প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়: পুজোয় ফিরছেন ‘দেবী চৌধুরাণী’ নিয়ে

পুজোয় আসছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘দেবী চৌধুরাণী’। ঐতিহাসিক চরিত্র ভবানী পাঠকে দেখা যাবে তাঁকে। বাংলা ছবির প্রাইম টাইম শো নিয়ে আশাবাদী অভিনেতা জানালেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

বেজ-খয়েরি পোশাকে সোনালি জরির ছোঁয়া। পাঞ্জাবি-পাজামায় স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় হাজির বাংলা ছবির ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সাক্ষাৎকার শুরু হতেই স্পষ্ট, তাঁর ফোকাস এখন একটাই— পুজোর বড় মুক্তি ‘দেবী চৌধুরাণী’।

পুজোয় ফের বড় পর্দায় প্রসেনজিৎ

অভিনেতা জানালেন— “গত বছর পুজোয় ছবি আনতে পারিনি, আমিও খালি ছিলাম, দর্শকরাও। এ বছর দেবীপক্ষে আসছি ‘দেবী চৌধুরাণী’ নিয়ে। এটা শুধু সিনেমা নয়, বাংলার জন্য এক উৎসব।”

ঐতিহাসিক চরিত্রে নতুন অধ্যায়

লালন ফকির, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসের চরিত্র— একাধিক ঐতিহাসিক রূপে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে এবার প্রথমবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে। “এটাই হ্যাঁ বলার আসল কারণ,” বললেন প্রসেনজিৎ।

প্রচারে নতুন কৌশল

আজকের প্রচার মানেই শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নয়। প্রসেনজিৎ বললেন— “সোশ্যাল মিডিয়া বদলে দিয়েছে যোগাযোগের রাস্তা। আবারও গ্রাম-গঞ্জে পৌঁছনো যাচ্ছে। দেব যেভাবে ‘রঘু ডাকাত’ নিয়ে সর্বত্র পৌঁছচ্ছে, সেটাই এখন প্রয়োজন।”

এনার্জির রহস্য

“আমার শক্তি একার নয়, দলের। মানুষের ভালোবাসা আর আবেগই আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়,” বললেন বাংলা ছবির এই কিংবদন্তি।

চ্যালেঞ্জিং ‘ভবানী পাঠক’

‘দেবী চৌধুরাণী’-তে তিনি হচ্ছেন ভবানী পাঠক— সাধক ও যোদ্ধা দুই-ই। “এমন চরিত্র ধারণ করা কঠিন, কিন্তু একেই আমি অভিনয়ের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ মনে করি,” জানালেন প্রসেনজিৎ।

বাংলা ছবির জয়যাত্রা

তিনি খুশি যে সারা বছর এখন বাংলা ছবির জন্য প্রেক্ষাগৃহে প্রাইম টাইম শো নিশ্চিত হয়েছে। “এটা ঐতিহাসিক। দর্শক এখনও ভালো সিনেমা দেখতে আসেন, এবার সেই সময়টাও পাবেন পরিচালকেরা,” মত প্রসেনজিতের।

দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

তিনি প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর প্রচেষ্টায় আছেন। বললেন— “ইন্ডাস্ট্রি আমাকে অনেক দিয়েছে। আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু করে যাওয়া আমার কাজ।”

ছেলে তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বললেন— “ওর লড়াই ওর নিজের। আমি কিছু করছি না। নিজেকে ওকেই প্রমাণ করতে হবে।”

উত্তরসূরি ও আগামী প্রজন্ম

দেব, জিৎ, অঙ্কুশদের নিয়ে তিনি আশাবাদী। “ওরা শুধু স্টার নয়, দায়িত্বশীলও। বাংলা ছবিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো মানসিকতা আছে ওদের,” বললেন প্রসেনজিৎ।

পরিচালনায় আসছেন প্রসেনজিৎ

তিনি আগামী বছরে পরিচালনায় নামবেন। তবে নতুন মুখ নেওয়া হবে কি না, তা এখনও ঠিক হয়নি।

জীবনের উপলব্ধি

“আমি ক্যালকুলেটিভ, ম্যানিপুলেটিভ— কারণ টিকে থাকতে গেলে তাই করতে হয়। পরিচালকরাই আমাকে সেরা চরিত্র দিয়েছেন, তাঁদের ভিশন পূরণ করাই আমার কাজ,” খোলাখুলি স্বীকার করলেন তিনি।

শেষে বললেন— “আমি আর প্রতিযোগিতায় নেই। নাম্বার গোনার খেলায়ও নেই। আমি শুধু ভালো চরিত্রে অভিনয় করব। কারণ ভালো কাজই থেকে যায় ইন্ডাস্ট্রির জন্য।”

মনামী ঘোষ: পুজোর মিউজিক ভিডিওতে নীল আলতার নতুন ট্রেন্ড

মনামী ঘোষের নতুন মিউজিক ভিডিওতে নীল আলতার অনন্য ফ্যাশন ট্রেন্ড, কল্কি পুরাণের ছোঁয়ায় সজ্জিত লুক পুজোর আগে টলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনামী ঘোষ (Monami Ghosh) বরাবরই তাঁর সাহসী ও সৃজনশীল ফ্যাশন স্টাইলের জন্য পরিচিত। এবার পুজোর গানের মিউজিক ভিডিওতেও সেই স্বতন্ত্র স্টাইল বজায় রাখলেন তিনি।

গত আগস্টেই লাল আলতার বদলে হাতে নীল আলতা (Nil Alta) পরে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন মনামী। সাধারণত সবাই লাল আলতা দেখতে অভ্যস্ত হলেও, তাঁর এই নীল আলতা লুক দর্শকদের নজর কাড়ে। সোমবার অবশেষে সামনে এল সেই রহস্যময় সাজের আসল গল্প।


কল্কি পুরাণের ছোঁয়া

ভিডিও টিজারে দেখা গেল মনামী ঘোষকে একেবারে ভিন্ন রূপে— লাল শাড়ি-ব্লাউজে, খোলা চুলে, হাতে নীল আলতা, রঙ মেলানো টিপ এবং সাপের মতো সর্পিল গয়নায় সজ্জিত। এই বিশেষ সাজের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর নতুন মিউজিক ভিডিও ‘কল্কি, এলো রে গৌরী’ (Kalki, Elo Re Gouri)।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, বিষ্ণুর দশম অবতার কল্কির প্রতীক রং নীল। সেই ভাবনা থেকেই মনামীর নীল আলতা ব্যবহার। আবার কল্কি পুরাণে সাপের উল্লেখ থাকায় গয়নার ডিজাইনেও রাখা হয়েছে সেই ইঙ্গিত। যদিও পুরো ভিডিও এখনো মুক্তি পায়নি, তবে ফার্স্ট লুকেই কৌতূহল চরমে।


ফ্যাশনে মনামী ঘোষের ভিন্নতা

মনামী ঘোষ শুধু অভিনয় নয়, ফ্যাশন এক্সপেরিমেন্টের জন্যও বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এর আগে কখনও প্লাস্টিকের ফ্রক, কখনও নকশিকাঁথার গাউন, আবার কখনও অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যাগ হাতে কিংবা দড়ির পোশাকে হাজির হয়ে দর্শককে অবাক করেছেন তিনি।

প্রতিবারের মতো এবারও পুজোর আগে নতুন লুক তৈরি করে ট্রেন্ডসেট করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর নীলাম্বরী ফ্যাশন স্টেটমেন্ট ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।


👉 Monami Ghosh new look আবারও প্রমাণ করল, তিনি শুধু একজন টলিউড অভিনেত্রী নন, বরং এক ফ্যাশন আইকন, যিনি প্রতিবারই দর্শকদের সামনে নতুন এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে হাজির হন।

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও ডিভোর্স বিতর্কে টলিউড অভিনেত্রী

টলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়ের ডিভোর্স, ব্যক্তিগত বিতর্ক ও নতুন ব্যবসায়িক যাত্রা ঘিরে নেটপাড়ায় আলোচনার ঝড়। জানুন তাঁর সর্বশেষ বক্তব্য, সিঁদুর বিতর্ক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া।

টলিউডের জনপ্রিয় মুখ সুস্মিতা রায় (Sushmita Roy) আবারও আলোচনায়। একসময় অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করা এই অভিনেত্রী বর্তমানে ফোকাস করেছেন নিজের ব্যবসায়িক সংস্থার দিকে। তবে পেশাদার জীবনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নেটপাড়ায়।


ডিভোর্স নিয়ে চর্চা

বছরের শুরুতেই প্রকাশ্যে আসে, স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তী-র সঙ্গে সুস্মিতার বিবাহবিচ্ছেদ হতে চলেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ সহানুভূতি দেখান, আবার অনেকেই তীব্র সমালোচনা করেন। এমনকি অভিনেত্রী ও তাঁর মাকে নিয়ে কটূক্তিও ছোড়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।


সিঁদুর বিতর্কে নজর কাড়লেন অভিনেত্রী

বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসার পরও সিঁদুর পরে অনুষ্ঠান বা প্রকাশ্য মঞ্চে হাজির হওয়ায় নতুন বিতর্কে জড়ান সুস্মিতা। এ প্রসঙ্গে তিনি পরিষ্কারভাবে জানান—
“আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমার সিঁদুর পরা স্বাভাবিক ব্যাপার।”

তাঁর এই মন্তব্যে যেমন কড়া সমালোচনা হয়েছে, তেমনই অনেকেই সমর্থন করেছেন তাঁর সিদ্ধান্তকে। এ ছাড়া তাঁর পোশাক, ব্যক্তিত্ব, এমনকি প্রকাশ্যে আসার ধরন নিয়েও নানা মন্তব্য করছে নেটিজেনদের একাংশ।


অবশেষে মুখ খুললেন সুস্মিতা রায়

দীর্ঘ সময় চুপ থাকার পর অবশেষে এক ভিডিও বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানান অভিনেত্রী। তাঁর কথায়—
“সবটা বলব না, তবে কিছু বিষয় বলতেই হবে। আমার ব্যবসায়িক কাজকর্ম কেমন চলছে, কীভাবে আমি উদ্যোক্তা হলাম— সেসব পুরোটা নয়, কিন্তু কিছুটা অবশ্যই ভাগ করব। ভালো মন্তব্য শক্তি জোগায়, খারাপগুলো কষ্ট দেয়। আমি তো রক্তমাংসের মানুষ, তাই নিজের সঙ্গে লড়াই করেই এগোই।”

ডিভোর্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
“আমরা দু’জনেই জানিয়েছি, এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলব না। তবুও আলোচনা থামছে না। সাম্প্রতিক সময়ে আমি আর আমার মা হয়ে উঠেছি নানা সমালোচনার লক্ষ্য। কিন্তু আমাদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে আক্রমণ হয়েছে, সেটিও এক ধরনের মানসিক নির্যাতন।”


শক্ত বার্তা সমাজকে

সুস্মিতা স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তোলেন—
“যখন কোনও মেয়ের ধর্ষণ হয়, তখন প্রতিবাদ ওঠে। কিন্তু দিনের পর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে আর আমার মাকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, সেটি কি সামাজিক ধর্ষণ নয়? ডিভোর্স হলে কি সবসময় মেয়েকেই দায়ী হতে হবে?”


👉 Tollywood actress Sushmita Roy প্রমাণ করে দিলেন, তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন, বরং সাহসী কণ্ঠস্বর, যিনি জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে জানেন।

দিব্যানি মণ্ডল: ছোটপর্দার ‘ফুলকি’ থেকে বাস্তব জীবনের ব্ল্যাকবেল্ট নায়িকা

বাংলা টেলিভিশনের অভিনেত্রী দিব্যানি মণ্ডল ‘ফুলকি’ সিরিয়াল দিয়েই জনপ্রিয় হন। জন্মদিনে ভাইরাল ছবি, ব্ল্যাকবেল্ট ক্যারাটে দক্ষতা ও অভিষেক বসুর সঙ্গে জুটি তাঁকে দর্শকের প্রিয় করে তুলেছে।

বাংলা টেলিভিশনের নতুন প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ দিব্যানি মণ্ডল (Divyani Mondol)। প্রথম মেগা সিরিয়াল ‘ফুলকি’ (Phulki) দিয়েই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। ডেবিউ কাজের পরই রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান এই তরুণী নায়িকা। ভক্তদের উচ্ছ্বাসও স্পষ্ট তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারদের সংখ্যা আর কমেন্ট বক্সের প্রশংসায়।

ভাইরাল জন্মদিনের ফটোশুট

সম্প্রতি ২১ বছরে পা দিলেন দিব্যানি। বিশেষ দিনটিতে শেয়ার করলেন একঝাঁক ছবি। ঘিয়ে রঙা অফ-শোল্ডার লং ড্রেসে তাঁর গ্ল্যামারাস লুক ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সঙ্গে মানানসই জুয়েলারি পরায় তাঁর সাজ আরও নজরকাড়া হয়ে উঠেছে। মুহূর্তগুলো আসলে তাঁর জন্মদিন পার্টিরই বিশেষ আয়োজন, যা ভক্তরা দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন।

পড়াশোনা বনাম অভিনয়

কলেজে ইংরেজি অনার্সে পড়াশোনা চলাকালীনই ‘ফুলকি’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পান দিব্যানি। তবে ব্যস্ত শিডিউলের কারণে অনার্স সম্পূর্ণ করতে পারেননি। শিক্ষক পরিবার থেকে আসা দিব্যানির ইচ্ছে, ভবিষ্যতে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবার পড়াশোনা শেষ করার।

খেলাধুলায় পারদর্শী দিব্যানি

পর্দায় বক্সার ‘ফুলকি’, বাস্তবেও খেলাধুলায় সমান দক্ষ। দিব্যানি হলেন ক্য়ারাটে গুরু দেবাশিস মণ্ডলের (Debasish Mondal) মেয়ে এবং ছোটবেলা থেকেই মার্শাল আর্ট চর্চা করছেন। বাস্তবে তিনি ব্ল্যাকবেল্ট হওয়ায় সিরিয়ালের অ্যাকশন বা মারপিটের দৃশ্যগুলো খুব স্বাভাবিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

ফুলকি সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা

২০২৩ সালের জুনে শুরু হয় ‘ফুলকি’। এই ধারাবাহিক দিয়েই টেলিভিশনে অভিষেক হয় দিব্যানির। এখানে তাঁর অনস্ক্রিন পার্টনার ছিলেন অভিষেক বসু (Abhishek Bose)। ‘রোহিত স্যার’ আর ‘ফুলকি’র জুটি দর্শকের কাছে এতটাই প্রিয় হয়ে ওঠে যে টিআরপি তালিকায় টানা কয়েক মাস ধরে শীর্ষে ছিল এই সিরিয়াল।

দেবের রঘু ডাকাত: পুজোতেই বড়পর্দায় আসছে টলিউড সুপারস্টারের নতুন চমক

দুর্গাপুজোয় মুক্তি পাচ্ছে দেবের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘রঘু ডাকাত’। উত্তরবঙ্গজুড়ে চলছে প্রচার সফর, শিলিগুড়িতে ভক্তদের সঙ্গে জমজমাট মুহূর্ত ও আসছে গ্র্যান্ড ট্রেলার লঞ্চ।

আসছে দুর্গাপুজো, আর তার সঙ্গেই মুক্তি পাচ্ছে দেবের (Dev) বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘রঘু ডাকাত’ (Raghu Dakat)। মাত্র আঠেরো দিনের অপেক্ষা। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বড়পর্দায় দেখা যাবে দেবকে রক্তমাখা খড়্গ হাতে রঘু ডাকাতের চরিত্রে। ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে।

উত্তরবঙ্গে দেবের হাইভোল্টেজ প্রচার

রিলিজের আগে শুরু হয়েছে ছবির জোরদার প্রচার। মালদা, রায়গঞ্জ পেরিয়ে সোমবার দেব পৌঁছলেন শিলিগুড়ি। সেখানে ভক্তদের জন্য উপহার দিলেন একের পর এক চমক। কখনও ঘিস নদীতে জাল-ছিপ হাতে মাছ ধরতে নেমে পড়লেন, আবার কখনও পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় (Dhrubo Banerjee) ও সহ-অভিনেত্রী ইধিকা পালকে (Idhika Paul) পাশে নিয়ে সেবক কালীমন্দিরে পুজো করলেন ছবির সাফল্যের আশায়। টিমে ছিলেন ওম সাহানি (Om Prakash Sahani), অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya) ও সোহিনী সরকারও (Sohini Sarkar)।

শিলিগুড়িতে পৌঁছতেই নেপালি সম্প্রদায়ের সদস্যরা দেবকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন। ডুয়ার্সের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও সাধারণ মানুষ ছুটে আসেন সুপারস্টারকে এক ঝলক দেখতে। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রচারে জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ট্রেলার লঞ্চে উৎসবের আবহ

ছবির ট্রেলার মুক্তি পাবে ২০ সেপ্টেম্বর, কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে (Netaji In-Door Stadium)। সেই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ফাঁক না রাখতে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগেই দেব বৈঠক করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার বর্মার (Manoj Kumar Verma) সঙ্গে।

‘ধূমকেতু’র মতো এবারও তিনি চান ট্রেলার লঞ্চ পরিণত হোক এক বিশাল উৎসবে। ফলে ভক্তদের প্রতীক্ষা এখন আরও বেড়ে গিয়েছে।

অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়: দক্ষিণ কলকাতার কাউন্সিলর থেকে টলিউডের নায়িকা

দক্ষিণ কলকাতার কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ‘রক্তবীজ ২’-এ র’-এর এজেন্ট ‘রিয়া’। আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতা জানালেন এই টলিউড অভিনেত্রী।

দক্ষিণ কলকাতার কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় (Ananya Banerjee) রাজনীতির পাশাপাশি অভিনয়েও সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন। বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা—দুই জায়গাতেই তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। এবারের দুর্গাপুজোয় মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নতুন ছবি ‘রক্তবীজ ২’ (Raktabeej 2), যেখানে তিনি অভিনয় করছেন র’ (RAW)-এর এজেন্ট ‘রিয়া’ চরিত্রে। ছবিতে তাঁর বস চরিত্রে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee)।

এটা কিন্তু প্রথম নয়, অনন্যা আগেও একাধিকবার পুলিশ বা অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আনন্দবাজার অনলাইনকে তিনি হেসে বললেন, “পরিচালকেরা আমার মধ্যে কেন যেন পুলিশ অফিসারের ছায়া খুঁজে পান। কেন খুঁজে পান, আমি নিজেও জানি না!”


অভিনয়ের শুরু এবং প্রথম বড় সুযোগ

অভিনয় জগতে অনন্যার যাত্রা শুরু হয়েছিল দেবের সুপারহিট ছবি ‘প্রধান’ দিয়ে। সেখানেই তিনি প্রথমবার পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এরপর জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিত্তির বাড়ি’তেও তাঁকে একই ভূমিকায় দেখা যায়।

‘রক্তবীজ ২’ ছবিতে যুক্ত হওয়ার গল্পটাও বেশ আলাদা। অনন্যা জানান, “২০১২ সালে দিল্লিতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। সেদিন রাষ্ট্রপতি ভবন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা ভোলার নয়। তাই গোয়েন্দা এজেন্টের চরিত্রের প্রস্তাব আসতেই আমি রাজি হয়ে যাই।”

নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় বহু দিনের। ‘বহুরূপী’ ছবির প্রচারেও তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, “ওঁদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ অনেক দিন ধরে চেয়েছিলাম। এবার সেটাই পূর্ণ হল।”


আবীর চট্টোপাধ্যায়কে সহশিল্পী হিসেবে পাওয়া

টলিউডের প্রায় সব নায়িকা যাঁকে বিপরীতে দেখতে চান, সেই আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? অনন্যার সোজাসাপ্টা উত্তর, “রাজনীতির কারণে আমি বাস্তবকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই কারও প্রতি বিশেষ ফ্যান্টাসি নেই। বরং আমি খেয়াল করেছি, আবীর ইউনিটের অন্যদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করছেন।”

তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আবীরের মধ্যে কোনো তারকাসুলভ দূরত্ব নেই। বরং তিনি সবার সঙ্গে সমানভাবে মিশে যান এবং সহযোগিতা করতে সবসময় প্রস্তুত থাকেন। হাসতে হাসতে অনন্যা যোগ করেন, “আবীর আমার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। শুটিংয়ের ফাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ভোটটা আমাকেই দেন তো? উনি শুধু হেসে উত্তর দিয়েছেন।”


চরিত্রের জন্য কঠিন প্রস্তুতি

RAW এজেন্ট ‘রিয়া’-র চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অনন্যাকে কেবলমাত্র জিমে শরীরচর্চাই নয়, আরও কঠিন শারীরিক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। তিনি জানান, “এই চরিত্রে প্রচুর দৌড়ঝাঁপ, লাফঝাঁপ এবং অ্যাকশন দৃশ্য ছিল। শুধু ট্রেডমিল বা সাধারণ এক্সারসাইজে সেটা সম্ভব নয়। আমাকে আলাদা ধরনের ট্রেনিং নিতে হয়েছে।”

কখনও সাবানজলে ভেজা মেঝেতে দৌড়, কখনও লম্বা লাফ—সবই করতে হয়েছে তাঁকে। তবে কোনও শটেই আঘাত পাননি, বরং প্রতিটি দৃশ্যে সফলভাবে টেক দিয়েছেন। অনন্যার ভাষায়, “নন্দিতাদি ও শিবুদা দু’জনেই খুঁতখুঁতে। আবীরও তাই। নিখুঁত শটের জন্য একাধিকবার রিটেক হয়েছে, কিন্তু আমি প্রতিবারই সেটা করতে পেরেছি।”


নন্দিতা রায়ের নেতৃত্বে শুটিং অভিজ্ঞতা

শুটিং চলাকালীন পরিচালক নন্দিতা রায়ের কাজের ধরন দেখে অনন্যা মুগ্ধ। তিনি বলেন, “বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে মহিলা পরিচালক হাতে গোনা। সেখানে নন্দিতাদি যেভাবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন, সেটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”

দুর্গাপূজা 2025-এ নুসরাত জাহান: অভিনেত্রী ভাগ করেছেন কীভাবে মাতৃত্ব তার উৎসব উদযাপনকে বদলে দিয়েছে

অভিনেত্রী নুসরত জাহান শেয়ার করলেন দুর্গাপুজো ২০২৫-এর পরিকল্পনা, ছেলে ঈশানকে নিয়ে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা, শৈশবের স্মৃতি, খাবার-পোশাক ও নতুন ছবির খবর।

শরতের নীল আকাশ জানান দিচ্ছে—দুর্গাপুজো আসন্ন। ইতিমধ্যেই শহরের অলিগলিতে বাঁশ বাঁধা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সময়টা সেলিব্রিটিদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময়—উদ্বোধন, পরিক্রমা, ফটোশুট, বিজ্ঞাপনের কাজ সব মিলিয়ে কাজের চাপ থাকে তুঙ্গে। তবে অভিনেত্রী নুসরত জাহানের জীবনে পুজো একেবারেই বদলে গিয়েছে ছেলের জন্মের পর থেকে। ছোট্ট ঈশান এখন পুজোর মাহাত্ম্য বোঝে, তাই মায়ের কাছে সময় চায় আরও বেশি। দক্ষিণ কলকাতার এক ক্যাফেতে ‘চারুলতা’ সাজতে সাজতে নুসরত জানালেন তাঁর Puja plans এবং মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা।

কপালে লাল টিপ, খোপা করা চুল, লাল সুতির শাড়ির সঙ্গে ক্রুশের কাজ করা ব্লাউজ—একেবারে ঐতিহ্যবাহী Puja look-এ ধরা দিলেন নায়িকা। ফটোশুটের ফাঁকেই ফোনে ছেলের খবর নিচ্ছিলেন তিনি। নুসরতের কথায়, “ঈশান হওয়ার পর আমি ভেতর থেকে বদলে গিয়েছি। মনে হয় নতুন করে আবার দুর্গাপুজো দেখছি। গত বছর ঢাকের তালে নাচতে ওর খুব ভাল লেগেছিল, আর এ বছর তো নিজেই ‘ঠাকুর ঠাকুর’ বলছে।”

দুর্গাপুজোর আলোয় ঝলমল করা শহর দেখতে দারুণ ভালবাসে ঈশান। মায়ের চোখ দিয়েও নয়, এবার নুসরত শহরের আলোকসজ্জা দেখছেন ছেলের চোখ দিয়ে।

নুসরাতের দুর্গাপূজার পরিকল্পনা

নায়িকা জানালেন, “সংসার আর সন্তান হওয়ার পর অনেকেই নিজের জন্য সময় রাখেন না, কিন্তু আমি সেই তালিকায় নেই। কিছুদিন আগে বেনারস গিয়ে শাড়ি কিনেছি, ব্লাউজও তৈরি হয়ে গিয়েছে।” শুধু Puja celebration নয়, এই বছর নুসরতের একটি নতুন সিনেমাও মুক্তি পাচ্ছে, যেখানে একটি বিশেষ নাচের দৃশ্যে তাঁকে দেখা যাবে।

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তাঁর গান ‘অর্ডার ছাড়া বর্ডার ক্রস’ ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়েছে দর্শকদের মধ্যে। নায়িকার মতে, ক্যামেরার সামনে এমন পারফরম্যান্স দিতে গেলে সারা বছর কড়া ডায়েট মেনে চলতে হয়। তবে দুর্গাপুজোর চারটে দিন সম্পূর্ণ ছুটি—কোনও ডায়েট নয়। “আমার মেকআপ আর্টিস্টের বাড়িতেও Puja হয়। প্রতি বছর সেখানে গিয়ে ভুরিভোজ করি। এই চারদিন যা ইচ্ছা খাব, তারপর আবার জিমে গিয়ে ক্যালোরি ঝরাব,” হাসতে হাসতে বললেন নুসরত।

মাতৃত্ব এবং উৎসব পরিবর্তন

মিষ্টি খেতে ভালবাসেন নুসরত—এ কথা বহু সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। রান্নাতেও দক্ষ, তবে এখন আর রান্না করতে ভাল লাগে না। কেবলমাত্র ছেলের জন্য বা খুব কাছের কারও আবদারে রান্না করেন। সারাদিন ছেলের দুষ্টুমি সামলাতেই সময় চলে যায় তাঁর। শুটিংয়ে থাকলেও ফোনে বারবার ঈশানের খোঁজ নেন।

পেশাগত কারণে এখন খুব বেশি মণ্ডপে প্রতিমাদর্শন করা সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে। তবে ছেলের জন্য এবার Puja pandal hopping করবেই নায়িকা।

নুসরাতের ছোটবেলার পুজোর স্মৃতি

দক্ষিণ কলকাতায় বেড়ে ওঠা নুসরতের ছোটবেলার Puja স্মৃতি আজও টাটকা। কাটলেট, রোল, মোগলাই, কোল্ড ড্রিঙ্কস—এই সব ছিল Puja days-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন অবশ্য সেই স্বাদ নিতে হয় বাড়িতে আনিয়ে। তিনি বললেন, “ঐ দিনগুলো খুব মনে পড়ে। এখন আর লাইনে দাঁড়িয়ে খাওয়া সম্ভব নয়। তবে ঈশানকে মাছ দিয়ে আলু-পেঁপের ঝোল করে দিই, ও এগুলো খেতেই পছন্দ করে।”

অভিনেত্রী হওয়ার সুবাদে কলকাতার বহু বড় পুজোয় তাঁর অবাধ যাতায়াত। এবারও পরিকল্পনা আছে ছেলে ঈশানকে নিয়ে শহরের নামকরা কিছু Puja pandal ঘুরে দেখার।

বিশেষ ফটোশুটে Puja look-এ সেজে উঠেছিলেন নুসরত জাহান। দুর্গাপুজো, নতুন ছবি, ব্যস্ত শিডিউল আর মাতৃত্ব—সব মিলিয়ে নায়িকার জীবনে এবারের Puja একেবারেই অন্য মাত্রা আনবে।