দুর্গাপুজো ২০২৫: ব্যবসা, পরিবার ও নতুন স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়

অভিনেত্রী সুস্মিতা রায় এখন ব্যবসা ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। দুর্গাপুজোতে অঞ্জলি, সিঁদুরখেলা আর ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়েই আলোচনায় তিনি।

বাংলা টেলিভিশন এবং সিনেমা জগতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। ছোটপর্দা থেকে শুরু করে বড়পর্দা—সব জায়গাতেই নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি শুধুমাত্র অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন আর ব্যবসা—এই তিনটিকেই সমানভাবে সামলাচ্ছেন তিনি। গত কয়েক বছরে সুস্মিতার জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষত ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েনের পর তিনি এখন নিজের মতো করে স্বপ্নপূরণের পথে এগোচ্ছেন। শুধু তাই নয়, অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি এখন উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত। সম্প্রতি তিনি একটি বড়সড় রূপচর্চা কর্মশালা আয়োজন করেছেন, যা বিপুল সাফল্য পেয়েছে। সেই কর্মশালার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে অভিনয় ছাপিয়ে নিজের ব্যবসাকেও তিনি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়

তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর সময়ের বেশিরভাগটাই কেটে যাচ্ছে পরিবার ও ব্যবসার কাজ নিয়ে। ব্যবসা আরও বড় করার পরিকল্পনা নিয়েই তিনি ব্যস্ত। টেলিভিশনের শ্যুটিং ফ্লোরে না থাকলেও তিনি সমানভাবে আলোচনায় আছেন নিজের কাজের জন্য। পরিবারকে সময় দেওয়া এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে দিয়ে তিনি নতুন জীবনযাত্রা গড়ে তুলেছেন। কাজের চাপ এখন অনেক বেশি, তাই বিশেষ করে আলাদা করে দুর্গাপুজো ২০২৫-এর জন্য আলাদা পরিকল্পনা করার সুযোগ নেই। তবে পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চান তিনি। জীবনে কিছু পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করতে চান না। তাঁর মতে, মানুষের জীবনে যেমন আনন্দ থাকে, তেমনই মন খারাপও আসে, আর তিনি তাতে কোনো ব্যতিক্রম নন।

বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো সব বাঙালির মতোই অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়ের কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি আলাদা করে পুজোর পরিকল্পনা করতে পারছেন না, তবুও উৎসবের আবহ তিনি মিস করতে চান না। তিনি জানিয়েছেন, এখনও মা’কে সঙ্গে নিয়ে কেনাকাটা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। তবে সময়ের অভাবের মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা শপিং করে নিয়েছেন। পুজোর সময় অঞ্জলি না দিলে তাঁর কাছে উৎসব অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই প্রতিবছরের মতো এই বছরও তিনি মুকুন্দপুরে নিজের বাড়ির কাছের প্যান্ডেলে অঞ্জলি দিতে যাবেন। তাঁর কথায়, অঞ্জলি দেওয়া একটি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। মা দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করার মধ্যে যে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তাই যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, দুর্গাপুজোর দিনে অঞ্জলি দেওয়া তিনি কখনও মিস করেন না।

দুর্গাপুজোর শেষ দিন বিজয়া দশমীতে সিঁদুরখেলা ছাড়া যেন উৎসব অসম্পূর্ণ। সেই বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে সুস্মিতার উচ্ছ্বাসও প্রবল। তাঁর মতে, সিঁদুরখেলা শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলাদের জন্য নয়, বরং এটি শক্তি ও শুভশক্তির প্রতীক। তিনি শাঁখা-সিঁদুর-সংসারকে ভীষণ ভালোবাসেন এবং প্রতি বছর উত্তর কলকাতায় গিয়ে সিঁদুর খেলায় যোগ দেন। তাঁর আশা, দুর্গাপুজো ২০২৫-এও সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবেন। সিঁদুরখেলার মাধ্যমে নারীশক্তি ও আনন্দের এক ভিন্ন প্রকাশ ঘটে। এটি শুধু রীতি নয়, বরং বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলেই মনে করেন তিনি।

যদিও বর্তমানে তাঁকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু দর্শকদের জন্য সুসংবাদ আছে। নতুন কিছু চরিত্রে কাজ করার বিষয়ে তিনি আলোচনা চালাচ্ছেন। তিনি চান এবার এমন চরিত্রে অভিনয় করতে যা তাঁর আগের কাজগুলোর থেকে একেবারেই আলাদা হবে। তাঁর কথায়, তিনি সবসময় চেষ্টা করেন ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করতে। দর্শকরা তাঁকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার প্রতিদান তিনি দিতে চান নতুন রূপে। এখনো নির্দিষ্ট কিছু বলতে না পারলেও তিনি আশা করছেন শিগগিরই দর্শকদের ভালো খবর দিতে পারবেন।

ব্যক্তিগত জীবনে একসময় কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হলেও এখন অনেকটা সামলে উঠেছেন তিনি। নিজের কাজ, পরিবার আর স্বপ্নের মধ্যেই খুঁজে নিচ্ছেন নতুন আনন্দ। মানুষ হিসেবে তিনি যেমন সংবেদনশীল, তেমনই দৃঢ় মানসিকতার অধিকারী। জীবনের প্রতিটি পরিবর্তনকে তিনি নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে শিখেছেন। তাঁর ভাষায়, জীবনে সবসময় সবকিছু একরকম থাকে না। পরিবর্তন আসে, আর সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই আমরা আরও পরিণত হয়ে উঠি। তাই তিনি চেষ্টা করেন প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে।

ভক্তদের প্রতিও তাঁর বিশেষ বার্তা রয়েছে। তিনি মনে করেন, দর্শক এবং ভক্তদের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। অভিনয়জীবনের মতোই ব্যবসার ক্ষেত্রেও তিনি তাঁদের সমর্থন কামনা করেন। তাঁর আশা, যেমন তাঁকে অভিনয়ের জন্য মানুষ উৎসাহ দিয়েছে, তেমনই ব্যবসার ক্ষেত্রেও পাশে থাকবে।

আরও পড়ুনঃ ফের আইনি জটিলতায় দক্ষিণী সুপারস্টার অল্লু অর্জুন, বেআইনি বহুতল নির্মাণের অভিযোগ

সব মিলিয়ে বলা যায়, দুর্গাপুজো ২০২৫-এর আগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। পরিবার, ব্যবসা আর নিজের নতুন স্বপ্ন নিয়েই এগোচ্ছেন তিনি। যদিও এই মুহূর্তে অভিনয়ে অনুপস্থিত, তবে দর্শকদের জন্য তাঁর নতুন কাজের খবর আসতে দেরি নেই। অঞ্জলি দেওয়া থেকে শুরু করে সিঁদুরখেলা—সবকিছু নিয়েই তিনি যেমন উৎসাহী, তেমনই নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্যও প্রস্তুত। পেশাদার জীবনে যেমন সাফল্যের গল্প তৈরি করছেন, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনেও খুঁজে নিচ্ছেন নতুন আলো।

বাংলার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রমাণ করেছেন, একজন নারীর জীবন শুধুমাত্র একটিমাত্র পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার, কাজ, ব্যবসা আর ব্যক্তিগত স্বপ্ন—সব মিলিয়েই জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলা যায়। আর ঠিক এই কারণেই আজও অভিনেত্রী সুস্মিতা রায় সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।