বলিউডের আলোচিত নাম সঞ্জয় কপূর মৃত্যুর পর তাঁর বিশাল সম্পত্তি নিয়ে শুরু হয়েছে জটিল লড়াই। করিশমা কপূরের দুই সন্তান সামাইরা ও কিয়ান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন উত্তরাধিকার দাবি করে। অন্যদিকে, প্রয়াত শিল্পপতির বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সচদেবের বিরুদ্ধে দলিল জাল করার অভিযোগ উঠেছে। নাগরিকত্ব পরিবর্তনের প্রস্তাব, বিদেশের সম্পত্তির মালিকানা ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে এখন এই মামলা ঘিরে চলছে চরম উত্তেজনা।
বলিউড অভিনেত্রী করিশমা কপূরের ব্যক্তিগত জীবন বহুবার শিরোনামে এসেছে। তাঁর প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কপূরের মৃত্যু শুধু পরিবারকেই নয়, বরং মিডিয়া ও জনসাধারণকেও আলোড়িত করেছে। কারণ বিষয়টা কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং প্রায় ₹৩০,০০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে টানাপড়েন। এই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী কে হবেন—করিশমার দুই সন্তান সামাইরা ও কিয়ান, নাকি সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া ও তাঁদের সন্তান? সেই উত্তর এখন আদালতের হাতে।
সঞ্জয় কপূরের মৃত্যু ও সম্পত্তি বিতর্কের সূচনা
সঞ্জয় কপূর ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি। তাঁর বিপুল ব্যবসা, বিদেশে অঢেল সম্পত্তি এবং প্রভাবশালী সম্পর্ক তাঁকে আলোচনায় রেখেছিল সবসময়। মৃত্যুর পর সামনে আসে এক নতুন অধ্যায়—সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব। করিশমা কপূরের সন্তান সামাইরা ও কিয়ান দাবি করছেন তাঁদের প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ। অন্যদিকে প্রিয়া সচদেব, সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী, দাবি করছেন সম্পত্তির বৈধ মালিকানা তাঁর নামে রয়েছে। আদালতে জমা হওয়া দলিলে প্রিয়ার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগও উঠে এসেছে।
একনজরে
মৃত্যুর কয়েক মাস আগে সঞ্জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন—তাঁর সন্তানদের নাগরিকত্ব পরিবর্তন। সামাইরা ও কিয়ানকে পর্তুগালের নাগরিকত্ব দিতে চেয়েছিলেন সঞ্জয়। তিনি করিশমাকে জানিয়েছিলেন, ভারত দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না, তাই তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে। করিশমা এই প্রস্তাবে একেবারেই রাজি হননি। তাঁর মতে, সন্তানদের ভারতীয় নাগরিকত্বই থাকা উচিত। এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই শুরু হয়েছিল মতবিরোধ, যা পরবর্তীতে আদালতের লড়াই পর্যন্ত গড়িয়েছে।
করিশমা কপূর সবসময়ই চেয়েছেন সন্তানদের ভারতীয় পরিচয় বজায় রাখতে। তাঁর মতে— ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব পরিবর্তন অপ্রয়োজনীয়। বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ মানেই ভারতের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়া, যা ভবিষ্যতে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সঞ্জয়ের প্রস্তাবকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। এখানেই জন্ম নেয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব, যা মৃত্যুর পর আরও গভীর হয়।

সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সচদেব এখন এই মামলার কেন্দ্রবিন্দু। অভিযোগ উঠেছে, সঞ্জয়ের কিছু বিদেশি সম্পত্তি প্রিয়ার নামে রেজিস্টার করা হয়েছে। করিশমা ও তাঁর সন্তানদের আইনজীবীর দাবি, এই দলিলগুলো জাল বা অনৈতিকভাবে তৈরি। আদালতে প্রমাণ উপস্থাপিত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সঞ্জয় কপূরের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে বিদেশে—ব্যবসায়িক বিনিয়োগ থেকে শুরু করে রিয়েল এস্টেট পর্যন্ত। মৃত্যুর আগে তিনি নাকি এই সম্পত্তি তিন সন্তান—সামাইরা, কিয়ান ও প্রিয়ার ছেলের নামে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পর দেখা যায়, সম্পত্তির বেশিরভাগই প্রিয়ার নামে রয়েছে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে আইনি টানাপড়েন।
দিল্লি হাই কোর্টে মামলা
করিশমার সন্তানরা ইতিমধ্যেই দিল্লি হাই কোর্টে উত্তরাধিকার মামলা দায়ের করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, সঞ্জয়ের সম্পত্তির ন্যায্য ভাগ তাঁদের পাওয়া উচিত। আদালতে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন দলিল, সই-স্বাক্ষর ও ব্যবসায়িক নথি। আদালত এখনো রায় দেয়নি, তবে প্রাথমিক শুনানিতেই বিষয়টি শিরোনামে উঠে এসেছে।
ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনত বৈধ নয়। এর মানে দাঁড়ায়, কেউ যদি বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তবে তাঁকে ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়। সঞ্জয়ের প্রস্তাব আইনগতভাবে ঠিক হলেও পারিবারিক সমঝোতায় ভাটা পড়ে। করিশমার অস্বীকৃতিই মূলত এই দ্বন্দ্বকে দীর্ঘায়িত করেছে। এখন আইনের হাতে নির্ভর করছে এই বিরোধের সমাধান।
আরও পড়ুনঃ পুজোয় ওটিটিতে তারার মেলা: সৌমিতৃষার প্রত্যাবর্তন থেকে ফেলুদার নতুন চমক
করিশমা ও সঞ্জয়ের সম্পর্কের পরিবর্তন
করিশমা ও সঞ্জয়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁদের সম্পর্ক অনেকটাই শীতল ছিল। একটা সময় নাকি তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলতেন না। পরে সন্তানদের কারণে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। মৃত্যুর আগে নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনার মধ্যেও যোগাযোগ ছিল।
বলিউড সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই মিডিয়ার নজরে থাকে। এই মামলাও তার ব্যতিক্রম নয়। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি, আন্তর্জাতিক নাগরিকত্ব বিতর্ক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুনঃ ৬০ কোটি টাকার প্রতারণা কাণ্ডে রাজ কুন্দ্রা-শিল্পার নাম জড়াল! অবশেষে মুখ খুললেন রাজ
দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ। যদি প্রিয়ার দলিল জাল প্রমাণিত হয়, তবে সম্পত্তি করিশমার সন্তানদের হাতে ফিরতে পারে। আবার যদি প্রিয়ার দাবি বৈধ হয়, তবে তিনি অধিকাংশ সম্পত্তির মালিক হবেন। বিদেশি সম্পত্তির আইনি প্রক্রিয়া আরও জটিল, কারণ তা আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
FAQ (প্রশ্নোত্তর)
Q1. সঞ্জয় কপূরের মৃত্যুর পর কত সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক চলছে?
প্রায় ₹৩০,০০০ কোটি টাকার বিশাল সম্পত্তি নিয়ে এই বিতর্ক চলছে।
Q2. কারা উত্তরাধিকার দাবি করছেন?
করিশমা কপূরের দুই সন্তান—সামাইরা ও কিয়ান—দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করেছেন।
Q3. প্রিয়া সচদেবের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিযোগ উঠেছে যে তিনি কিছু দলিল জাল করে নিজের নামে সম্পত্তি রেজিস্টার করেছেন।
Q4. সঞ্জয় কপূর কেন সন্তানদের পর্তুগালের নাগরিকত্ব দিতে চেয়েছিলেন?
বিদেশের সম্পত্তি সন্তানদের নামে করতে চেয়েছিলেন বলে তিনি নাগরিকত্ব বদলের প্রস্তাব দেন।
Q5. করিশমা কপূর কেন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?
তিনি ভারতের নাগরিকত্ব ছাড়তে চাননি এবং সন্তানদের ভারতীয় পরিচয় বজায় রাখতে চেয়েছিলেন।
Q6. আদালতের রায় কী হয়েছে?
মামলা এখনও বিচারাধীন, চূড়ান্ত রায় আসেনি।
| বিষয় | লিংক |
| বলিউড | Bollywood News |
| টলিউড | Tollywood News |
| সিরিয়াল | Serial News |