দেব, ইধিকা পাল, সোহিনী সরকার অভিনীত ‘রঘু ডাকাত’(Raghu Dakat) মুক্তি পেল তিন বছরের অপেক্ষার পর। শুটিং চলাকালীন বৃষ্টি, আগুন, পুলিশি জেরা— একের পর এক বাধা পেরিয়েও মাত্র ৪৪ দিনে শেষ হয়েছিল শুটিং। দর্শকের হাততালি প্রমাণ করে, সংগ্রামের এই কাহিনি বৃথা যায়নি।
তৃতীয়ার সন্ধ্যায় নবীনা প্রেক্ষাগৃহে বসে যখন ‘রঘু ডাকাত’(Raghu Dakat) দেখছিলেন নির্মাতা ও অভিনেতারা, তখন আবেগে ভেসে গিয়েছিলেন তাঁরা। তিন বছর ধরে অপেক্ষার পর মুক্তি পাওয়া এই ছবি দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে। সিনেমা চলার সময়ই মনে পড়ছিল শুটিংয়ের দিনগুলোর কথা— সেই অগণিত সংগ্রাম, দুঃসময় আর লড়াইয়ের স্মৃতি।
সহযোগী লেখক সৌগতদার সঙ্গে একের পর এক রাত জেগে স্ক্রিপ্ট লেখা, আলোচনায় মশগুল হওয়া, স্বপ্ন দেখা— সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘রঘু ডাকাত’(Raghu Dakat)। যখন প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা ও মহেন্দ্র সোনি জানালেন শুটিং শুরু হবে, নির্মাতার প্রথম দাবি ছিল— “আমায় বানতলা দিন। ওখানেই বানাব ফিল্মসিটি।”
একনজরে
শুটিং লোকেশন: ‘রঘু ডাকাত’(Raghu Dakat)
আউটডোর শুটিং হয়েছে ঝাড়খণ্ড ও অন্যান্য স্থানে। উশ্রী নদীর ঝর্নায় রঘু(Dev) আর সৌদামিনী(Idhika Paul)-র প্রথম ভাললাগার দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। বানতলায় নির্মিত হয়েছে কালীমন্দির, গ্রামের বাজার, এবং নানা সেট। এই দৃশ্যগুলো দর্শকের মনে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে।
‘রঘু ডাকাত’(Raghu Dakat)-এর ভাগ্যে শুরু থেকেই ছিল সংগ্রাম। শুটিং শুরু হতেই মেঘভাঙা বৃষ্টি। দু’দিন ধরে অঝোর বর্ষণে কালীমন্দির ভেঙে যায়। নতুন করে মন্দির তৈরি করতে হয়। একদিন আচমকাই আগুনে পুরো সেট ছাই হয়ে যায়। প্রতিবারই নতুন করে দাঁড় করাতে হয়েছে সেট।

একদিন শুটিং চলাকালীন সত্যিকারের পুলিশ এসে হাজির! প্রথমে সবাই ভেবেছিলেন পাশের সেটের অভিনেতারা। পরে জানা যায়, আগের দিন ভেড়ির জলে একটি লাশ ভেসে ওঠার কারণে তদন্তে এসেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ চলে গেলেও, অভিজ্ঞতা রীতিমতো শিহরণ জাগানো।
আরও পড়ুনঃ মাতৃত্বের আলোয় উজ্জ্বল Parineeti Chopra! বেবিবাম্প প্রকাশ্যে এনে ভক্তদের মন জয় করলেন হবু মা
অভিনেতাদের অক্লান্ত পরিশ্রম
ছবির তারকারা শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি। দেব, ইধিকা, সোহিনীসহ অভিনেতারা ভারী জিনিস বইয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এক জায়গা থেকে অন্যত্র সেট সরানোর কাজও সামলেছেন তাঁরা। খাওয়াদাওয়ার সময় ৫০০ মানুষের খাবার পরিবেশনে সাহায্য করেছেন অভিনেতারাই। শুটিং স্পটে মজার খুনসুটি, হাসি-ঠাট্টা, আর অক্লান্ত পরিশ্রম মিশে তৈরি হয়েছে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
নায়ক দেব শুধু অভিনয়ই করেননি। তিনি ছিলেন— ছবির সহ-প্রযোজক, কার্যনির্বাহী পরিচালক, শুটিং ম্যানেজার। রাত জেগে শুটিং, ঘোড়াদের খাওয়ানো, বাজেট সামলানো— সব দায়িত্ব একাই কাঁধে নিয়েছিলেন দেব। সহকর্মীদের প্রশ্ন— “আগামী দিনে দেব যদি সিনেমা পরিচালনা শুরু করেন, তবে বাকিদের অন্ন মারা যাবে না তো?”
শুটিংয়ে ব্যবহার করা ঘোড়াদের খাওয়ানোর দায়িত্বও ছিল দেবের কাঁধে। ছোলা খাওয়ানোর সময় পশুদের সঙ্গে অভিনেতাদের দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে যায়। পশুরাও যেন টিমের সদস্য হয়ে গিয়েছিল।

৪৪ দিনে শুটিং শেষ
অসংখ্য বাধা, আগুন-বৃষ্টি, পুলিশি জেরা— সব সামলেও মাত্র ৪৪ দিনে শুটিং শেষ করা হয়েছিল। এমন সাফল্যের পেছনে ছিল টিমের অদম্য মনোবল।
ছবির পর্দায় যখন সোহিনী এসে ইধিকাকে বাঁচায়, দর্শকরা হাততালিতে ফেটে পড়েন। তারপরেই নীরবতা।
পর্দা জুড়ে দেব কাঁদতে কাঁদতে উচ্চারণ করেন— “গুঞ্জার রঘু।” হল ভরে ওঠে আবেগে।
আরও পড়ুনঃ শুটিং সেটে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা! আহত দক্ষিণী সুপারস্টার Junior NTR – অনুরাগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ
FAQ (প্রশ্নোত্তর)
Q1: ‘রঘু ডাকাত’ ছবির শুটিং কোথায় হয়েছিল?
উত্তর: বানতলা, ঝাড়খণ্ড এবং অন্যান্য স্থানে শুটিং হয়েছে।
Q2: শুটিং চলাকালীন কী কী সমস্যা হয়েছিল?
উত্তর: মেঘভাঙা বৃষ্টি, আগুনে সেট ভেঙে যাওয়া, হঠাৎ পুলিশের আগমন— একের পর এক বিপত্তি ঘটেছিল।
Q3: ছবির শুটিং কত দিনে শেষ হয়েছিল?
উত্তর: মাত্র ৪৪ দিনে শেষ হয়েছিল পুরো শুটিং।
Q4: দেব কী কী দায়িত্ব সামলেছিলেন?
উত্তর: তিনি ছিলেন নায়ক, সহ-প্রযোজক এবং কার্যনির্বাহী পরিচালক।
Q5: দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
উত্তর: ছবির বিশেষ দৃশ্যে দর্শক হাততালিতে ফেটে পড়েছেন।
| বিষয় | লিংক |
| বলিউড | Bollywood News |
| টলিউড | Tollywood News |
| সিরিয়াল | Serial News |