সাত বছর পর ছোটপর্দায় কামব্যাক মধুমিতা সরকার! নীল ভট্টাচার্যের সঙ্গে জুটি বাঁধলেন ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-য়

মধুমিতা সরকার

সাত বছর পর ছোটপর্দায় ফিরলেন মধুমিতা সরকার। লীনা-শৈবালের নতুন ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে নায়িকা ঝিলের চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে নীল ভট্টাচার্যের সঙ্গে।

বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও ফিরছেন ছোটপর্দায়। এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। তাঁর অভিনয়যাত্রা, জনপ্রিয়তা এবং ক্যারিশম্যাটিক উপস্থিতি বরাবরই দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এবার তিনি আসছেন নতুন ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে।

এ ধারাবাহিকটির অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে মধুমিতা-নীল জুটি। এর আগে নীল ভট্টাচার্য দর্শকপ্রিয় হয়েছেন তিয়াসা রায় এবং সৈরিতি দাসের সঙ্গে জুটি বেঁধে। তবে এবার নতুন মাধুর্য নিয়ে হাজির হবে মধুমিতা ও নীলের রসায়ন।

চলুন দেখে নেওয়া যাক এই ধারাবাহিক এবং অভিনেতাদের নিয়ে বিস্তারিত তথ্য—

সাত বছর পর ছোটপর্দায় মধুমিতা সরকার

মধুমিতা সর্বশেষ ছোটপর্দায় কাজ করেছিলেন সাত বছর আগে।

এই সময়ে তিনি ওয়েব সিরিজ এবং সিনেমার মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন।

তবে ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে নিয়মিত চর্চা বজায় থাকে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তাঁর কথায়— “ধারাবাহিকে কাজ করা মানে প্রতিদিন নতুন চরিত্রের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। তাই ফের ছোটপর্দায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

নীল ভট্টাচার্যের সাত মাস পরে প্রত্যাবর্তন

নীল ভট্টাচার্যও কিছুদিনের বিরতির পর আবার ফিরছেন টেলিভিশনে।

তিনি সম্প্রতি মুম্বইয়ে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

দর্শকের প্রত্যাশা— প্রশিক্ষণের পর তাঁর অভিনয় আরও সমৃদ্ধ হবে।

তাঁর মন্তব্য— “প্রত্যেক জুটি নিজস্ব ভাগ্য নিয়ে আসে, তাই কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, বরং দর্শকের ভালোবাসাই আসল।”

‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র গল্প ও প্রেক্ষাপট

ধারাবাহিকটি লিখেছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই জুটি বরাবরই সমাজকেন্দ্রিক গল্প দর্শকদের উপহার দিয়ে এসেছেন।

তাঁদের নতুন সৃষ্টিতেও থাকছে সামাজিক বার্তা।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ঝিল (মধুমিতা) এবং শাক্য (নীল)।

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য— “আমাদের প্রতিটি গল্পেই সমাজের প্রতিফলন থাকে। এবারও সেই চেষ্টা করেছি।”

মেকআপ ছাড়াই মধুমিতার ঝিল চরিত্র

দর্শক মধুমিতাকে সাধারণত গ্ল্যামারাস রূপে দেখেন।

তবে এবার তাঁকে দেখা যাবে রূপটানবিহীন, সম্পূর্ণ স্বাভাবিক চরিত্রে।

এক দৃশ্যে দেখা যাবে, চিৎকার করতে করতে তাঁর গলা পর্যন্ত বসে গেছে।

এই বাস্তবধর্মী অভিনয়ই তাঁকে আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে দর্শকের কাছে।

মধুমিতার প্রথম র‍্যাপ গান!

এই ধারাবাহিকেই প্রথমবার র‍্যাপ গাইতে শোনা যাবে তাঁকে।

নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন—
“র‍্যাপ মুখস্থ করতে গিয়ে চোয়াল ব্যথা হয়ে গিয়েছিল। আমি সুরেলা নই, তাই খুব টেনশন হচ্ছিল। তবে চেষ্টা করেছি।”

দর্শকদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে নতুনত্ব এনে দেবে।

নতুন জুটি বনাম পুরনো জনপ্রিয়তা

এর আগে দর্শক নীল-তিয়াসা এবং নীল-সৈরিতির জুটিকে প্রচুর ভালোবাসা দিয়েছেন।

তাই এবার প্রশ্ন উঠছে— নীল-মধুমিতার জুটি কি সেই জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যাবে?

নীলের উত্তর স্পষ্ট— “প্রত্যেক জুটির নিজস্ব জায়গা আছে। তুলনা নয়, দর্শকের ভালোবাসাই আসল।”

ধারাবাহিকের বিশেষ বার্তা

লেখিকা লীনা বরাবরই তাঁর গল্পের মধ্যে দিয়ে সমাজে কোনো না কোনো বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

‘ভোলে বাবা পার করেগা’ এর ব্যতিক্রম নয়।

দর্শক এমন একটি কাহিনি দেখতে পাবেন যা তাঁদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে।

লীনার প্রার্থনা— “ভোলে বাবা আমাদের সব বাধা কাটিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাক।”

আরও পড়ুনঃ দিব্যানি মণ্ডল: ছোটপর্দার ‘ফুলকি’ থেকে বাস্তব জীবনের ব্ল্যাকবেল্ট নায়িকা

দর্শকের প্রত্যাশা ও কৌতূহল

দীর্ঘ বিরতির পর মধুমিতার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দর্শকের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা।

টেলিভিশন দুনিয়ায় তাঁকে আবার নিয়মিত দেখা মানেই TRP-তে নতুন উত্তেজনা।

একইসঙ্গে, নীল-মধুমিতার কেমিস্ট্রি কেমন হয় তা নিয়েও আগ্রহ তুঙ্গে।

ধারাবাহিকের সম্ভাবনা

টেলিভিশনের জগতে বর্তমানে প্রতিযোগিতা প্রবল।

তবে শক্তিশালী গল্প, জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং সমাজকেন্দ্রিক বার্তা— এই তিন মিলে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ দর্শকের মন জয় করতে সক্ষম হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ অনন্যা পান্ডে: স্বপ্নের বাড়ি ও গৌরী খানের ম্যাজিক টাচ

সংক্ষেপে মূল আকর্ষণ

✅ মধুমিতা সরকারের ছোটপর্দায় প্রত্যাবর্তন (৭ বছর পর)

✅ নীল ভট্টাচার্যের সঙ্গে নতুন জুটি

✅ লীনা-শৈবালের লেখা সামাজিক বার্তামূলক গল্প

✅ মেকআপ ছাড়া বাস্তবধর্মী লুক

✅ মধুমিতার প্রথম র‍্যাপ গান

✅ দর্শকের জন্য নতুন কেমিস্ট্রি ও বিনোদনের রসদ

অবশ্যই দেখবেন

বিষয়লিংক
বলিউডBollywood News
টলিউডTollywood News
সিরিয়ালSerial News

আমাদের পেজ টিকে ফলো করুনঃ Facebook

মধুবনী গোস্বামীকে ঘিরে বিতর্কের ঝড় – মন্তব্যে দর্শকের কটাক্ষ, কী বললেন অভিনেত্রী?

মধুবনী গোস্বামী

অভিনেত্রী মধুবনী গোস্বামী বারবার বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। কখনও শাঁখা-পলা প্রসঙ্গে মন্তব্য, আবার কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস ঘিরে দর্শকের কটাক্ষ। সম্প্রতি স্বামী রাজা গোস্বামীর সঙ্গে ছবি শেয়ার করার পর ফের শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।

বাংলা টেলিভিশনের দর্শক মহলে মধুবনী গোস্বামী একটি জনপ্রিয় নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন এবং অভিনয় দক্ষতার জন্য দর্শকদের মন জিতেছেন। একসময় তিনি টিআরপি দুনিয়ার অন্যতম প্রিয় মুখ হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এখন তারকাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের নজরে আসে। যে কারণে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, পোস্ট বা মন্তব্যও রূপ নেয় আলোচনায়। আর মধুবনী গোস্বামীর ক্ষেত্রেও ঠিক তাই-ই ঘটছে।

শাঁখা-পলা বিতর্ক – প্রথম দফার সমালোচনা

কিছুদিন আগেই মধুবনী এক অনুষ্ঠানে বা সাক্ষাৎকারে শাঁখা-পলা নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন। বাংলা সংস্কৃতিতে শাঁখা-পলা শুধু অলঙ্কার নয়, বিবাহিত নারীর এক বিশেষ চিহ্ন। তাই এই প্রসঙ্গে যে কোনও মন্তব্যই সহজেই আবেগ ছুঁয়ে যায়।

মধুবনীর মন্তব্যকে অনেকেই অসম্মানজনক বলে মনে করেছিলেন। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। যদিও তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকেই অনেকের চোখে অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

রাজা গোস্বামীর সঙ্গে ছবি এবং নতুন বিতর্ক

শাঁখা-পলা বিতর্ক থিতিয়ে আসার পর আবারও এক নতুন ঝড় ওঠে। সম্প্রতি মধুবনী স্বামী রাজা গোস্বামী-র সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন:

“টাকা দিয়ে কারও রোয়াব আমি সহ্য করি না।”

এই বাক্যই যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। অনেকে মনে করেন, এটি সরাসরি কারও উদ্দেশে লেখা। আবার অনেকেই বলেন, এভাবে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে মানানসই নয়।

ফলস্বরূপ, পোস্টের নিচে ভেসে আসে একের পর এক কটাক্ষ, সমালোচনা এবং নেতিবাচক মন্তব্য।

দর্শকের প্রতিক্রিয়া – সমালোচনার ঝড়

সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তি যেমন তারকাদের জনপ্রিয় করে তোলে, তেমনই মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের সমালোচনার মুখেও ফেলে। মধুবনীর সাম্প্রতিক পোস্টে দর্শকের প্রতিক্রিয়া ছিল কিছুটা এরকম –

  • একজন লিখেছেন: “সমগোত্রীয় শব্দটার মধ্যে লুকিয়ে আছে অহঙ্কার।”
  • আরেকজন মন্তব্য করেছেন: “নিজেকে সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা ভাবা শুরু করেছেন।”
  • অনেকেই সরাসরি কটাক্ষ করে লিখেছেন: “এইসব মন্তব্য মানায় না।”
  • কেউ কেউ তো তাঁকে ব্লক করার হুমকি দিয়েছেন।

অর্থাৎ, মধুবনীর প্রতিটি বাক্যই যেন সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

আগের পোস্ট – সম্পর্ক ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি

মধুবনী শুধু ছবি শেয়ারই করেননি, কয়েকদিন আগেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টও করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন:

“প্রত্যেক স্তরের মানুষকে সম্মান করি। সবার সঙ্গে হেসে কথা বলি, এবং সব্বাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলি। কিন্তু কেউ যদি অযাচিতভাবে দুটো কথা শুনিয়ে দেয়, তার কপাল যদি ভাল থাকে, অবিলম্বে সেই স্থান বর্জন করি। আর যদি কপাল খারাপ থাকে, তা হলে তার জায়গাটা ঠিক কোথায়, তাকে বুঝিয়ে দিয়ে, সম্পর্কে ইতি টানি।”

এই মন্তব্যও দর্শকের একাংশকে বিরক্ত করে তোলে। তাঁদের দাবি, এখানে অহংকার এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব ফুটে উঠেছে।

সমালোচনার জবাব দেননি মধুবনী

যদিও মধুবনীর ভক্তরা জানেন, তিনি খুব একটা সমালোচনার জবাব দেন না। নিজের বক্তব্যে তিনি বরাবরই স্পষ্ট – “কারও কথায় গুরুত্ব দেওয়ার মতো সময় নেই।”

তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়া একটি উন্মুক্ত মঞ্চ, যেখানে প্রত্যেকেই নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তাই সমালোচনার জবাব না দিলেও, নিজের বক্তব্য তিনি সরাসরি প্রকাশ করেন।

মধুবনীর ক্যারিয়ার – ছোটপর্দায় যাত্রা

  • মধুবনী দীর্ঘদিন ধরে বাংলা টেলিভিশনে অভিনয় করছেন।
  • জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলোতে তিনি নানান চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
  • তাঁর স্বামী রাজা গোস্বামীও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ।
  • তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়।

সাম্প্রতিক কাজ

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকে একজন আইনজীবীর চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। চরিত্রটি দর্শকের প্রশংসা পেলেও, কাজ শেষ হওয়ার পর আপাতত তিনি অভিনয় থেকে কিছুটা বিরতি নিয়েছেন।

ব্যবসায়ী রূপে মধুবনী

শুধু অভিনেত্রী নন, বর্তমানে মধুবনী একজন ব্যবসায়ীও। তিনি একটি ব্যাগ ব্র্যান্ড চালাচ্ছেন। নিজের ব্যবসায়িক কাজ নিয়েই এখন বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন।

এই দিকটা তাঁর অনেক ভক্তের কাছেই অজানা ছিল। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তিনি ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক যাত্রার গল্পও শেয়ার করছেন।

কেন বারবার বিতর্কে জড়াচ্ছেন মধুবনী গোস্বামী?

অনেকের মনে প্রশ্ন – কেন হঠাৎ করে মধুবনী এত সমালোচনার মুখে পড়ছেন? এর কিছু সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ করা যাক –

  1. সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি – তিনি প্রায়ই ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেন।
  2. স্পষ্টভাষী স্বভাব – মধুবনী নিজের মতামত নির্ভয়ে প্রকাশ করেন, যা অনেকের কাছে নেতিবাচক মনে হয়।
  3. তারকাদের প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশা – ভক্তরা সাধারণত বিনয়ী স্বভাব দেখতে চান।
  4. ভুল ব্যাখ্যা হওয়ার আশঙ্কা – তাঁর কথার অর্থ অনেক সময় ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
  5. সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল – জনপ্রিয় মুখ হওয়ায় তাঁর প্রতিটি কাজ বড় করে দেখা হয়।

আরও পড়ুনঃ কাজল আগরওয়াল: দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক আইকন

পয়েন্ট আকারে পুরো বিতর্ক

  • শাঁখা-পলা প্রসঙ্গে মন্তব্য করে সমালোচনায় পড়েছিলেন।
  • রাজা গোস্বামীর সঙ্গে ছবি দিয়ে ক্যাপশন ঘিরে নতুন বিতর্ক।
  • “টাকা দিয়ে কারও রোয়াব আমি সহ্য করি না” মন্তব্যে নেটিজেন ক্ষুব্ধ।
  • আগের পোস্টে সম্পর্ক ছিন্ন করার ইঙ্গিত দেন।
  • দর্শকের একাংশ মনে করেন, তাঁর কথায় অহঙ্কার লুকিয়ে আছে।
  • সমালোচনায় জবাব না দিয়ে নীরব থাকছেন তিনি।
  • বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যাগ ব্যবসায় ব্যস্ত।

ব্যক্তিগত জীবন – রাজা গোস্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক

মধুবনী এবং রাজা গোস্বামী টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি। তাঁদের প্রেম থেকে বিয়ে এবং সংসার—সব কিছুই দর্শকের আগ্রহের বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ছবি প্রায়ই ভাইরাল হয়।

তবে সমালোচনার মাঝেও রাজা সবসময় স্ত্রীর পাশে দাঁড়ান। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কখনও কোনও নেতিবাচক খবর শোনা যায়নি।

আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরছেন শ্রুতি দাস, স্বামী স্বর্ণেন্দুর উচ্ছ্বাসে ভক্তরা

ভক্তদের দুই মেরু প্রতিক্রিয়া

একদিকে সমালোচনা, অন্যদিকে আবার অনেক ভক্ত এখনও মধুবনীর পাশে আছেন। তাঁরা বলেন:

  • “মধুবনী স্পষ্টভাষী, তাই তাঁকে বারবার ভুল বোঝানো হচ্ছে।”
  • “একজন মানুষ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করতেই পারেন।”
  • “অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ও তিনি নিজেকে প্রমাণ করছেন।”

অর্থাৎ, মধুবনীকে ঘিরে দর্শকের মধ্যে মতবিভেদও তৈরি হয়েছে।

মধুবনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

যদিও বর্তমানে তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছেন, তবে মধুবনী জানিয়েছেন – অভিনয় ছাড়েননি। নতুন চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে শিগগিরই। অনেকেই ধারণা করছেন, ওয়েব সিরিজ কিংবা নতুন ধারাবাহিকেই তাঁর কামব্যাক হতে পারে।

অবশ্যই দেখবেন

বিষয়লিংক
বলিউডBollywood News
টলিউডTollywood News
সিরিয়ালSerial News

আমাদের পেজ টিকে ফলো করুনঃ Facebook

দুর্গাপুজো ২০২৫: ব্যবসা, পরিবার ও নতুন স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়

অভিনেত্রী সুস্মিতা রায় এখন ব্যবসা ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। দুর্গাপুজোতে অঞ্জলি, সিঁদুরখেলা আর ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়েই আলোচনায় তিনি।

বাংলা টেলিভিশন এবং সিনেমা জগতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। ছোটপর্দা থেকে শুরু করে বড়পর্দা—সব জায়গাতেই নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি শুধুমাত্র অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন আর ব্যবসা—এই তিনটিকেই সমানভাবে সামলাচ্ছেন তিনি। গত কয়েক বছরে সুস্মিতার জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষত ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েনের পর তিনি এখন নিজের মতো করে স্বপ্নপূরণের পথে এগোচ্ছেন। শুধু তাই নয়, অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি এখন উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত। সম্প্রতি তিনি একটি বড়সড় রূপচর্চা কর্মশালা আয়োজন করেছেন, যা বিপুল সাফল্য পেয়েছে। সেই কর্মশালার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে অভিনয় ছাপিয়ে নিজের ব্যবসাকেও তিনি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়

তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর সময়ের বেশিরভাগটাই কেটে যাচ্ছে পরিবার ও ব্যবসার কাজ নিয়ে। ব্যবসা আরও বড় করার পরিকল্পনা নিয়েই তিনি ব্যস্ত। টেলিভিশনের শ্যুটিং ফ্লোরে না থাকলেও তিনি সমানভাবে আলোচনায় আছেন নিজের কাজের জন্য। পরিবারকে সময় দেওয়া এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে দিয়ে তিনি নতুন জীবনযাত্রা গড়ে তুলেছেন। কাজের চাপ এখন অনেক বেশি, তাই বিশেষ করে আলাদা করে দুর্গাপুজো ২০২৫-এর জন্য আলাদা পরিকল্পনা করার সুযোগ নেই। তবে পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চান তিনি। জীবনে কিছু পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করতে চান না। তাঁর মতে, মানুষের জীবনে যেমন আনন্দ থাকে, তেমনই মন খারাপও আসে, আর তিনি তাতে কোনো ব্যতিক্রম নন।

বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো সব বাঙালির মতোই অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়ের কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি আলাদা করে পুজোর পরিকল্পনা করতে পারছেন না, তবুও উৎসবের আবহ তিনি মিস করতে চান না। তিনি জানিয়েছেন, এখনও মা’কে সঙ্গে নিয়ে কেনাকাটা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। তবে সময়ের অভাবের মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা শপিং করে নিয়েছেন। পুজোর সময় অঞ্জলি না দিলে তাঁর কাছে উৎসব অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই প্রতিবছরের মতো এই বছরও তিনি মুকুন্দপুরে নিজের বাড়ির কাছের প্যান্ডেলে অঞ্জলি দিতে যাবেন। তাঁর কথায়, অঞ্জলি দেওয়া একটি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। মা দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করার মধ্যে যে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তাই যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, দুর্গাপুজোর দিনে অঞ্জলি দেওয়া তিনি কখনও মিস করেন না।

দুর্গাপুজোর শেষ দিন বিজয়া দশমীতে সিঁদুরখেলা ছাড়া যেন উৎসব অসম্পূর্ণ। সেই বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে সুস্মিতার উচ্ছ্বাসও প্রবল। তাঁর মতে, সিঁদুরখেলা শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলাদের জন্য নয়, বরং এটি শক্তি ও শুভশক্তির প্রতীক। তিনি শাঁখা-সিঁদুর-সংসারকে ভীষণ ভালোবাসেন এবং প্রতি বছর উত্তর কলকাতায় গিয়ে সিঁদুর খেলায় যোগ দেন। তাঁর আশা, দুর্গাপুজো ২০২৫-এও সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবেন। সিঁদুরখেলার মাধ্যমে নারীশক্তি ও আনন্দের এক ভিন্ন প্রকাশ ঘটে। এটি শুধু রীতি নয়, বরং বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলেই মনে করেন তিনি।

যদিও বর্তমানে তাঁকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু দর্শকদের জন্য সুসংবাদ আছে। নতুন কিছু চরিত্রে কাজ করার বিষয়ে তিনি আলোচনা চালাচ্ছেন। তিনি চান এবার এমন চরিত্রে অভিনয় করতে যা তাঁর আগের কাজগুলোর থেকে একেবারেই আলাদা হবে। তাঁর কথায়, তিনি সবসময় চেষ্টা করেন ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করতে। দর্শকরা তাঁকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার প্রতিদান তিনি দিতে চান নতুন রূপে। এখনো নির্দিষ্ট কিছু বলতে না পারলেও তিনি আশা করছেন শিগগিরই দর্শকদের ভালো খবর দিতে পারবেন।

ব্যক্তিগত জীবনে একসময় কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হলেও এখন অনেকটা সামলে উঠেছেন তিনি। নিজের কাজ, পরিবার আর স্বপ্নের মধ্যেই খুঁজে নিচ্ছেন নতুন আনন্দ। মানুষ হিসেবে তিনি যেমন সংবেদনশীল, তেমনই দৃঢ় মানসিকতার অধিকারী। জীবনের প্রতিটি পরিবর্তনকে তিনি নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে শিখেছেন। তাঁর ভাষায়, জীবনে সবসময় সবকিছু একরকম থাকে না। পরিবর্তন আসে, আর সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই আমরা আরও পরিণত হয়ে উঠি। তাই তিনি চেষ্টা করেন প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে।

ভক্তদের প্রতিও তাঁর বিশেষ বার্তা রয়েছে। তিনি মনে করেন, দর্শক এবং ভক্তদের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। অভিনয়জীবনের মতোই ব্যবসার ক্ষেত্রেও তিনি তাঁদের সমর্থন কামনা করেন। তাঁর আশা, যেমন তাঁকে অভিনয়ের জন্য মানুষ উৎসাহ দিয়েছে, তেমনই ব্যবসার ক্ষেত্রেও পাশে থাকবে।

আরও পড়ুনঃ ফের আইনি জটিলতায় দক্ষিণী সুপারস্টার অল্লু অর্জুন, বেআইনি বহুতল নির্মাণের অভিযোগ

সব মিলিয়ে বলা যায়, দুর্গাপুজো ২০২৫-এর আগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। পরিবার, ব্যবসা আর নিজের নতুন স্বপ্ন নিয়েই এগোচ্ছেন তিনি। যদিও এই মুহূর্তে অভিনয়ে অনুপস্থিত, তবে দর্শকদের জন্য তাঁর নতুন কাজের খবর আসতে দেরি নেই। অঞ্জলি দেওয়া থেকে শুরু করে সিঁদুরখেলা—সবকিছু নিয়েই তিনি যেমন উৎসাহী, তেমনই নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্যও প্রস্তুত। পেশাদার জীবনে যেমন সাফল্যের গল্প তৈরি করছেন, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনেও খুঁজে নিচ্ছেন নতুন আলো।

বাংলার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রমাণ করেছেন, একজন নারীর জীবন শুধুমাত্র একটিমাত্র পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার, কাজ, ব্যবসা আর ব্যক্তিগত স্বপ্ন—সব মিলিয়েই জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলা যায়। আর ঠিক এই কারণেই আজও অভিনেত্রী সুস্মিতা রায় সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

তিনতলা থেকে ঝাঁপ! সাহসী স্টান্টে চমকে দিলেন অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি

অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি সিরিয়াল ‘জোয়ার ভাঁটা’-এ তিনতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে সাহসী স্টান্টে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন। শুটিং সেটে এমন দুঃসাহসিক মুহূর্ত তৈরি করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ রেখেছেন। শুধু অভিনয় নয়, পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগী আরাত্রিকা। অভিনয় ও শিক্ষাকে একসঙ্গে সামলানোয় তিনি ভক্তদের কাছে আলাদা প্রশংসা পাচ্ছেন এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার প্রতীক।

অভিনয়ের জগতে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে শিল্পীদের করতে হয় একেবারেই অচেনা এবং সাহসী কিছু কাজ। দর্শকের কাছে দৃশ্যটিকে বাস্তব ও আকর্ষণীয় করে তুলতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ঝুঁকি নিতে হয়। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি। স্টার জলসার নতুন ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’-র প্রোমো শুটিংয়ে তাঁকে একটি ভয়ঙ্কর স্টান্টে অংশ নিতে হয়, যেখানে তাঁকে সরাসরি তিনতলা থেকে ঝাঁপ দিতে হয়।

অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি

ঝাড়গ্রামের মেয়ে আরাত্রিকা ছোটবেলায় খুব সাহসী নন বলে নিজেই স্বীকার করেন। এমনকি নাগরদোলায় চড়ার অভিজ্ঞতাও তাঁর হয়নি। ফলে প্রথমবার যখন তাঁকে তিনতলা থেকে ঝাঁপ দিতে বলা হয়, তখন ভয়ের স্রোত শরীর জুড়ে বইতে শুরু করে। শুটিংয়ের মুহূর্তে তাঁর হাত-পা কাঁপছিল, মনের মধ্যে অজানা শঙ্কা কাজ করছিল।

তিনি নিজেই জানান, “অনেক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছি, তবে এই রকম স্টান্ট শুটিং আমার জীবনে প্রথম। ভেবেই শিউরে উঠছিলাম যে আমাকে তিনতলা থেকে নামতে হবে। মনে হচ্ছিল শরীর অবশ হয়ে যাবে।” এই শুটিং পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন টলিউডের অভিজ্ঞ পরিচালক রাজা চন্দ, যিনি বরাবরই তাঁর ছবিতে অ্যাকশন দৃশ্যের বাস্তবতা তুলে ধরতে বিশেষ যত্নবান।

শুধু আরাত্রিকা নন, এই ধারাবাহিকে একাধিক স্টান্ট দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছে তাঁকে এবং তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্রুতি দাসকেও। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁদের জন্য বিশেষ হার্নেস ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু তবুও ভয় থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ ছিল না। আরাত্রিকা জানালেন, “শ্রুতিদি খুব ভয় পাচ্ছিলেন, কারণ ওঁর হার্নেস নড়ছিল। আমি প্রথমে নিজেও দারুণ আতঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু শুটিং শেষ হওয়ার পর মনে হল আমি আসলে ভয়কে জয় করেছি। এখন মনে হচ্ছে যেখান থেকেই ঝাঁপ দিতে বলুক, আমি পারব।” তাঁর কথাতেই বোঝা যায়, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শুধু সাহসীই করেনি, বরং নতুন আত্মবিশ্বাসও এনে দিয়েছে।

এই ধারাবাহিকে আরাত্রিকার চরিত্রকে শক্তিশালী ও চ্যালেঞ্জিং করে তোলা হয়েছে, যাতে তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি সাহসী দিকটিও দর্শকের সামনে উঠে আসে। আগে যাঁকে মূলত নরম চরিত্রে দেখা যেত, এবার তাঁকে একেবারেই ভিন্ন রূপে পাবেন দর্শকরা। স্টান্ট দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে একজন শিল্পী হিসেবে তিনি নিজেকে ভাঙতে ও গড়তে প্রস্তুত। তাই বলা যায়, ‘জোয়ার ভাঁটা’-র এই স্টান্ট দৃশ্য শুধু প্রোমো নয়, তাঁর অভিনয় জীবনের জন্যও এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

শুধু অভিনয়েই নয়, অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগী। বর্তমানে তিনি ইংরেজি সাহিত্যের স্নাতক পর্যায়ের ছাত্রী। সকালবেলা নিয়মিত কলেজে যান, ক্লাস করেন, তারপর দৌড়ে চলে আসেন শুটিং সেটে। একদিকে পরীক্ষা, অন্যদিকে শুটিং—এই দুই দিক সামলাতে গিয়ে তাঁকে প্রবল পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু তাঁর মতে, এই দ্বৈত দায়িত্বই তাঁকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী করে তুলছে। তিনি বলেন, “আমি চাই অভিনয় আর পড়াশোনা দুটোই সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে। যেভাবে দর্শকরা আমার কাজকে ভালোবাসছেন, সেভাবেই আমি চাই পড়াশোনাতেও সফল হতে।”

আরাত্রিকা সবসময় বিশ্বাস করেন, জীবনে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মাধ্যমেই নিজের সীমা ভাঙা যায়। তাই তিনতলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার মতো কঠিন স্টান্ট করেও তিনি মনে করেন এটি তাঁর শেখার পথেরই একটি অংশ। ভয়কে জয় করার গল্প তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, বরং ভক্তদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর ভক্তরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সাহসী দৃশ্যের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ টাইমস স্কোয়ার দুর্গাপুজোর মিউজিক ভিডিওয় তারকাদের জমজমাট উপস্থিতি, ঋতুপর্ণা থেকে শ্রীময়ী সকলের নজর কাড়লেন

বাংলা ধারাবাহিকের জগতে এখন অনেক অভিনেত্রী আছেন, কিন্তু আরাত্রিকার আলাদা জায়গা তৈরি হয়েছে তাঁর অধ্যবসায়, অভিনয়শক্তি ও সাহসী মানসিকতার জন্য। ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করলেন যে একজন অভিনেত্রী শুধু রোমান্টিক বা আবেগঘন দৃশ্যে সীমাবদ্ধ নন, বরং কঠিনতম স্টান্টও সমান দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন।

সবশেষে বলা যায়, অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতির তিনতলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার এই স্টান্ট শুধু একটি শুটিং নয়, বরং তাঁর জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়। এখানে তিনি যেমন অভিনয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনই ব্যক্তিগত ভীতি জয় করে সাহসের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দর্শকরা এখন আরও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তাঁকে নতুন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে দেখতে। তাই বলা যায়, আরাত্রিকার এই সাহসী পদক্ষেপ ভবিষ্যতে তাঁর অভিনয়জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

আভেরী সিংহ রায় নতুন চমক: ‘SIT বেঙ্গল’-এ সাব ইন্সপেক্টর নীলিমার চরিত্রে

নাটক থেকে সিনেমা, ওয়েব সিরিজ—সব জায়গাতেই ছাপ ফেলেছেন আভেরী সিংহ রায়। এবার তিনি ফিরছেন ছোটপর্দায় SIT বেঙ্গল-এর মাধ্যমে। সাব ইন্সপেক্টর নীলিমা ও ফুড ভ্লগার অনন্য অন্বেষার ভূমিকায় কেমন অভিজ্ঞতা হলো তাঁর? জানুন বিস্তারিত।

অভিনয়ের শুরু থেকে আজকের যাত্রা

অভিনেত্রী আভেরী সিংহ রায়ের অভিনয়-জীবন শুরু হয়েছিল নাটকের মঞ্চে। সেখানেই তিনি অভিনয়ের প্রেমে পড়েন। মঞ্চ থেকে ছোটপর্দা, তারপর সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ—প্রতিটি ধাপে নিজের প্রতিভার প্রমাণ রেখেছেন আভেরী। তবে তিনি মনে করেন, প্রতিদিন দর্শকের কাছে পৌঁছনোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম এখনো ধারাবাহিক। তাই তিনি আবার ফিরছেন ছোটপর্দায়, একেবারে নতুন রূপে।

‘SIT বেঙ্গল’: ভিন্ন ধারার গল্প

জি বাংলা সোনার-এর নতুন ধারাবাহিক SIT বেঙ্গল বা Special Investigative Team Bengal-এ এক ঝলকেই ধরা দেবে থ্রিলার ঘরানার স্বাদ। এখানে অপরাধ, তদন্ত, টানটান উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন স্বাদের কাহিনি। আর এই সিরিজেই আভেরীকে দেখা যাবে সাব ইন্সপেক্টর নীলিমার ভূমিকায়।

সাব ইন্সপেক্টর নীলিমা: দায়িত্ববান ও আত্মনির্ভর

নীলিমা শুধু পুলিশ অফিসার নন, তিনি একজন ফুড ভ্লগারও। তাঁর চরিত্রটি দর্শকের কাছে একেবারেই নতুন। পুলিশের কাজের পাশাপাশি ফুড ভ্লগিং-এর প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তাঁকে আলাদা করে তোলে।

আভেরীর কথায়—
“প্রথমবার এরকম চরিত্রে কাজ করছি। নানারকম কেস সলভ করতে করতে আমি যেন নতুন এক জগতে ঢুকে যাচ্ছি। তার সঙ্গে ফুড ভ্লগিং-এর দিকটা দর্শকদের কাছে অন্য রকম এক আনন্দ দেবে।”

ফুড ভ্লগার অনন্য অন্বেষা

নীলিমার আরেকটি পরিচয় হলো অনন্য অন্বেষা—একজন জনপ্রিয় ফুড ভ্লগার। তাঁর ট্যাগলাইন—
“আমি খেতে ভালোবাসি, খাওয়াতেও ভালোবাসি।”

তিনি অফিসের ব্যস্ততার মাঝেও সহকর্মীদের জন্য রান্না করে নিয়ে আসেন। অনেক সময় অফিসেই রাত কাটিয়ে দেন। তাঁর চোখে অফিসই যেন আসল বাড়ি। আভেরী জানালেন,
“অফিসে আমি যতটা সময় কাটাই, মনে হয় ওটাই আমার পরিবার। কাজ করতে যেমন ভালোবাসি, তেমনই রান্না করতেও অসীম আনন্দ পাই।”

চরিত্রে নতুনত্বের স্বাদ

এতদিন আভেরীকে নানা সম্পর্কভিত্তিক চরিত্রে দেখা গেছে—দিদি, বৌদি, মা বা কাকিমা হিসেবে। কিন্তু SIT বেঙ্গল-এ তিনি প্রথমবার এমন এক চরিত্রে অভিনয় করছেন, যেখানে তাঁর স্বাধীন পরিচয় ও পেশাগত দৃঢ়তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।

তিনি বলেন—
“এমন চরিত্রে কাজ করার জন্য আমি বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। নিজের পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি চরিত্র অভিনয়ের সুযোগ খুব সহজে আসে না। তাই একে হাতছাড়া করার প্রশ্নই ওঠে না।”

টিআরপি লড়াই নিয়ে আভেরীর মত

বাংলা ধারাবাহিকের দুনিয়ায় প্রতিদিনই নতুন সিরিয়াল শুরু হচ্ছে আবার অনেক সিরিয়াল বন্ধও হয়ে যাচ্ছে। টিআরপি-র চাপ তাই বিশাল। কিন্তু আভেরী এসব নিয়ে বেশি ভাবেন না।

তিনি বলেন—
“আমার প্রতিদিন অভিনয় করা প্রয়োজন। ধারাবাহিকের আয়ু নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। ওঠাপড়া তো জীবনের অঙ্গ। একটা শেষ হলে আরেকটা শুরু হবেই। যেমন ‘তেঁতুলপাতা’ শেষ হয়ে গেল, কিন্তু সেটা কোনোভাবে আমাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।”

দর্শকের জন্য দ্বৈত আনন্দ

‘SIT বেঙ্গল’-এ দর্শকরা একসঙ্গে দুটি রূপে আভেরীকে পাবেন—একদিকে পুলিশ অফিসার নীলিমা, অন্যদিকে ফুড ভ্লগার অনন্য অন্বেষা। এই দ্বৈত পরিচয় কাহিনিকে করবে আরও আকর্ষণীয়। অপরাধ তদন্তের উত্তেজনার সঙ্গে মিশে থাকবে রান্নার মজা।

আভেরীর নিজের জীবনে ফুড ভ্লগিং

বাস্তব জীবনেও খাওয়ার প্রতি আলাদা টান আছে আভেরীর। ছোটবেলা থেকেই তিনি পেটুক বলে পরিচিত। তাই ফুড ভ্লগিং-এর চরিত্রে অভিনয় তাঁর কাছে খুব কাছের মনে হয়েছে।

অভিনেত্রীর মতে—
“আমি যদি সত্যিই ফুড ভ্লগিং শুরু করি, তবে সেটি জমে যাবে। কারণ আমি শুধু খেতে ভালোবাসি না, অন্যকে খাওয়াতেও ভীষণ আনন্দ পাই। আমার ভিডিও দেখে যদি মানুষ নতুন কিছু শিখতে পারেন, তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

দর্শকের প্রত্যাশা

বাংলা দর্শকরা নতুন গল্প, নতুন চরিত্র দেখতে ভালোবাসেন। SIT বেঙ্গল-এ আভেরীর দ্বৈত চরিত্র দর্শকদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর পর্দার ক্যারিশমা, দৃঢ় চরিত্রাভিনয় ও রান্নাবান্নার মিশ্রণ নিঃসন্দেহে টিআরপি-তে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আভেরী সিংহ রায় আবারও প্রমাণ করতে চলেছেন যে তিনি শুধু সম্পর্কভিত্তিক চরিত্রেই নন, স্বাধীন পরিচয়-সমৃদ্ধ চরিত্রেও সমান দক্ষ। SIT বেঙ্গল-এ সাব ইন্সপেক্টর নীলিমা ও ফুড ভ্লগার অনন্য অন্বেষা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ছোটপর্দায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। দর্শকরা অপেক্ষায় রয়েছেন—এই চরিত্র তাঁকে কোথায় নিয়ে যায়।

দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ের বাড়িতে বিপদ, ভরদুপুরে কী ঘটল জানুন

টলিউড তারকা দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ের বাড়িতে হঠাৎ উপস্থিত রহস্যময় ব্যক্তি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অভিনেত্রী। বিস্তারিত জেনে নিন।

অপ্রত্যাশিত বিপদে দেবচন্দ্রিমা

দুপুরবেলা যখন বাড়িতে শান্তভাবে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন টলিউড অভিনেত্রী দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায় (Debchandrima Singha Roy), তখনই ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কিছুদিন আগেই তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো—সরাসরি তাঁর ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়ে হাজির এক অচেনা ব্যক্তি।


সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মুখ থেকে সমস্যার সূত্রপাত

শুধু অভিনয় নয়, দেবচন্দ্রিমা ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত সক্রিয়। ব্র্যান্ড প্রোমোশনের কাজ তিনি প্রায়ই নিজের বাড়িতেই করেন। ফলে ডেলিভারি বয় এবং কর্মীদের যাতায়াত তাঁর বাড়িতে নিত্যদিনের ঘটনা। সেই সুযোগকেই ব্যবহার করে ঘটল এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।


দরজা খোলার পর কী ঘটল?

অভিনেত্রীর বয়ানে—
“সেদিন রক্ষী ফোন করে জানায়, কেউ আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। আমি ভেবেছিলাম কোনও ডেলিভারি বয় কিছু দিতে এসেছে। তাই দরজা খুলতেই চমকে উঠি। সামনে দাঁড়ানো ভদ্রলোক একেবারেই ডেলিভারির জন্য আসেননি।”

দেবচন্দ্রিমার দাবি, লোকটির বয়স চল্লিশের কোঠায়। তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আমাকে চিনতে পারছো না? আমরা নাকি ছ’মাস ধরে সম্পর্কে রয়েছি।” আচমকা এই দাবি শুনে একেবারে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী।


ভুয়ো প্রোফাইলের ছায়া

দেবচন্দ্রিমা আগেও জানিয়েছেন, তাঁর নামে একাধিক ফেক আইডি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেসব প্রোফাইল থেকে অনেক সময় ভক্তদের বিভ্রান্ত করা হয়। ফলে এবার তিনি ভাবছেন—এই রহস্যময় ব্যক্তি কি সেইসব ভুয়ো প্রোফাইলের শিকার? নাকি ইচ্ছে করেই কেউ তাঁকে বিপদে ফেলতে চাইছে?


আইনি পথে পদক্ষেপ

ঘটনার পর আর সময় নষ্ট করেননি দেবচন্দ্রিমা। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।


সেলিব্রিটি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা যেমন ভক্তদের কাছে কাছাকাছি নিয়ে আসে, তেমনই কিছু সময় তা হয়ে ওঠে বিপদের কারণ।


টলিউডের জনপ্রিয় মুখ দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ের বাড়িতে ঘটে যাওয়া এই অনভিপ্রেত ঘটনা ভুয়ো প্রোফাইলের সমস্যা এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সাহসের সঙ্গে অভিনেত্রী পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন এবং আইনি পথে পদক্ষেপ নিয়ে প্রমাণ করেছেন—ভয়ের কাছে হার মানা তাঁর স্বভাব নয়।

নতুন ধারার গল্প নিয়ে ফিরছেন পরিচালক রাজীব বিশ্বাস, রণিতা দাসের সঙ্গে ছোটপর্দায় নতুন জুটি

পরিচালক রাজীব বিশ্বাসের নতুন ধারাবাহিক ‘ও মোর দরদিয়া’-তে রণিতা দাসের কামব্যাক, যেখানে এক নারীর লড়াইয়ের গল্পে নতুন ধাঁচে ছোটপর্দায় ফের আলোড়ন তুলছেন তাঁরা।

নতুন মুখ, নতুন গল্প, নতুন ধরণ—এবার আবার ছোটপর্দায় ফিরছেন পরিচালক রাজীব বিশ্বাস (Rajiv Kumar Biswas)। তাঁর আসন্ন ধারাবাহিক ‘ও মোর দরদিয়া’ দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিকে কামব্যাক করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রণিতা দাস (Ranieeta Dash)। রণিতা আশাবাদী যে এই ধারাবাহিক তাঁকে আবার দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যাবে।

রাজীব বিশ্বাস জানিয়েছেন, ছোটপর্দা তিনি কখনোই ছাড়েননি। তাঁর কথায়, “আমি কখনও ছোটপর্দা ছেড়ে যাইনি। এই মাধ্যমে কাজ করতে আমি বরাবরই ভালোবাসি।”

ধারাবাহিকের শুটিং শুরু হয়েছে বোড়াল হাই স্কুলের কাছের একটি মন্দিরে। সেখানে রণিতার সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বচ্ছন্দ। তবে কি নতুন করে তৈরি হচ্ছে পরিচালক-নায়িকার জনপ্রিয় জুটি? রাজীব জানান, “আমার ধারাবাহিকে মূলত দু’জন নায়িকা—রণিতা আর সোমাশ্রী। কিন্তু গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম একজন নায়িকা দরকার। সেটা রণিতার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি, সে নিজেও অনেক দিন পর আবার ধারাবাহিকে ফিরে আসতে চেয়েছিল। এক নারীর লড়াইয়ের গল্প আগেও সে দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়েছে। এসব বিবেচনা করেই তাকে বেছে নিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, এই ধারাবাহিকে গল্প বলার ধরন বদলে দিয়েছেন তিনি। “সাধারণত সবাই প্রেম দিয়ে শুরু করে। তারপর বিয়ে, সন্তান, পারিবারিক টানাপোড়েন, বিচ্ছেদ—এই ধারাতেই গল্প এগোয়। কিন্তু আমি শুরু করছি নায়িকার মা হওয়ার গল্প দিয়ে। এটা সাধারণত বড়পর্দায় দেখা যায়, ছোটপর্দায় নয়,” বলেন তিনি।

রাজীব বিশ্বাসের পরিচালনায় এক সময়ের ব্লকবাস্টার সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘পাগলু’, ‘অমানুষ’, ‘বিক্রম সিংহ’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবি। বহুদিন ধরে বড়পর্দা থেকে দূরে থাকলেও তিনি সেই অভাব ছোটপর্দায় পূরণ করছেন। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বড় বাজেটের দুটি ছবি—‘অপারেশন জ্যাকপট’ ও ‘চিতা’র কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলো শেষ করে তবেই নতুন ছবিতে হাত দেব। এর আগে ছোটপর্দার কাজ ছাড়িনি। দীর্ঘদিন ধরে সুরিন্দর ফিল্মসের ধারাবাহিক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি।”

বর্তমানে ধারাবাহিকের অনিশ্চিত পরিবেশ নিয়েও তাঁর মাথাব্যথা নেই। “এক পুরুষ যখন নারীর হাত ছেড়ে দেয়, তখন অন্য পুরুষ কি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়? এত স্পর্শকাতর বিষয় আগে ধারাবাহিকে দেখানো হয়েছে? আমার মনে হয়, এই ধরনের গল্প থেকে দর্শক মুখ ফেরাতে পারবেন না,” মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে বড়পর্দার তারকারা ধারাবাহিকে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করছেন। শ্রাবন্তীকে নিয়ে সে রকম পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে রাজীব বলেন, “শ্রাবন্তী এখন বড়পর্দায় চুটিয়ে অভিনয় করছে। সে এখনই ছোটপর্দায় আসবে না। শুধু ধারাবাহিকের জৌলুস বাড়াতে তাকে অতিথি চরিত্রে আনব না। বরং সুযোগ পেলে বড়পর্দার জন্য ছবি বানিয়ে তাকে পরিচালনা করব।”

রাজীব বিশ্বাসের এই নতুন ধারার গল্প এবং রণিতা দাসের কামব্যাক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তাঁর অনন্য গল্প বলার ধরণ এবং নতুন বিষয় তুলে ধরার সাহস ছোটপর্দায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরছেন শ্রুতি দাস, স্বামী স্বর্ণেন্দুর উচ্ছ্বাসে ভক্তরা

শ্রুতি দাস দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরছেন ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকে, স্বামী স্বর্ণেন্দুর প্রশংসায় উজ্জীবিত হয়ে তাঁর লড়াই ও প্রত্যাবর্তনের গল্পে দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষবার ছোটপর্দায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রুতি দাস (Shruti Das)-কে। এরপর তাঁকে দর্শক মূলত বড়পর্দার সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করতে দেখেছেন। এর মধ্যে ‘ডাইনি’ সিরিজ়ে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি ‘আমার বস’ সিনেমায় তাঁর চরিত্র অভিনয় দর্শকের কাছে প্রশংসা পায়। সম্প্রতি তিনি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ ছবির শুটিং শেষ করেছেন, যা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।

তবে এই কয়েক বছরে তাঁর ক্যারিয়ারে এক ধরনের বিরতি এসেছিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানান, “বছরে খুব কম দিন শুটিং সেটে যেতে পেরেছি।” কাজের ফাঁকে নিজেকে সামলে এগিয়ে যাওয়া এবং অপেক্ষার এই সময় সহজ ছিল না। তবুও তিনি ধৈর্য নিয়ে পথ চলেছেন। অবশেষে তিনি ছোটপর্দায় ফিরে আসছেন। ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তাঁর পুনরাগমন ঘটছে। দুই বোনের আবেগঘন গল্প নিয়ে তৈরি এই ধারাবাহিকে শ্রুতিকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় দেখা যাবে।

প্রায় দু’বছর পর ছোটপর্দায় ফিরে আসার খবরে তাঁর স্বামী ও পরিচালক স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার গভীর আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর লড়াইয়ের প্রশংসা করে লেখেন,
“কোনও কিছু নিয়ে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়া কাকে বলে সেটা তোমাকে আলাদাভাবে বলার প্রয়োজন নেই। ফিরে আসা সবসময়ই আনন্দের। লড়াইয়ের মধ্যে একটা আলাদা উত্তেজনা ও শক্তি আছে। এই সংগ্রামের কথা তুমি নিজেই সবচেয়ে ভালো জানো। নিশার লড়াইটা আরও কঠিন হোক, তবুও এগিয়ে যাও।”

স্বর্ণেন্দুর এই পোস্টে ভক্তরা শ্রুতির দৃঢ়তা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করছেন। তাঁর এই ফিরে আসা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের এক অনুপ্রেরণার গল্প।

বড়পর্দা ও ওয়েব সিরিজ়ে শ্রুতির সাফল্য

ছোটপর্দায় বিরতির সময় শ্রুতি দাস থেমে থাকেননি। তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে গেছেন বড়পর্দা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। প্রথমবার ‘ডাইনি’ সিরিজ়ে তাঁর অভিনয় দর্শকের নজরে আসে। তাঁর চরিত্রের গভীরতা এবং সংযমী অভিনয় তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। এরপর ‘আমার বস’ ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়—বিশেষত তাঁর চরিত্রের আবেগময় দিক এবং বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার জন্য।

এরপর তিনি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর শুটিং সম্পন্ন করেন। এই সিনেমায় তাঁর অভিনয় নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় দর্শকের সংখ্যা বাড়ছে। ধারাবাহিকভাবে নতুন প্ল্যাটফর্মে নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাওয়ায় শ্রুতি দাস শিল্পের এক উদীয়মান মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

‘জোয়ার ভাঁটা’: নতুন অধ্যায়

ছোটপর্দায় ফিরে আসা শ্রুতি দাসের জন্য শুধু একটি প্রকল্প নয়—এটি তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের পর স্বীকৃতির নতুন দরজা। ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকে দুই বোনের সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভালোবাসা, দ্বন্দ্ব ও আত্মপরিচয়ের গল্প তুলে ধরা হবে। ধারাবাহিকটি নির্মিত হচ্ছে আধুনিক দর্শকের রুচি মাথায় রেখে।

শ্রুতি নিজে এই প্রকল্পকে তাঁর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বলে মনে করেন। ভক্তরা তাঁর ফিরে আসায় উচ্ছ্বসিত এবং ধারাবাহিকের গল্পের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ব্যক্তিজীবনের পাশে দাঁড়ানো স্বর্ণেন্দু

শ্রুতি দাসের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্বামী স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার, যিনি নিজেও একজন দক্ষ পরিচালক। দীর্ঘ বিরতির সময় শ্রুতির ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং সংগ্রাম তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে স্ত্রীকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন এবং জানান, কঠিন পরিস্থিতিতেও ফিরে আসার সাহসই আসল শক্তি।

এই সম্পর্কের গভীরতা এবং পারস্পরিক সমর্থন শ্রুতির ক্যারিয়ারের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস। অনেক দর্শক তাঁদের এই সম্পর্কের প্রশংসা করছেন এবং তা তাঁদের কাছে আদর্শ দাম্পত্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

ধৈর্য ও লড়াইয়ের গল্প

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষবার ছোটপর্দায় দেখা গিয়েছিল শ্রুতি দাসকে। এরপর তিনি বড়পর্দা ও ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। প্রায় দু’বছর কাজের বিরতির মধ্যেও তিনি আত্মবিশ্বাস বজায় রাখেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবশেষে তিনি ছোটপর্দায় ফিরেছেন। এই সময়ে তাঁর ধৈর্য, লড়াই এবং প্রত্যাবর্তনের গল্প শিল্পমহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধারাবাহিক শিল্পে প্রতিযোগিতা এবং অনিশ্চয়তা অনেক, তবুও শ্রুতি দাস নিজের দক্ষতা ও ধৈর্যের মাধ্যমে নতুন করে ফিরে আসার পথ তৈরি করেছেন। এই উদাহরণ নবীন শিল্পীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা।

মনামী ঘোষ: পুজোর মিউজিক ভিডিওতে নীল আলতার নতুন ট্রেন্ড

মনামী ঘোষের নতুন মিউজিক ভিডিওতে নীল আলতার অনন্য ফ্যাশন ট্রেন্ড, কল্কি পুরাণের ছোঁয়ায় সজ্জিত লুক পুজোর আগে টলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনামী ঘোষ (Monami Ghosh) বরাবরই তাঁর সাহসী ও সৃজনশীল ফ্যাশন স্টাইলের জন্য পরিচিত। এবার পুজোর গানের মিউজিক ভিডিওতেও সেই স্বতন্ত্র স্টাইল বজায় রাখলেন তিনি।

গত আগস্টেই লাল আলতার বদলে হাতে নীল আলতা (Nil Alta) পরে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন মনামী। সাধারণত সবাই লাল আলতা দেখতে অভ্যস্ত হলেও, তাঁর এই নীল আলতা লুক দর্শকদের নজর কাড়ে। সোমবার অবশেষে সামনে এল সেই রহস্যময় সাজের আসল গল্প।


কল্কি পুরাণের ছোঁয়া

ভিডিও টিজারে দেখা গেল মনামী ঘোষকে একেবারে ভিন্ন রূপে— লাল শাড়ি-ব্লাউজে, খোলা চুলে, হাতে নীল আলতা, রঙ মেলানো টিপ এবং সাপের মতো সর্পিল গয়নায় সজ্জিত। এই বিশেষ সাজের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর নতুন মিউজিক ভিডিও ‘কল্কি, এলো রে গৌরী’ (Kalki, Elo Re Gouri)।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, বিষ্ণুর দশম অবতার কল্কির প্রতীক রং নীল। সেই ভাবনা থেকেই মনামীর নীল আলতা ব্যবহার। আবার কল্কি পুরাণে সাপের উল্লেখ থাকায় গয়নার ডিজাইনেও রাখা হয়েছে সেই ইঙ্গিত। যদিও পুরো ভিডিও এখনো মুক্তি পায়নি, তবে ফার্স্ট লুকেই কৌতূহল চরমে।


ফ্যাশনে মনামী ঘোষের ভিন্নতা

মনামী ঘোষ শুধু অভিনয় নয়, ফ্যাশন এক্সপেরিমেন্টের জন্যও বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এর আগে কখনও প্লাস্টিকের ফ্রক, কখনও নকশিকাঁথার গাউন, আবার কখনও অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যাগ হাতে কিংবা দড়ির পোশাকে হাজির হয়ে দর্শককে অবাক করেছেন তিনি।

প্রতিবারের মতো এবারও পুজোর আগে নতুন লুক তৈরি করে ট্রেন্ডসেট করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর নীলাম্বরী ফ্যাশন স্টেটমেন্ট ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।


👉 Monami Ghosh new look আবারও প্রমাণ করল, তিনি শুধু একজন টলিউড অভিনেত্রী নন, বরং এক ফ্যাশন আইকন, যিনি প্রতিবারই দর্শকদের সামনে নতুন এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে হাজির হন।

অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়: দক্ষিণ কলকাতার কাউন্সিলর থেকে টলিউডের নায়িকা

দক্ষিণ কলকাতার কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ‘রক্তবীজ ২’-এ র’-এর এজেন্ট ‘রিয়া’। আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতা জানালেন এই টলিউড অভিনেত্রী।

দক্ষিণ কলকাতার কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় (Ananya Banerjee) রাজনীতির পাশাপাশি অভিনয়েও সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন। বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা—দুই জায়গাতেই তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। এবারের দুর্গাপুজোয় মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নতুন ছবি ‘রক্তবীজ ২’ (Raktabeej 2), যেখানে তিনি অভিনয় করছেন র’ (RAW)-এর এজেন্ট ‘রিয়া’ চরিত্রে। ছবিতে তাঁর বস চরিত্রে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee)।

এটা কিন্তু প্রথম নয়, অনন্যা আগেও একাধিকবার পুলিশ বা অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আনন্দবাজার অনলাইনকে তিনি হেসে বললেন, “পরিচালকেরা আমার মধ্যে কেন যেন পুলিশ অফিসারের ছায়া খুঁজে পান। কেন খুঁজে পান, আমি নিজেও জানি না!”


অভিনয়ের শুরু এবং প্রথম বড় সুযোগ

অভিনয় জগতে অনন্যার যাত্রা শুরু হয়েছিল দেবের সুপারহিট ছবি ‘প্রধান’ দিয়ে। সেখানেই তিনি প্রথমবার পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এরপর জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিত্তির বাড়ি’তেও তাঁকে একই ভূমিকায় দেখা যায়।

‘রক্তবীজ ২’ ছবিতে যুক্ত হওয়ার গল্পটাও বেশ আলাদা। অনন্যা জানান, “২০১২ সালে দিল্লিতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। সেদিন রাষ্ট্রপতি ভবন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা ভোলার নয়। তাই গোয়েন্দা এজেন্টের চরিত্রের প্রস্তাব আসতেই আমি রাজি হয়ে যাই।”

নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় বহু দিনের। ‘বহুরূপী’ ছবির প্রচারেও তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, “ওঁদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ অনেক দিন ধরে চেয়েছিলাম। এবার সেটাই পূর্ণ হল।”


আবীর চট্টোপাধ্যায়কে সহশিল্পী হিসেবে পাওয়া

টলিউডের প্রায় সব নায়িকা যাঁকে বিপরীতে দেখতে চান, সেই আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? অনন্যার সোজাসাপ্টা উত্তর, “রাজনীতির কারণে আমি বাস্তবকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই কারও প্রতি বিশেষ ফ্যান্টাসি নেই। বরং আমি খেয়াল করেছি, আবীর ইউনিটের অন্যদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করছেন।”

তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আবীরের মধ্যে কোনো তারকাসুলভ দূরত্ব নেই। বরং তিনি সবার সঙ্গে সমানভাবে মিশে যান এবং সহযোগিতা করতে সবসময় প্রস্তুত থাকেন। হাসতে হাসতে অনন্যা যোগ করেন, “আবীর আমার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। শুটিংয়ের ফাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ভোটটা আমাকেই দেন তো? উনি শুধু হেসে উত্তর দিয়েছেন।”


চরিত্রের জন্য কঠিন প্রস্তুতি

RAW এজেন্ট ‘রিয়া’-র চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অনন্যাকে কেবলমাত্র জিমে শরীরচর্চাই নয়, আরও কঠিন শারীরিক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। তিনি জানান, “এই চরিত্রে প্রচুর দৌড়ঝাঁপ, লাফঝাঁপ এবং অ্যাকশন দৃশ্য ছিল। শুধু ট্রেডমিল বা সাধারণ এক্সারসাইজে সেটা সম্ভব নয়। আমাকে আলাদা ধরনের ট্রেনিং নিতে হয়েছে।”

কখনও সাবানজলে ভেজা মেঝেতে দৌড়, কখনও লম্বা লাফ—সবই করতে হয়েছে তাঁকে। তবে কোনও শটেই আঘাত পাননি, বরং প্রতিটি দৃশ্যে সফলভাবে টেক দিয়েছেন। অনন্যার ভাষায়, “নন্দিতাদি ও শিবুদা দু’জনেই খুঁতখুঁতে। আবীরও তাই। নিখুঁত শটের জন্য একাধিকবার রিটেক হয়েছে, কিন্তু আমি প্রতিবারই সেটা করতে পেরেছি।”


নন্দিতা রায়ের নেতৃত্বে শুটিং অভিজ্ঞতা

শুটিং চলাকালীন পরিচালক নন্দিতা রায়ের কাজের ধরন দেখে অনন্যা মুগ্ধ। তিনি বলেন, “বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে মহিলা পরিচালক হাতে গোনা। সেখানে নন্দিতাদি যেভাবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন, সেটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”

ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত অভিনেত্রী সায়ন্তনী মল্লিক, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা

জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী সায়ন্তনী মল্লিক হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। পাশে রয়েছেন স্বামী অভিনেতা ইন্দ্রনীল।

টেলিভিশনের পর্দায় ব্যস্ত সময় কাটছিল সায়ন্তনী মল্লিক-এর। শুটিং, রিহার্সাল, দৌড়ঝাঁপ—সবই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ এক সন্ধ্যায় টিভি দেখতে বসেই ঘটে গেল বড় বিপদ। সুস্থ-সবল এই অভিনেত্রী আচমকাই আক্রান্ত হলেন ব্রেন স্ট্রোকে।

সম্প্রতি জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘অনুরাগের ছোঁয়া’র কাজ শেষ করেছিলেন সায়ন্তনী। কয়েকদিন ছুটি নিয়ে বাড়িতে নিজের মতো সময় উপভোগ করছিলেন তিনি। গত বুধবার হঠাৎ শরীরে অস্বস্তি অনুভব করেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান স্বামী, জনপ্রিয় অভিনেতা ইন্দ্রনীল।

ডাক্তারের রিপোর্টে ধরা পড়ে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে স্ট্রোক হয়েছে। চিকিৎসকদের তৎপরতায় দ্রুত শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। প্রায় তিনদিন হাসপাতালে থাকার পর রবিবার বাড়ি ফিরেছেন তিনি। যদিও পুরোপুরি সুস্থ হতে অন্তত দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বামী ইন্দ্রনীলের পাশে সবসময় সায়ন্তনী

ইন্দ্রনীল জানিয়েছেন, “ভাগ্যিস শুটিং সেটে এমনটা হয়নি, নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।” তাই ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দু’জনেই।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। হাসপাতালের পোশাক পরা অবস্থাতেই লিখেছেন, “তোমাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকা সম্ভব হত না। ঈশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”

দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়ের অভিযোগ: নিজের শহরেই হেনস্থার শিকার, নিরাপত্তাহীনতায় কলকাতা ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী

কলকাতায় নিজের আবাসনে হেনস্থার শিকার অভিনেত্রী দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়। চরম নিরাপত্তাহীনতায় দেহরক্ষী নিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন, প্রয়োজনে শহর ছাড়ার কথাও ভাবছেন তিনি।

টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায় কলকাতার বুকে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। নিজের বাসভবনে হেনস্থার শিকার হয়ে বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। এই ঘটনার পর তিনি কলকাতা পুলিশের সহায়তায় দেহরক্ষী নিয়োগ করেছেন। তবে এ সিদ্ধান্ত তাঁকে আরও অস্বস্তিতে ফেলেছে। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি এমন কেউ নই, যিনি দেহরক্ষী নিয়ে ঘোরেন। কিন্তু এখন বাধ্য হয়েই সেটা করতে হচ্ছে।”

রবিবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই ঘটনার কথা শেয়ার করে দেবচন্দ্রিমা লেখেন,
“নিজের শহরে, নিজের চেনা ফ্ল্যাটে এমন হেনস্থার মুখোমুখি হতে হবে—স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি আতঙ্কে কাঁপছি। আজ যে শহরে জন্মেছি, বড় হয়েছি, সেটাই এখন অচেনা লাগছে।”

অভিনেত্রী জানান, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাঁর নাম জড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে মিথ্যে ও বিভ্রান্তিকর খবর। কখনও তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কখনও তাঁর পেশাগত জীবন নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন আগেই।

দেবচন্দ্রিমা আরও জানান,
“এই মুহূর্তে নিজেকে একদমই নিরাপদ মনে করছি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে। কিন্তু কেন, কে করছে, বুঝতে পারছি না।”

এই ঘটনার জেরে দেবচন্দ্রিমা এতটাই ভীত হয়ে পড়েছেন যে, নিজের শহর কলকাতা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। তিনি বলেন,
“কলকাতা এখন আর আমার কাছে আগের মতো নয়। প্রয়োজন হলে এই শহর ছেড়ে চলে যাব।”

রবিবারের ঘটনার বিস্তারিত তিনি কলকাতা পুলিশকে জানিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশি পর্যবেক্ষণে থাকলেও মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত। তাঁর মতে, শহরে থেকে এখন আর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

অভিনেত্রীর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তাতেও মেলেনি কোনও উত্তর।