পুজোয় আসছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘দেবী চৌধুরাণী’। ঐতিহাসিক চরিত্র ভবানী পাঠকে দেখা যাবে তাঁকে। বাংলা ছবির প্রাইম টাইম শো নিয়ে আশাবাদী অভিনেতা জানালেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
বেজ-খয়েরি পোশাকে সোনালি জরির ছোঁয়া। পাঞ্জাবি-পাজামায় স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় হাজির বাংলা ছবির ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সাক্ষাৎকার শুরু হতেই স্পষ্ট, তাঁর ফোকাস এখন একটাই— পুজোর বড় মুক্তি ‘দেবী চৌধুরাণী’।
পুজোয় ফের বড় পর্দায় প্রসেনজিৎ
অভিনেতা জানালেন— “গত বছর পুজোয় ছবি আনতে পারিনি, আমিও খালি ছিলাম, দর্শকরাও। এ বছর দেবীপক্ষে আসছি ‘দেবী চৌধুরাণী’ নিয়ে। এটা শুধু সিনেমা নয়, বাংলার জন্য এক উৎসব।”
ঐতিহাসিক চরিত্রে নতুন অধ্যায়
লালন ফকির, নেতাজি, রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসের চরিত্র— একাধিক ঐতিহাসিক রূপে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে এবার প্রথমবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে। “এটাই হ্যাঁ বলার আসল কারণ,” বললেন প্রসেনজিৎ।
প্রচারে নতুন কৌশল
আজকের প্রচার মানেই শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নয়। প্রসেনজিৎ বললেন— “সোশ্যাল মিডিয়া বদলে দিয়েছে যোগাযোগের রাস্তা। আবারও গ্রাম-গঞ্জে পৌঁছনো যাচ্ছে। দেব যেভাবে ‘রঘু ডাকাত’ নিয়ে সর্বত্র পৌঁছচ্ছে, সেটাই এখন প্রয়োজন।”
এনার্জির রহস্য
“আমার শক্তি একার নয়, দলের। মানুষের ভালোবাসা আর আবেগই আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়,” বললেন বাংলা ছবির এই কিংবদন্তি।
চ্যালেঞ্জিং ‘ভবানী পাঠক’
‘দেবী চৌধুরাণী’-তে তিনি হচ্ছেন ভবানী পাঠক— সাধক ও যোদ্ধা দুই-ই। “এমন চরিত্র ধারণ করা কঠিন, কিন্তু একেই আমি অভিনয়ের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ মনে করি,” জানালেন প্রসেনজিৎ।
বাংলা ছবির জয়যাত্রা
তিনি খুশি যে সারা বছর এখন বাংলা ছবির জন্য প্রেক্ষাগৃহে প্রাইম টাইম শো নিশ্চিত হয়েছে। “এটা ঐতিহাসিক। দর্শক এখনও ভালো সিনেমা দেখতে আসেন, এবার সেই সময়টাও পাবেন পরিচালকেরা,” মত প্রসেনজিতের।
দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তিনি প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর প্রচেষ্টায় আছেন। বললেন— “ইন্ডাস্ট্রি আমাকে অনেক দিয়েছে। আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু করে যাওয়া আমার কাজ।”
ছেলে তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বললেন— “ওর লড়াই ওর নিজের। আমি কিছু করছি না। নিজেকে ওকেই প্রমাণ করতে হবে।”
উত্তরসূরি ও আগামী প্রজন্ম
দেব, জিৎ, অঙ্কুশদের নিয়ে তিনি আশাবাদী। “ওরা শুধু স্টার নয়, দায়িত্বশীলও। বাংলা ছবিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো মানসিকতা আছে ওদের,” বললেন প্রসেনজিৎ।
পরিচালনায় আসছেন প্রসেনজিৎ
তিনি আগামী বছরে পরিচালনায় নামবেন। তবে নতুন মুখ নেওয়া হবে কি না, তা এখনও ঠিক হয়নি।
জীবনের উপলব্ধি
“আমি ক্যালকুলেটিভ, ম্যানিপুলেটিভ— কারণ টিকে থাকতে গেলে তাই করতে হয়। পরিচালকরাই আমাকে সেরা চরিত্র দিয়েছেন, তাঁদের ভিশন পূরণ করাই আমার কাজ,” খোলাখুলি স্বীকার করলেন তিনি।
শেষে বললেন— “আমি আর প্রতিযোগিতায় নেই। নাম্বার গোনার খেলায়ও নেই। আমি শুধু ভালো চরিত্রে অভিনয় করব। কারণ ভালো কাজই থেকে যায় ইন্ডাস্ট্রির জন্য।”