিও রেকর্ড না করতে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হয়নি, তবুও এটি ঘিরে চরম উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে ভক্তদের মধ্যে।

ভক্তদের আবেগ

প্রথমবার দুয়ার মুখ দেখে ভক্তদের আবেগ ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ লিখেছেন, “মেয়েটা একেবারে মায়ের মতো।” কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, “চোখে-মুখে রণবীরের ছাপ।”

ভক্তদের একাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কন্যার ছবি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে সেই সুযোগ মেলাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে।

তারকা দম্পতির জীবনযাপন ও সন্তান প্রতিপালন

দীপিকা এবং রণবীর দুজনেই বর্তমানে কাজের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। সন্তান জন্মের পর থেকেই তাঁরা মেয়েকে সময় দিচ্ছেন। দুয়ার প্রথম জন্মদিনে যে ছোটখাটো আয়োজন করেছেন, সেটাই প্রমাণ করে—সেলিব্রিটি হয়েও তাঁরা পরিবারকে কতটা স্বাভাবিকভাবে বাঁচাতে চান।

রণবীর সিং এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বাবার ভূমিকা তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হলেও প্রতিটি মুহূর্তকে তিনি উপভোগ করছেন। অন্যদিকে দীপিকার মতে, মা হওয়ার পর তাঁর জীবনের অগ্রাধিকার বদলে গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ প্রকাশ্যে ‘চোখের নীলে’: আবির-মিমির রোম্যান্টিক কেমিস্ট্রি মাতাল নেটদুনিয়া

মিডিয়ার সঙ্গে লড়াই

দীপিকা-রণবীরের মতো তারকা দম্পতির জীবনের প্রতিটি দিকেই ক্যামেরার নজর থাকে। সন্তান জন্মের পর থেকে তাঁদের বাড়ির বাইরে মিডিয়ার ভিড় লেগেই ছিল। তবুও দুয়ার ছবি প্রকাশ্যে না আসায় অনুরাগীদের কৌতূহল দিন দিন বেড়েই চলেছিল।

এই প্রেক্ষাপটে ভাইরাল ভিডিও যেন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষায় মিডিয়াকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

আরও পড়ুনঃ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়: পুজোয় ফিরছেন ‘দেবী চৌধুরাণী’ নিয়ে

ভক্তদের আশা

যদিও দুয়ার মুখ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি দীপিকা বা রণবীর, তবুও ভক্তরা আশা করছেন ভবিষ্যতে অন্তত একটি অফিসিয়াল ছবি শেয়ার করবেন তাঁরা। কারণ ভক্তদের কাছে তাঁদের প্রিয় তারকার কন্যা ইতিমধ্যেই এক ক্ষুদে সেলেব।

দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিংয়ের কন্যা দুয়া জন্মের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। এক বছরে পা দেওয়া এই খুদেকে নিয়ে যতই গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা হোক, তবুও ভক্তদের আবেগ, মিডিয়ার আগ্রহ আর সোশ্যাল মিডিয়ার উন্মাদনা তাকে আড়ালে রাখতে পারছে না।

প্রথম জন্মদিন ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও কেবল নতুন বিতর্কই নয়, অনুরাগীদের আবেগেরও প্রতিফলন। এখন সকলেরই একটাই আশা—শিগগিরই অফিসিয়ালি দুয়ার ছবি শেয়ার করবেন দীপিকা-রণবীর, আর তখনই তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাস আরও এক ধাপ বাড়বে।

সলমন খানের ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’: ভারত-চিন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন ছবির ফার্স্ট লুক ভাইরাল

২০২০ সালের ভারত-চিন সংঘর্ষ অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে সলমন খানের ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’। কর্নেল সন্তোষবাবুর চরিত্রে ভাইজানকে প্রথমবার উর্দিতে দেখে মুগ্ধ অনুরাগীরা।

২০২০ সালের ভারত-চিন সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হচ্ছে সলমন খানের নতুন ছবি ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’। ছবির শুটিং চলছে পুরোদমে। এর আগে পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া লাদাখে শুটিংয়ের কিছু ঝলক শেয়ার করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই দৃশ্যই ভক্তদের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। লাদাখের শুটিং শেষ হওয়ার পর এবার শুরু হয়েছে ছবির দ্বিতীয় পর্বের শুটিং।

ভাইজানের ফার্স্ট লুক ভাইরাল

মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই শেয়ার করলেন তাঁর ছবির ফার্স্ট লুক। হাতে ক্ল্যাপস্টিক, গায়ে সেনার উর্দি আর দৃঢ় দৃষ্টিতে ভাইজান যেন একেবারে নতুন রূপে হাজির। লুক প্রকাশ্যে আসতেই ঝড় উঠেছে নেটপাড়ায়। ক্যাপশনে শুধু লেখা ছিল— “Battle of Galwan”

ভক্তরা একের পর এক কমেন্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কেউ লিখেছেন, “সুলতান ফিরে এসেছে”, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “ব্লকবাস্টার লোডিং”

লেহতে শুটিং চলছে পুরোদমে

এই মুহূর্তে লেহতে ছবির শুটিং চলছে। স্থানীয় পরিবেশ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই ছবির আবহকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে। ছবিটি নিয়ে দর্শকের মাঝে ইতিমধ্যেই আলাদা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

কর্নেল সন্তোষবাবুর চরিত্রে সলমন

এই ছবিতে সলমনকে দেখা যাবে কর্নেল বি সন্তোষবাবু-র চরিত্রে, যিনি ২০২০ সালের জুন মাসে ভারতীয় সেনাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গালওয়ান সংঘর্ষে। এই চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সলমন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।

শুধু অভিনয়ের জন্য নয়, তিনি ফিটনেসেও এনেছেন বড়সড় পরিবর্তন। খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা এনেছেন, ব্যায়ামে মনোযোগী হয়েছেন এবং মানসিকভাবে চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে মেলাতে চেষ্টা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ আভেরী সিংহ রায় নতুন চমক: ‘SIT বেঙ্গল’-এ সাব ইন্সপেক্টর নীলিমার চরিত্রে

ইদের প্রথা অব্যাহত

প্রতি বছর ইদের সময়ে ভক্তদের নতুন ছবি উপহার দেন সলমন। এ বছরও সেই ধারা অব্যাহত। তবে এবার দর্শকরা তাঁকে দেখবেন একেবারে ভিন্ন অবতারে—একজন বীর সেনা অফিসারের চরিত্রে।

অন্যান্য অভিনেতারা

ছবিতে সলমনের পাশাপাশি অভিনয় করছেন চিত্রাঙ্গদা সিং সহ আরও অনেক জনপ্রিয় তারকা। ফলে ছবিটি শুধু গল্পের জন্য নয়, তারকাখচিত উপস্থিতির জন্যও বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

ভক্তদের প্রতীক্ষা

সলমনের নতুন চরিত্র প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউন্টডাউন শুরু করে দিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, এই ছবিটি ইদের ব্লকবাস্টার হতে চলেছে। ভারত-চিন যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই গল্পে দেশপ্রেম, সাহস ও ত্যাগের এক অনন্য কাহিনি দেখতে পাওয়া যাবে।

গায়িকা মোনালি ঠাকুরের দাম্পত্য ভাঙনের গুঞ্জন: ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

জনপ্রিয় গায়িকা মোনালি ঠাকুর ও তাঁর স্বামী মাইক-এর দাম্পত্যে নাকি ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে আনফলো করা, পুরনো ছবি মুছে ফেলা এবং ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে ভক্তদের মধ্যে।

মোনালি ঠাকুর ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। বলিউডের পাশাপাশি বাংলা সিনেমার গানেও তাঁর সমান দক্ষতা রয়েছে। তাঁর গাওয়া গানগুলো কোটি ভিউ পেয়েছে, এবং অগণিত ভক্তের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি শুধু গানের জন্য নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিচ্ছেদের জল্পনা: সূত্রপাত কোথায়?

গত কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, মোনালি ঠাকুরের বিয়ে ভাঙছে। খবর বেরোয়, তিনি এবং তাঁর স্বামী মাইক নাকি ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আর অনুসরণ করেন না। শুধু তাই নয়, মাইক তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ‘প্রাইভেট’ করে দিয়েছেন। এর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের বিচ্ছেদের জল্পনা জোরালো হতে শুরু করে।

ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে নতুন বিতর্ক

এই জল্পনার আগুনে ঘি ঢাললেন মোনালি নিজেই। সম্প্রতি তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়—তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কখনও তাঁকে কিল-চড় মারা হচ্ছে, আবার কখনও তিনি কষ্টের মাঝেও হাসছেন। হাসির আড়ালে যে বেদনা লুকিয়ে আছে, তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

আসলে এটি তাঁর নিজের গান ‘এক বার ফির’ থেকে নেওয়া একটি দৃশ্য। গায়িকার দাবি, এই গানটি তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগময়। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন—“এটাই কারণ।” তবে তিনি কোন কারণের দিকে ইঙ্গিত করছেন, সেটা স্পষ্ট করেননি। ফলে তাঁর ভক্তদের কৌতূহল আরও বেড়েছে।

মোনালি ও মাইকের বিয়ের গল্প

২০১৭ সালে অত্যন্ত সাধারণভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মোনালি ঠাকুর ও তাঁর বিদেশি স্বামী মাইক। তাঁদের প্রেম ও বিবাহের কাহিনি ভক্তদের কাছে অনুপ্রেরণামূলক ছিল। দাম্পত্য জীবনের প্রথম দিকে তাঁরা প্রায়ই একসঙ্গে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতেন। বিদেশে একসঙ্গে সময় কাটানোর ঝলক দেখা যেত তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ায়।

কিন্তু বর্তমানে সেই সুখের মুহূর্তগুলোর কোনও অস্তিত্ব নেই। একে একে সমস্ত পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে দিয়েছেন মোনালি।

সম্পর্কে ভাঙনের সম্ভাব্য কারণ

তাঁদের বিচ্ছেদের আসল কারণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। অনেকেই মনে করছেন, ভৌগোলিক দূরত্ব এর জন্য সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল। মোনালি ভারতে থাকলেও মাইক থাকেন বিদেশে। দূরত্বের কারণে যোগাযোগে ফাঁক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, গায়িকার সাম্প্রতিক পোস্টে নির্যাতনের প্রতীকী ছবি দেখে কেউ কেউ ধারণা করছেন, হয়তো সম্পর্কের ভিতরে গভীর সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে মোনালি বা মাইক কারোরই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সমালোচনা ও কটাক্ষের মুখে মোনালি

বিয়ের সময় থেকেই মোনালি ঠাকুর কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন। অনেকেই তাঁকে ‘গোল্ড ডিগার’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল, অর্থের জন্যই তিনি বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করেছেন।

কিন্তু মোনালি সে সময় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁর রোজগার স্বামীর থেকেও বেশি। তিনি আরও বলেছিলেন, মাইক কৃষিকাজ ও পশুপালন করতে ভালোবাসেন—যা তাঁর কাছে অনেক সম্মানের বিষয়।

ভক্তদের প্রতিক্রিয়া

গায়িকার সাম্প্রতিক পোস্ট এবং ইনস্টাগ্রামে পরিবর্তন দেখে ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই কমেন্ট করে তাঁকে সাহস যোগাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ স্পষ্ট জবাব চাইছেন। ভক্তরা জানতে চাইছেন—আসলে কী ঘটছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে।

মোনালি ঠাকুরের ক্যারিয়ার: আলো ঝলমলে দিক

দাম্পত্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মোনালি ঠাকুরের গানের জগতে জনপ্রিয়তা আজও অটুট। তাঁর কণ্ঠে ‘মোহ মায়া’, ‘সাওয়ার লুঁ’, ‘মোহে রঙ দো লাল’-এর মতো অসংখ্য হিট গান রয়েছে। তিনি জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

তবে ভক্তরা মনে করেন, ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় যত বড়ই হোক, তাঁর গানের প্রতি ভালোবাসা ও প্রতিভা কোনওদিন ম্লান হবে না।

দাম্পত্যে ভাঙন: বলিউডে সাধারণ ঘটনা?

বলিউডে সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রায়ই জল্পনা তৈরি হয়। বিয়ে, বিচ্ছেদ, সম্পর্ক ভাঙন—এসব ঘটনা নতুন নয়। মোনালি ও মাইকের ক্ষেত্রে ভক্তরা আশা করছেন, গুজবের থেকেও বাস্তবটা ভিন্ন হবে। তবে সময়ই বলে দেবে, তাঁদের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে।

মোনালি ঠাকুর ও তাঁর স্বামী মাইক-এর দাম্পত্য নিয়ে জল্পনা এখনো চলছেই। ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আনফলো করা, পুরনো ছবি মুছে ফেলা এবং ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ভক্তদের মধ্যে সন্দেহ বাড়িয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেননি।

ভক্তদের প্রত্যাশা, গায়িকা শীঘ্রই সত্যিটা সামনে আনবেন। তবে যা-ই হোক না কেন, মোনালি ঠাকুরের গান ও প্রতিভা যে চিরকাল অম্লান থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

করিশ্মা কপূরের সন্তানদের মামলা: সঞ্জয় কপূরের ৩০,০০০ কোটির সম্পত্তি বিতর্ক

সঞ্জয় কপূরের মৃত্যুর পর তাঁর বিশাল সম্পত্তি নিয়ে পরিবারে তীব্র দ্বন্দ্ব। করিশ্মা কপূরের সন্তান সামাইরা ও কিয়ান দিল্লি হাই কোর্টে প্রিয়া সচদেবের বিরুদ্ধে মামলা করলেন।

হঠাৎ মৃত্যু ও বিতর্কের সূচনা

বলিউড অভিনেত্রী করিশ্মা কপূরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কপূর জুন মাসে আকস্মিকভাবে মারা যান। গলায় মৌমাছি আটকে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। মৃত্যুর সময় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়া সচদেবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে ছিলেন। তাঁদেরও একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

তবে প্রিয়ার আগেই সঞ্জয়ের প্রথম স্ত্রী ছিলেন করিশ্মা কপূর, যাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করেছিলেন এই শিল্পপতি। আর তাই তাঁর মৃত্যুর পরই শুরু হয় পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব।


করিশ্মার সন্তানদের অভিযোগ

সম্প্রতি সঞ্জয় কপূরের প্রথম সংসারের সন্তান সামাইরা কপূরকিয়ান রাজ কপূর দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী—

  • প্রিয়া সচদেব নাকি সঞ্জয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র জাল করেছেন
  • উদ্দেশ্য ছিল বিশাল সম্পত্তির একক দখল নেওয়া।

তবে সামাইরা ও কিয়ান দাবি করছেন, তাঁরাও বাবার বৈধ উত্তরাধিকারী। তাই সম্পত্তির ন্যায্য ভাগের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।


সঞ্জয়ের মায়ের সন্দেহ

এখানেই শেষ নয়। প্রয়াত সঞ্জয়ের মা রানি কপূর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে গভীর ষড়যন্ত্র

তাঁর আশঙ্কা, সম্পত্তি দখলের লড়াইয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে সঞ্জয়ের অকাল মৃত্যু।


প্রিয়ার পদবি পরিবর্তন ঘিরে চাঞ্চল্য

সম্পত্তি বিতর্ক যখন চরমে, তখনই প্রিয়া সচদেব পদক্ষেপ নেন। এত দিন তিনি নিজেকে প্রিয়া সচদেব নামেই পরিচয় দিতেন। কখনও কখনও স্বামীর পদবি ব্যবহার করলেও সেটি নিয়মিত ছিল না।

কিন্তু উত্তরাধিকার নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হতেই তিনি হঠাৎ নিজের নাম বদলে নেন—‘প্রিয়া সঞ্জয় কপূর।’ আর এই পরিবর্তনের পর থেকেই পারিবারিক অশান্তি আরও তীব্র আকার নেয়।


করিশ্মার অবস্থান

কিছু দিন আগে শোনা গিয়েছিল, করিশ্মা কপূরও সন্তানের স্বার্থে সঞ্জয়ের বিপুল সম্পত্তিতে অংশীদারির দাবি তুলেছেন। অর্থাৎ, এই উত্তরাধিকার লড়াইয়ে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন তাঁর দুই সন্তানও।


সঞ্জয় কপূরের আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকে তাঁর প্রায় ৩০,০০০ কোটির সম্পত্তি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও মামলা ঘিরে আলোচনায় রয়েছে কপূর পরিবার। করিশ্মার সন্তানদের আইনি পদক্ষেপে বিতর্ক আরও বেড়েছে। অন্যদিকে প্রিয়ার নাম পরিবর্তন নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের দিকে।

সলমন খানের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অভিনব কাশ্যপ, অভিযোগ বলিউডে তাঁর সাফল্য ইচ্ছে করে থামানো হয়েছে

অভিনব কাশ্যপ অভিযোগ করলেন, সলমন খান ও তাঁর পরিবার ষড়যন্ত্র করে ‘দাবাং ২’ থেকে সরিয়ে কেরিয়ার নষ্ট করেছে। ভাইজান পাল্টা বললেন, কেরিয়ার গড়া-ভাঙা ঈশ্বরের হাতে।

বলিউডের ব্লকবাস্টার ছবি ‘দাবাং’ (Dabangg) এ বছর পা রাখছে ১৫ বছরে। তবে এই মাইলস্টোনের প্রাক্কালে ছবির পরিচালক অভিনব কাশ্যপ (Abhinav Kashyap) ফের বিস্ফোরক মন্তব্যে শিরোনামে। তিনি হলেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের ভাই, কিন্তু দাদার মতো বলিউডে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য পাননি। অথচ তাঁর হাতে রয়েছে ‘দাবাং’-এর মতো মেগা হিট সিনেমা।

অভিনবের অভিযোগ, সলমন খান (Salman Khan) এবং তাঁর পরিবার পরিকল্পিতভাবে তাঁর কেরিয়ার নষ্ট করেছে। তাঁর কথায়, “দাবাং ২ পরিচালনা করার সুযোগ আমার থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। খানেরা প্রতিহিংসাপরায়ণ। আমি তাঁদের শর্ত না মানায় আমার বলিউড ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছে ওরা। তখনই বুঝলাম, সলমন খান আসলে একেবারেই পরিষ্কার মানুষ নন।”

পরিচালকের আরও দাবি, “গত ২৫ বছর ধরেই সলমন অভিনয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। নিজের সিনেমার কাজেও তাঁর তেমন আগ্রহ নেই। তিনি একজন অভিনেতার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাবান ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে। সেই ক্ষমতার জোরেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। সলমন খান আসলে বলিউডের স্টারডম-তন্ত্রের ‘গডফাদার’। আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য সরাসরি দায়ী ওঁরা।”

এর আগেও অভিনব কাশ্যপ প্রকাশ্যে সলমন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আবারও একই ক্ষোভ উগরে দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন।

অন্যদিকে, বিগ বস (Bigg Boss)-এর মঞ্চে শেহনাজ গিল যখন তাঁর ভাইকে ইন্ডাস্ট্রিতে সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন, সলমনের জবাব ছিল স্পষ্ট— “আমি কখনও কারও কেরিয়ার বানাইনি বা শেষও করিনি। এগুলো করে উপরওয়ালা। অনেকে আমার নামে গুজব ছড়িয়েছে যে আমি তাঁদের কেরিয়ার শেষ করেছি। সত্যি বলতে, যদি কাউকে শেষ করতে হতো, তবে নিজের কেরিয়ারই শেষ করতাম।”

যদিও ভাইজান সরাসরি অভিনব কাশ্যপের নাম নেননি, তবে ইন্ডাস্ট্রির একাংশ মনে করছে, তাঁর এই মন্তব্যই অনুরাগ কাশ্যপের ভাইকে উদ্দেশ্য করেই বলা।

অনন্যা পান্ডে: স্বপ্নের বাড়ি ও গৌরী খানের ম্যাজিক টাচ

বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে মুম্বইয়ে প্রথম বাড়ি কিনে গড়লেন স্বপ্নের আশ্রয়। গৌরী খানের ডিজাইনে সাজানো এই বাড়ি ঘিরে অনন্যার আবেগ, কৃতজ্ঞতা ও নতুন সিনেমার খবর।

বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে (Ananya Panday)-র জীবনে ২০২৩ সাল ছিল বিশেষ এক মাইলফলক। সেই বছর তিনি মুম্বইতে নিজের প্রথম বাড়ি কিনে নেন। তবে এটি শুধু একটি সম্পত্তি নয়, বরং এক আবেগময় আশ্রয়, যেখানে প্রতিটি সাজসজ্জা তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন।

এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পাশে ছিলেন শাহরুখ খানের স্ত্রী এবং বলিউডের অন্যতম সেরা ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গৌরী খান (Gauri Khan)। তিনি অনন্যার বাড়িটিকে শুধু সুন্দর করে তোলেননি, বরং তাঁর স্বপ্ন ও ইচ্ছে অনুযায়ী প্রতিটি কোণ সাজিয়েছেন।


আবেগঘন অভিজ্ঞতা

এক সাক্ষাৎকারে অনন্যা জানান—
“আমার জন্য প্রথম বাড়ি কেনা শুধু আর্থিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং গভীরভাবে আবেগময় একটি মুহূর্ত। গৌরী ম্যাম আমাকে ছোটবেলা থেকে চেনেন। তিনি আমার পছন্দ-অপছন্দ এতটাই ভালো জানতেন যে মনে হয়েছে, যেন নিজের মেয়ে সুহানার জন্যই ঘর সাজাচ্ছেন।”

গৌরী খান পেশাদারিত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের উষ্ণতাও দেখিয়েছেন। তিনি কখনো নিজের মত চাপিয়ে দেননি, বরং অনন্যার প্রতিটি সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছেন। অনন্যার ভাষায়—
“তিনি আমাকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে দেখেছেন। জানতেন, এটি আমার জীবনের প্রথম বাড়ি, তাই স্বাধীনভাবে আমার মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।”


স্বপ্নের ছোঁয়া

অনন্যা আরও বলেন—
“ইন্টেরিয়র ডিজাইন অনেকের কাছে শুধু একটি প্রজেক্ট। কিন্তু আমার কাছে এটি ছিল আমার প্রতিদিনের জীবনের প্রতিচ্ছবি। আমার স্বপ্ন, পছন্দ ও ব্যক্তিত্বকে যেভাবে গৌরী ম্যাম বোঝেন, তা সত্যিই অনন্য।”

নিজের ইনস্টাগ্রামে অনন্যা লেখেন—
“আমার প্রথম বাড়ি… আমার ড্রিম হোম। ধন্যবাদ @gaurikhan। আপনি ছাড়া কেউ এতটা নিখুঁতভাবে বুঝতে পারতেন না আমি কী চাই। আপনি আমার স্বপ্নকে সত্যি করেছেন। আপনি সেরা, আপনাকে ভালোবাসি।”


অনন্যার পরবর্তী সিনেমা

পেশাদার জীবনে অনন্যা পান্ডেকে আগামীতে দেখা যাবে কার্তিক আরিয়ান-এর সঙ্গে রোম্যান্টিক ড্রামা “তু মেরি ম্যায় তেরা, ম্যায় তেরা তু মেরি”-তে। সমীর বিদ্বান পরিচালিত এই ছবি মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে।


👉 অনন্যা পান্ডের প্রথম বাড়ি তাঁর জীবনে শুধু এক নতুন সূচনা নয়, বরং গৌরী খানের শিল্পকলা ও ভালোবাসার ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা এক আবেগময় স্বপ্নের গল্প।

কাজল ফিরছেন হটস্টারের The Trial Season 2-এ, আইনজীবী নয়নিকা সেনগুপ্তর ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেত্রীকে

কাজল ফিরছেন The Trial Season 2 ওয়েব সিরিজে আইনজীবী নয়নিকা সেনগুপ্তর ভূমিকায়। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ হটস্টারে মুক্তি পাচ্ছে সিরিজটি, সঙ্গে থাকছেন জিশু সেনগুপ্ত ও সোনালি কুলকার্নি।

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল (Kajal) এবার প্রস্তুত তাঁর নতুন ওয়েব সিরিজ The Trial Season 2: Pyaar, Kanoon, Dhokha মুক্তির জন্য। এই সিরিজে তাঁকে দেখা যাবে একজন সাহসী আইনজীবী নয়নিকা সেনগুপ্ত চরিত্রে, যিনি নতুন মামলা লড়তে আদালতে ফেরেন। একই সঙ্গে তাঁকে মোকাবিলা করতে হয় স্বামীর দুর্নীতি ও যৌন কেলেঙ্কারির মামলায় গ্রেফতারের পর ভেঙে পড়া সম্পর্ককেও।

ক্ষমতাশালী নারীর লড়াই

প্রথম সিজনে যেভাবে ক্ষমতাশালী নারীদের উপর সামাজিক ও ব্যক্তিগত নজরদারির চিত্র ফুটে উঠেছিল, এবারও সেদিকেই নজর থাকবে। কাজলের মতে, সমাজে ক্ষমতাশালী মহিলাদের ত্রুটি বা ভুলগুলো তাঁদের পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি করে সামনে আনা হয়। তবে তাঁর বিশ্বাস, দীর্ঘ ৩৩ বছরের কেরিয়ারে দর্শকরা তাঁকে তাঁর ভাল-মন্দ সব দিক দেখেও ভালবেসেছেন।

হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “আমার কোনও ত্রুটি নেই। আমি খুব দৃঢ় একজন মানুষ। তবে স্বীকার করি, জনসমক্ষে থাকলে ভাল-মন্দ দু’টোই বেশি নজরে আসে।”

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও খোলামেলা স্বীকারোক্তি

অভিনেত্রী মনে করেন, জনতার ভালোবাসা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। “মানুষ আমাকে যেমন, ঠিক সেভাবেই গ্রহণ করেছে। আমি হোঁচট খেয়েছি, কেঁদেছি, রাগ করেছি, মোটা-চিকন হয়েছি, সবকিছু করেছি—তবু মানুষ আমাকে ভালোবেসেছে। আমি সত্যিই ভাগ্যবতী,” মন্তব্য করেন কাজল।

পাপারাজ্জিদের সঙ্গে তাঁর কখনও কখনও তির্যক ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়। নেটিজেনদের অনেকেই তাঁকে ‘অভদ্র’ বলেছেন। এ প্রসঙ্গে কাজলের সাফাই, “আমার একটা ইমেজ আছে, সেটা রক্ষা করতেই হবে। যদি এভাবেই তাঁদের উপার্জন হয়, তবে আমি কেন আপত্তি করব?”

মুক্তি পাচ্ছে সেপ্টেম্বরেই

The Trial Season 2-এ কাজলের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সোনালি কুলকার্নি, জিশু সেনগুপ্ত, আলে খান, শিবা চাড্ডা ও কুব্রা সইত। সিরিজটি মুক্তি পাবে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ Disney+ Hotstar-এ।

গণেশচতুর্থী বিতর্কে আলি গনি, বোরখা পরে ভাইরাল জ্যাস্মিন ভাসিন – কী বললেন অভিনেতা?

গণেশচতুর্থীতে নীরব থাকার কারণে সমালোচিত আলি গনি। প্রেমিকা জ্যাস্মিন ভাসিনের মদিনায় বোরখা পরা ছবি ভাইরাল হতেই জল্পনা, অভিনেতা জানালেন ধর্ম মানা ব্যক্তিগত বিষয়।

গণেশচতুর্থী উপলক্ষে আচরণ নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়লেন টিভি অভিনেতা আলি গনি। এক বন্ধু’র বাড়ির গণেশপুজোয় উপস্থিত ছিলেন তিনি ও তাঁর প্রেমিকা জ্যাস্মিন ভাসিন। তবে সেখানে আলির নীরবতা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনুরাগীরা।

‘গণপতি বাপ্পা মোরয়া’ বলতে অস্বীকৃতি

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, সকলেই যখন ভক্তিভরে গণেশ মন্ত্র জপ করছেন, আলি তখন নীরব। জ্যাস্মিন একাধিকবার তাঁকে ‘গণপতি বাপ্পা মোরয়া’ বলার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি মুখ খোলেননি। বরং তাঁকে চিবোতে দেখা যায় কিছু একটা। এই দৃশ্য দেখে অনেক ভক্তই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

বোরখা পরে জ্যাস্মিন, নতুন প্রশ্ন নেটদুনিয়ায়

এদিকে আরও এক বিতর্কে জড়ালেন তারকাজুটি। সম্প্রতি জ্যাস্মিন ভাসিনের একটি বোরখা পরা ছবি মদিনা সফর থেকে ভাইরাল হয়। এরপর নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন—জ্যাস্মিন কি প্রেমিকের ধর্ম গ্রহণ করেছেন?

আলি গনির স্পষ্ট জবাব

এই সমালোচনার জবাবে আলি বলেন,
“আমি, আমার বোন ও জ্যাস্মিন একসঙ্গে মদিনায় গিয়েছিলাম। সেখানে ও পোশাক ছাড়া ভিতরে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। তাই পাশের দোকান থেকে অবয়া (বোরখা) কিনে পরেছিল জ্যাস্মিন। এটা কি মানে যে আমি ওকে রোজা রাখতে বলেছি? বা ধর্ম পরিবর্তন করতে বলেছি? না। একইভাবে জ্যাস্মিনও কখনও আমাকে তার ধর্ম মানতে বলেনি। জোর করে কিছু হয় না, প্রত্যেকে নিজের ধর্ম মানুক।”

যদিও নেটিজেনদের একাংশ আলির সমালোচনা করেছেন, অন্য একাংশ অভিনেতার সাফাইকে সমর্থন করেছেন।

৬০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় বিতর্কে রাজ কুন্দ্রা, নতুন ছবি ‘মেহর’-এর আয়ে দিলেন পঞ্জাব বন্যা ত্রাণ

৬০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় বিতর্কে রাজ কুন্দ্রা। নতুন ছবি ‘মেহর’-এর আয়ে পঞ্জাব বন্যা ত্রাণে দান, আবেগঘন ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে কাঁদলেন শিল্পা শেট্টির স্বামী।

সম্প্রতি সুখের সময় যাচ্ছে না বলিউড তারকা দম্পতি শিল্পা শেট্টি (Shilpa Shetty) ও রাজ কুন্দ্রার (Raj Kundra) জীবনে। তাঁদের বিরুদ্ধে উঠেছে প্রায় ৬০ কোটির প্রতারণার অভিযোগ, যার জেরে দম্পতি এখন আইনি জটিলতায়। পাশাপাশি বান্দ্রায় শিল্পার রেস্তরাঁ (Restaurant) নিয়েও চলছে গুঞ্জন। সব মিলিয়ে তাঁরা আলোচনার কেন্দ্রে।

রাজ কুন্দ্রার ছবি মুক্তি ও মানবিক উদ্যোগ

৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে রাজ কুন্দ্রার দ্বিতীয় ছবি ‘মেহর’। ভারত ছাড়াও বিদেশে একসঙ্গে মুক্তি পেয়েছে এই ছবি। মুক্তির আগে রাজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—প্রথম দিনের সব রোজগার পঞ্জাবের বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে দান করবেন। নেটিজেনদের কাছে সাধারণত রাজের কাজকর্ম প্রশংসা কুড়োয় না। তবে এ বার ব্যতিক্রম ঘটেছে। অনেকেই তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে সরাসরি উপস্থিত রাজ

রাজ শুধু অর্থ সাহায্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সরাসরি পৌঁছে যান পঞ্জাবের বন্যাপীড়িত এলাকায়। সেই পথে তিনি একটি ভিডিও বার্তায় জানান,
“জীবনে বহু ঝড়ঝাপটা দেখেছি। ভিতর থেকে ভেঙে পড়েছি বারবার, কিন্তু থেমে যাইনি। পঞ্জাবের অবস্থাও তাই—কষ্ট আছে, কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি।”

এই বার্তা দিতে গিয়েই আবেগ সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলেন রাজ কুন্দ্রা। ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, বাইরের কারও সাহায্যের দরকার নেই, পঞ্জাবের মানুষরাই নিজেদের ঘুরে দাঁড় করাতে যথেষ্ট শক্তিশালী।