কলকাতায় ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দায়ী করেছেন সিইএসসি-কে এবং মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কলকাতা ও শহরতলিতে চলমান ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক দুর্যোগ। একের পর এক মৃত্যু এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্টের খবর শহরবাসীকে আতঙ্কিত করছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছেন, এই মৃত্যুর দায় সিইএসসি-কেই নিতে হবে।
একনজরে
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে ব্যবসা করছে, পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের কাজ অন্য রাজ্যে হচ্ছে, কিন্তু এখানে কিছু হচ্ছে না। এখনই জরুরি ভিত্তিতে কর্মীদের নামাতে হবে।” তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারের পাশে থাকবেন এবং নিহতদের এক জনকে চাকরিও দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি
শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখা গেছে বিদ্যুতের খোলা তার পড়ে আছে। এই অবহেলার কারণে কমপক্ষে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। আরও দু’জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে বলে বেসরকারি সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার রাত থেকে নগরী জুড়ে ক্রমাগত বৃষ্টি হচ্ছে। জলমগ্ন হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, গলিপথ ও সড়ক। বাড়ি, দোকান ও যানবাহনও জলের তলায় তলিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সকালে একবালপুরের হোসেন শাহ রোডে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ের। নেতাজিনগর ও বেনিয়াপুকুরেও একই ধরনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বেহালা ও হরিদেবপুরে আরও দু’জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। গড়িয়াহাট ও গড়ফাতেও মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)-র তোপ ও সিইএসসি-র দায়
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে দায় চাপিয়েছেন সিইএসসি-র উপর। তিনি বলেন, “এখানে ব্যবসা চলছে, অথচ পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের কাজ হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ বিপদের মুখে পড়ছে।” সিইএসসি কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে তারা পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ বেদনাদায়ক মৃত্যু: সিঙ্গাপুরে Scuba diving দুর্ঘটনায় প্রয়াত Zubeen Garg, অসম-সহ গোটা দেশ শোকে স্তব্ধ
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানিয়েছেন, প্রশাসন রাতভর রাস্তায় রয়েছে। তবে জল বার করতে কলকাতা পুরসভা সম্পূর্ণ সক্ষম নয়। তিনি সতর্ক করেছেন, গঙ্গার জোয়ারের সময় শহরের একাংশ আবারও জলমগ্ন হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) সকলকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজ কারও বেরোনোর প্রয়োজন নেই। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অনুরোধ, দয়া করে আজ কেউ ছুটি কাটাবেন না।” দুর্ঘটনার সময় মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি মানবিক দিক থেকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টি ও জল জমার কারণে সঠিকভাবে জল সরানো সম্ভব হচ্ছে না। শহরের বহু রাস্তা ও এলাকা এখন সম্পূর্ণভাবে জলমগ্ন। মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পুজোর আগে এমন দুর্যোগে কমিটিগুলোর কর্মকাণ্ড ব্যাহত হতে পারে। তিনি বলেছেন, “হাতে সময় আছে। আজ আর কালটা একটু দেখে নিতে হবে।”
আরও পড়ুনঃ কারাগারের দুঃসহ দিনগুলো আজও ভোলেননি Rhea Chakraborty! শেয়ার করলেন হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা
দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা স্বাভাবিক, কিন্তু বিদ্যুতের খোলা তার এবং যথাযথ সতর্কতা না নেওয়া গুরুতর। সিইএসসি-র অবহেলা অনেকেই দায়ী করছেন। মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)-র মন্তব্যে স্পষ্ট, ব্যবসার সঙ্গে নিরাপত্তার সমন্বয় নেই।


FAQ (প্রশ্নোত্তর)
১. কলকাতায় কেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে?
উত্তর: শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোলা তার এবং ভারী বৃষ্টির কারণে বিদ্যুত স্পৃষ্ট হয়ে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
২. মুখ্যমন্ত্রী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
উত্তর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিইএসসি-কে দায়ী করেছেন, মৃতদের পরিবারকে সহায়তা ও এক জনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছেন।
৩. কতজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন?
উত্তর: এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আরও দু’জন আহত হয়েছেন বলে বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে।
৪. কলকাতা পুরসভা কতটা কার্যকর?
উত্তর: প্রশাসন জল সরানোর চেষ্টা করছে, তবে দীর্ঘ বৃষ্টির কারণে কার্যকরভাবে জল অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
৫. নাগরিকদের জন্য পরামর্শ কী?
উত্তর: মুখ্যমন্ত্রী ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম সকলকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
| বিষয় | লিংক |
| বলিউড | Bollywood News |
| টলিউড | Tollywood News |
| সিরিয়াল | Serial News |