কলকাতা (Kolkata)-য় টানা বৃষ্টিতে শহর অচল হলেও টলিউডে থামেনি ক্যামেরা। তারকা ও টেকনিশিয়ানরা জল ভেঙে পৌঁছেছেন স্টুডিয়োতে। জেনে নিন কে কীভাবে লড়লেন বৃষ্টির দুর্যোগে।
জলমগ্ন Kolkata
রাতভর টানা বৃষ্টিতে সকাল হতেই দেখা গেল, কলকাতা (Kolkata)-র রাস্তায় কোমরসমান জল। অফিসযাত্রী থেকে স্কুল পড়ুয়া— সকলের জীবন প্রায় থমকে গেল। বহু জায়গায় ট্রাফিক অচল, গলিপথে আটকে পড়েছে গাড়ি। কোথাও আবার বাস নামেনি। তবে এ সব কিছুর মাঝেই টালিগঞ্জের স্টুডিয়োপাড়া যেন অন্য জগৎ। ক্যামেরা যেমন ঘুরছে, আলো যেমন জ্বলছে, তেমনি শুটিংয়ের ডাক এড়িয়ে যাননি কেউ।
একনজরে
বৃষ্টির দুর্যোগকে উপেক্ষা করে যাঁরা সেটে পৌঁছেছেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ‘পরশুরাম’ খ্যাত ইন্দ্রজিৎ বোস, ‘জোয়ার ভাঁটা’-র শ্রুতি দাস ও আরাত্রিকা মাইতি, ‘গৃহপ্রবেশ’-এর পরিচালক অমিত দাস, ‘জগদ্ধাত্রী’-র সয়ম্ভু চরিত্রের অভিনেতা সৌম্যদীপ মুখোপাধ্যায়, এবং জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘অনুরাগের ছোঁয়া’-র জুটি রাহুল মজুমদার ও তিয়াসা লেপচা। প্রত্যেকেই একে একে জানিয়েছেন— পরিস্থিতি যতই ভয়াবহ হোক, শুটিং বন্ধ নেই।
ইন্দ্রজিতের বাইক যাত্রা
অভিনেতা ইন্দ্রজিৎ বোস সাধারণত গাড়িতে সেটে যান। কিন্তু এই দিন সকালে তিনি একেবারেই ভরসা করতে পারেননি চারচাকার ওপর। রাস্তায় জল জমে থাকায় গাড়ি নামানো প্রায় অসম্ভব। তাই বাইক নিয়েই ছুটলেন টালিগঞ্জের দিকে। তাঁর কথায়, “আমি ভেবেছিলাম হয়তো সেটে পৌঁছানোই সম্ভব হবে না। কিন্তু বাইকেই এলাম। বাকিরাও ধীরে ধীরে আসছেন। আমাদের কাজ তো থেমে থাকতে পারে না।”

রাহুলের টেকনিশিয়ান উদ্ধার
‘অনুরাগের ছোঁয়া’-র রাহুল মজুমদার জানালেন ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। রাস্তায় আটকে থাকা এক টেকনিশিয়ানকে তিনি নিজেই গাড়িতে তুলে নেন। রাহুলের কথায়, “আজ টেকনিশিয়ানদের ভীষণ কষ্ট হয়েছে। অনেকে মাঝপথে আটকে পড়েছেন। একজনকে আমি গাড়িতে তুলে নিয়েছি। এমন অবস্থায়ও ওঁরা শুটিংয়ে আসতে পেরেছেন— এটাই ভরসা জোগায়।”
আরও পড়ুনঃ Kangana Ranaut-এর অশ্রুসিক্ত আর্তি! বন্যায় ভেসে যাচ্ছে মনালীর ব্যবসা, দিনে আয় মাত্র ৫০ টাকা
পরিচালক অমিতের অঙ্গীকার
‘গৃহপ্রবেশ’-এর পরিচালক অমিত দাস শেখ কলোনিতে থাকেন। বৃষ্টিতে তাঁর এলাকা সম্পূর্ণ বানভাসি হয়ে গেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। তিনি স্পষ্ট জানালেন, “আমার জায়গাটা ডুবে গিয়েছে। তবে কাজ করতে হবে বলেই এসেছি। টেকনিশিয়ানরা যেভাবে কষ্ট করে উপস্থিত হয়েছেন, তাতে আমি অনুপ্রাণিত।”
শ্রুতির ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা
অভিনেত্রী শ্রুতি দাস জানালেন, শুটিংয়ে যেতে গিয়ে তাঁর গাড়ি প্রায় ডুবে যাচ্ছিল। কলকাতায় (Kolkata) কোমরসমান জলে গাড়ি নিয়ে চলা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। তবু তিনি সেটে পৌঁছান। তাঁর মতে, “এত জল কখনও দেখিনি। গাড়ি প্রায় ডুবতে বসেছিল। কিন্তু শুটিংয়ে না গেলে গল্পের কাজ থেমে যেত।”
আরাত্রিকার অবাক দৃষ্টি
ঝাড়গ্রামের মেয়ে আরাত্রিকা মাইতি। তিনি বললেন, “ঝাড়গ্রামে কখনও রাস্তা এভাবে ডুবে যেতে দেখিনি। এখানে এসে দেখে চমকে গেছি।” সকাল আটটার শুটিংয়ের জন্য ভোরেই বেরোতে হয়েছিল তাঁকে। চোখ কপালে উঠেছিল শহরের এমন চেহারা দেখে। তবুও তিনি জল ভেঙে পৌঁছান সেটে।
আরও পড়ুনঃ Zubeen Garg: সমুদ্রেই নিভে গেল সুরের প্রদীপ! স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু
তিয়াসার মন্তব্য
অভিনেত্রী তিয়াসা লেপচা বলেন, “আমাদের কোনও ‘রেইনি ডে’ নেই। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই শুটিং করতে হয়।” তাঁর এই মন্তব্য টলিউডের পেশাদারিত্বের এক স্পষ্ট ছবি তুলে ধরে।

‘রেইনি ডে’ মেনুর প্রশ্ন
এমন দিনে দুপুরের মেনুতে খিচুড়ি, বেগুনি কিংবা ইলিশ মাছ হলে কেমন লাগত? প্রশ্ন শুনে অভিনেতারা হেসে ফেললেন। ইন্দ্রজিতের বক্তব্য, তিনি ডায়েট মেনে চলেন। তাই ঋতু, আবহাওয়া যাই হোক, তিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে সংযমী। তবে অন্যরা চাইলে বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি-বেগুনি উপভোগ করতে পারেন।
পুজোর আগে টিভি চ্যানেলে এপিসোড জমা দেওয়ার চাপ থাকে। তাই নির্মাতারা কোনওভাবেই শুটিং বন্ধ রাখতে পারেন না। এ কারণেই বৃষ্টি, জলজট, দুর্যোগ— কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। প্রত্যেকের মুখে একটাই কথা— “শুটিং চলবেই।”
FAQ (প্রশ্নোত্তর)
প্রশ্ন ১: কলকাতায় টানা বৃষ্টির দিনে কি টলিউডে শুটিং বন্ধ হয়েছিল?
উত্তর: না, জলমগ্ন পরিস্থিতিতেও শুটিং চালু ছিল। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কষ্ট করে স্টুডিয়োতে পৌঁছেছিলেন।
প্রশ্ন ২: কোন কোন তারকা বৃষ্টির দুর্যোগেও শুটিংয়ে অংশ নেন?
উত্তর: ইন্দ্রজিৎ বোস, শ্রুতি দাস, আরাত্রিকা মাইতি, রাহুল মজুমদার, তিয়াসা লেপচা, সৌম্যদীপ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
প্রশ্ন ৩: টেকনিশিয়ানদের কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল?
উত্তর: অনেকেই মাঝপথে আটকে পড়েন। জলজটের কারণে তাঁদের সেটে পৌঁছাতে ভীষণ কষ্ট হয়েছে।
প্রশ্ন ৪: এমন দিনে ‘রেইনি ডে’ মেনুর প্রসঙ্গ উঠেছিল কি?
উত্তর: হ্যাঁ, অভিনেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। অনেকে মজার ছলে বলেছেন, খিচুড়ি-বেগুনি খেলে ভালো লাগত। তবে ইন্দ্রজিৎ ডায়েট মেনে চলেন বলে এড়িয়ে গেছেন।
প্রশ্ন ৫: পুজোর আগে কেন এত চাপ থাকে শুটিংয়ে?
উত্তর: পুজোর সময়ে টিভি চ্যানেলগুলিতে আগে থেকে একাধিক এপিসোড জমা দিতে হয়। তাই এ সময় শুটিং বন্ধ রাখা যায় না।
| বিষয় | লিংক |
| বলিউড | Bollywood News |
| টলিউড | Tollywood News |
| সিরিয়াল | Serial News |