অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র (Rupanjana Mitra)-এর দুর্গাপুজো মানেই পরিবার, বন্ধু, নস্ট্যালজিয়া আর আনন্দের মেলবন্ধন। পুজোর কেনাকাটা থেকে পেটপুজো—সবকিছু নিয়ে তিনি কী পরিকল্পনা করলেন, জানুন বিস্তারিত এই বিশেষ প্রতিবেদনে।
অভিনয়, শুটিং ফ্লোর কিংবা ক্যামেরার আলো—সবকিছুর বাইরে রূপাঞ্জনা মিত্র প্রথমেই একজন পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। তাঁর কাছে পরিবারই আসল শক্তি। প্রতিটি উৎসবই তিনি পরিবারের সঙ্গেই উদযাপন করতে ভালোবাসেন। দুর্গাপুজোতেও এর ব্যতিক্রম নেই।
একনজরে
রূপাঞ্জনা (Rupanjana Mitra) জানান— এই বছর এখনও বড় কোনও প্ল্যান হয়নি। ছেলে রিয়ানের হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষা চলছে, তাই তার পড়াশোনার গুরুত্ব সবচেয়ে আগে। যদিও ছোট ছোট পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো কেবলই পরিবার এবং কাছের মানুষদের নিয়ে। তাঁর কাছে পুজোর মানে শুধু ঘুরে বেড়ানো নয়, বরং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। অভিনেত্রীর ভাষায়— “আমার কাছে পুজো মানে পরিবারের সঙ্গ। যাঁরা কাছের, তাঁদের সঙ্গেই আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।”
রূপাঞ্জনা (Rupanjana Mitra) স্বীকার করেছেন তিনি প্রতি বছরই লাস্ট মোমেন্ট শপিং করেন। নিজের জন্য নয়, বরং পরিবারের সকলের কথা ভেবেই কেনাকাটা করেন। ছেলে রিয়ানের জামা-কাপড় তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। প্রতিটি প্রিয়জনের জন্য আলাদা আলাদা উপহার বাছাই করেন। তিনি বলেন, “শৈশবে পুজোর চারদিনে চারটি নতুন জামা পেতাম। তখন বন্ধুদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন জামা পরার আনন্দই ছিল সবচেয়ে বড় ব্যাপার। এখন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আনন্দ বদলে গেছে। এখন নিজের জন্য নয়, সবার জন্য কিছু কিনে তাদের হাসিমুখ দেখাই আমার আনন্দ।”

Rupanjana Mitra-এর ছোটবেলাকার স্মৃতি রোমন্থন
রূপাঞ্জনার কাছে ছোটবেলার পুজো মানেই বিশেষ অনুভূতি। হাফ ইয়ার্লির পর পুজো আসত, তাই আলাদা আনন্দ থাকত। উত্তর কলকাতার নামী পুজো মণ্ডপে বাবার সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো ছিল অবিচ্ছেদ্য স্মৃতি। শৈশবের আবাসনে পুজো মানেই ছিল একান্নবর্তী পরিবারের আবহ। ছোটবেলার অন্যতম উচ্ছ্বাস এখনও হৃদয়ে অমলিন। তাঁর কথায়— “সেই সময়ের পাড়ার পুজো আর একসঙ্গে সকলে হয়ে উপভোগ করার আনন্দ এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে আজও বন্ধুবান্ধব আর পরিবারের সঙ্গেই পুজোর আনন্দ উপভোগ করি।”
আরও পড়ুনঃ বড় বিপাকে Mimi Chakraborty ও Urvashi Rautela: বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারিতে ইডি-র সমন, উঠছে নয়া প্রশ্ন!
বাঙালিদের দুর্গাপুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক উৎসব। নাচ, গান, নাটক—সবকিছুই পুজোর আবহে মিশে ছিল। আবাসনের প্রত্যেকেই সক্রিয়ভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন। মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত পড়াশোনা, শাসন—কোনও কিছুর বাঁধা থাকত না। ভবিষ্যতে রূপাঞ্জনার (Rupanjana Mitra) স্বপ্ন নিজের ঘরে ছোট করে দুর্গাপুজো আয়োজন করা। তিনি বলেন, “মায়ের ইচ্ছা হলে একদিন অবশ্যই নিজের ঘরেই ছোট করে মা দুর্গার পূজা করতে চাই।”
পেটপুজোর প্রিয় তালিকা
দুর্গাপুজো মানেই শুধু ঠাকুর দেখা নয়, সঙ্গে থাকে জমজমাট খাওয়াদাওয়া।
- রূপাঞ্জনার প্রিয় কমফোর্ট ফুড: ভাত, ডাল, আলু সেদ্ধ, পোস্ত বাটা।
- পুজোয় অবশ্যই থাকতে হবে লুচি।
- আশেপাশের ক্লাব থেকে আসা ভোগ তিনি কোনওভাবেই মিস করেন না।
- পুজোর কদিন নানা নিমন্ত্রণে ভুরিভোজও হয়।
অভিনেত্রী বলেন,
“মায়ের উৎসবে মা নিজেই যা খাওয়ার সুযোগ করে দেন, আমি তা গ্রহণ করি। এখন নিরামিষ খাবারেই বেশি টান। তবে রিয়ানের জন্য মাঝে মাঝে চিকেন আনতেই হয়।”
আরও পড়ুনঃ অবিশ্বাস্য দাবি Tanya Mittal-এর! সমালোচনার ঝড়ে বিদ্ধ ব্যবসায়ী
পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো
রূপাঞ্জনার কাছে দুর্গাপুজো হল প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের সময়। এই বছর রাতুল ও তাঁর অনেক বন্ধু কলকাতায় আসছেন। বছরভর কাজের ব্যস্ততায় যাঁদের সঙ্গে দেখা হয় না, তাঁদের সঙ্গে মিলে আড্ডা, আড্ডার ফাঁকে স্মৃতিচারণা—এটাই তাঁর কাছে পুজোর বড় আনন্দ। বাড়ির সকলকে নিয়ে একসঙ্গে বেরোনোরও পরিকল্পনা থাকছে। তিনি বলেন, “পুজো মানেই একসঙ্গে থাকার আনন্দ। পরিবার-বন্ধুবান্ধবদের ছাড়া আমার কাছে পুজো অসম্পূর্ণ।”
রূপাঞ্জনার (Rupanjana Mitra) কাছে দুর্গাপুজো কেবল উৎসব নয়, বরং জীবনের দর্শনকেও স্পর্শ করে। তিনি বিশ্বাস করেন সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই প্রকৃত আনন্দ। নিজের চাওয়া-পাওয়ার থেকে সবার মুখে হাসি ফোটানোই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উৎসব মানেই ইতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “সবাইকে নিয়ে ভালো থাকাটাই আমার কাছে সবচেয়ে দামি বিষয়। জীবনের প্রকৃত মূল্যবোধ আমি এখানেই খুঁজে পাই।”
FAQ (Frequently Asked Questions)
Q1: রূপাঞ্জনা মিত্র ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় কী বিশেষ পরিকল্পনা করেছেন?
👉 তিনি মূলত পরিবার ও কাছের মানুষদের সঙ্গেই সময় কাটাতে চান। ছেলে রিয়ানের পরীক্ষার কারণে বড় কোনও পরিকল্পনা হয়নি।
Q2: রূপাঞ্জনা মিত্র পুজোয় কী ধরনের খাবার সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন?
👉 তিনি ভাত, ডাল, আলু সেদ্ধ, পোস্ত বাটা এবং লুচি খেতে ভালোবাসেন। তবে ভোগ তিনি কখনও মিস করেন না।
Q3: ছোটবেলায় রূপাঞ্জনার দুর্গাপুজোর সবচেয়ে বড় স্মৃতি কী?
👉 বাবার হাত ধরে উত্তর কলকাতার ঠাকুর দেখা এবং আবাসনের পুজোতে একসঙ্গে সকলের মেতে ওঠা।
Q4: রূপাঞ্জনার কাছে এখন পুজোর আনন্দ কীভাবে বদলেছে?
👉 শৈশবের জামা-কাপড় আর প্রতিযোগিতার বদলে এখন প্রিয়জনদের জন্য উপহার কেনা আর একসঙ্গে থাকা তাঁর কাছে আসল আনন্দ।
Q5: ভবিষ্যতে রূপাঞ্জনা কী নিজের ঘরে দুর্গাপুজো করবেন?
👉 হ্যাঁ, যদি মায়ের ইচ্ছা হয়, তিনি ছোট করে নিজের ঘরেই দুর্গাপুজো আয়োজন করতে চান।
| বিষয় | লিংক |
| বলিউড | Bollywood News |
| টলিউড | Tollywood News |
| সিরিয়াল | Serial News |