সঞ্জয় কপূরের মৃত্যুর পর তাঁর বিশাল সম্পত্তি নিয়ে পরিবারে তীব্র দ্বন্দ্ব। করিশ্মা কপূরের সন্তান সামাইরা ও কিয়ান দিল্লি হাই কোর্টে প্রিয়া সচদেবের বিরুদ্ধে মামলা করলেন।
হঠাৎ মৃত্যু ও বিতর্কের সূচনা
বলিউড অভিনেত্রী করিশ্মা কপূরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কপূর জুন মাসে আকস্মিকভাবে মারা যান। গলায় মৌমাছি আটকে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। মৃত্যুর সময় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়া সচদেবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে ছিলেন। তাঁদেরও একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
তবে প্রিয়ার আগেই সঞ্জয়ের প্রথম স্ত্রী ছিলেন করিশ্মা কপূর, যাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করেছিলেন এই শিল্পপতি। আর তাই তাঁর মৃত্যুর পরই শুরু হয় পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব।
করিশ্মার সন্তানদের অভিযোগ
সম্প্রতি সঞ্জয় কপূরের প্রথম সংসারের সন্তান সামাইরা কপূর ও কিয়ান রাজ কপূর দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী—
- প্রিয়া সচদেব নাকি সঞ্জয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র জাল করেছেন।
- উদ্দেশ্য ছিল বিশাল সম্পত্তির একক দখল নেওয়া।
তবে সামাইরা ও কিয়ান দাবি করছেন, তাঁরাও বাবার বৈধ উত্তরাধিকারী। তাই সম্পত্তির ন্যায্য ভাগের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
সঞ্জয়ের মায়ের সন্দেহ
এখানেই শেষ নয়। প্রয়াত সঞ্জয়ের মা রানি কপূর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে গভীর ষড়যন্ত্র।
তাঁর আশঙ্কা, সম্পত্তি দখলের লড়াইয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে সঞ্জয়ের অকাল মৃত্যু।
প্রিয়ার পদবি পরিবর্তন ঘিরে চাঞ্চল্য
সম্পত্তি বিতর্ক যখন চরমে, তখনই প্রিয়া সচদেব পদক্ষেপ নেন। এত দিন তিনি নিজেকে প্রিয়া সচদেব নামেই পরিচয় দিতেন। কখনও কখনও স্বামীর পদবি ব্যবহার করলেও সেটি নিয়মিত ছিল না।
কিন্তু উত্তরাধিকার নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হতেই তিনি হঠাৎ নিজের নাম বদলে নেন—‘প্রিয়া সঞ্জয় কপূর।’ আর এই পরিবর্তনের পর থেকেই পারিবারিক অশান্তি আরও তীব্র আকার নেয়।
করিশ্মার অবস্থান
কিছু দিন আগে শোনা গিয়েছিল, করিশ্মা কপূরও সন্তানের স্বার্থে সঞ্জয়ের বিপুল সম্পত্তিতে অংশীদারির দাবি তুলেছেন। অর্থাৎ, এই উত্তরাধিকার লড়াইয়ে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন তাঁর দুই সন্তানও।
সঞ্জয় কপূরের আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকে তাঁর প্রায় ৩০,০০০ কোটির সম্পত্তি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও মামলা ঘিরে আলোচনায় রয়েছে কপূর পরিবার। করিশ্মার সন্তানদের আইনি পদক্ষেপে বিতর্ক আরও বেড়েছে। অন্যদিকে প্রিয়ার নাম পরিবর্তন নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের দিকে।