Mahalaya: মহালয়ার দিনে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের আবেগঘন অভিজ্ঞতা, মায়ের স্মৃতি ঘিরে ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী

Swastika Mukherjee's emotional experience during the Mahalaya days

মহালয়া (Mahalaya) মানেই দেবীপক্ষের সূচনা, দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা। এই দিনে অসংখ্য মানুষের মতো অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)-র মনেও জাগে স্মৃতি, আবেগ ও না বলা কষ্ট। রেডিয়ো, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ, মায়ের স্মৃতি আর হারানো দিনগুলো—সব মিলিয়ে মহালয়া তাঁর কাছে শুধু উৎসব নয়, এক অনন্ত অনুভূতি।

মহালয়া (Mahalaya) মানেই পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা। এই দিনেই মায়ের আগমনের সুর বাজে চারদিকে। ভোররাতে রেডিয়ো চালিয়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে “মহিষাসুরমর্দিনী” শুনে আজও বহু মানুষ শুরু করেন দিনের যাত্রা। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের জীবনেও এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মিষ্টি-কটু স্মৃতি।

একনজরে

অভিনেত্রীর আবেগঘন অভিজ্ঞতা

স্বস্তিকা (Swastika Mukherjee) সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন তাঁর মনের অনুভূতি—

  • আগের রাতে বাড়ি ফিরে মাসিকে বললেন, “রেডিয়োটা কোথায় গো মাসি? ভোর হলে তো লাগবে।”
  • মাসির উত্তর তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল অনেক বছর আগের দিনে।
  • মাসি বললেন, দাদার ব্যথা বাড়লে তিনি রেডিয়ো চালিয়ে গান শুনতেন। সেই সুরে নাকি ব্যথা কমে যেত।
  • স্বস্তিকার মনে হলো, কতবার হয়তো মহালয়া কেটেছে, কিন্তু ভুল হয়নি একবারও।

আরও পড়ুনঃ Zubeen Garg: সমুদ্রেই নিভে গেল সুরের প্রদীপ! স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু

মায়ের স্মৃতি: না ভোলার মতো কষ্ট

  • স্বস্তিকার কথায়—
    • “মা থাকলে কিছুই খুঁজতে হতো না। বাড়ির দলিল থেকে ডেবিট কার্ড, সবই মায়ের আঁচলে বাঁধা থাকত।”
    • মা চলে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হলো চিরন্তন খোঁজা, যা আজও চলছে।
  • এই খোঁজের মাঝেই অবশেষে রেডিয়ো খুঁজে পেলেন তিনি।
  • আকাশবাণী কলকাতার স্টেশন ঘুরিয়ে তৈরি করে রাখলেন ভোরবেলার সেই বিশেষ মুহূর্তের জন্য।

ভোর ৩.৪৫ এ মা ঘুম থেকে তুলে দিতেন স্বস্তিকা ও তাঁর দুই বোনকে। বাইরের ঘরে সবাই মিলে কেউ সোফায়, কেউ মেঝেতে শুয়ে মহালয়া (Mahalaya) শুনতেন। মা বারান্দায় বসে ধূপ জ্বালিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে অঝোরে কাঁদতেন। স্বস্তিকার মনে পড়ে, “মা বলতেন কিছু না। কিন্তু এখন বুঝি, মা জননীরা অমন কেঁদেই থাকেন।”

মহালয়া (Mahalaya)-র দিনে মায়ের স্মৃতিচারণ। Swastika Mukherjee
মহালয়া (Mahalaya)-র দিনে মায়ের স্মৃতিচারণ। Swastika Mukherjee

হারানো মানুষদের স্মৃতিতে মহালয়া (Mahalaya)

মহালয়া এলে মনে পড়ে দিদা, দাদু, ঠাকুরদা, আম্মাদের কথা। ছোট থেকেই অচেনা এক মন খারাপ গ্রাস করত তাঁকে। মায়ের মৃত্যুর বছর ভয়ে রেডিয়ো চালাননি স্বস্তিকা। তবে পরে সাহস জুগিয়ে আবার ফিরে এলেন সেই ভোর ৩.৪৫-এর অভ্যাসে।

আরও পড়ুনঃ অভিনেত্রী Madhumita Sarcar-এর কণ্ঠস্বর নিয়ে তুমুল বিতর্ক! সাত বছর পর ছোটপর্দায় ফেরা নিয়েও নেটিজেনদের প্রশ্ন

ভোরের সোঁদা গন্ধ, কামিনী ফুলের সুবাস, আকাশে টিমটিম তারা—সব মিলিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্ত। হাত জোড় করে প্রণাম জানালেন মা দুর্গাকে আর নিজের মাকেও। নিজের চাওয়া-পাওয়ার হিসেব গুটিয়ে শুধু সন্তানের মঙ্গল চাইলেন তিনি।

আধুনিক যুগে টেলিভিশন, মোবাইল অ্যাপ—সব কিছু থাকলেও মহালয়া (Mahalaya)-র ভোর রেডিয়ো ছাড়া অসম্পূর্ণ। স্বস্তিকার কাছে এই দিন মানে শুধু উৎসব নয়, হারানো সম্পর্ক, মায়ের ভালোবাসা আর অশেষ আবেগের মিশ্রণ।

FAQ (প্রশ্নোত্তর)

প্রশ্ন ১: মহালয়া কবে পালিত হয়?

উত্তর: মহালয়া অমাবস্যা তিথিতে পালিত হয়। এই দিনেই দেবীপক্ষের সূচনা হয়।

প্রশ্ন ২: মহালয়া উপলক্ষে মানুষ কী করেন?

উত্তর: অনেকে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন, আবার ভোরে রেডিয়ো চালিয়ে “মহিষাসুরমর্দিনী” শ্রবণ করেন।

প্রশ্ন ৩: বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহালয়া কেন বিশেষ?

উত্তর: তাঁর কণ্ঠস্বরের আবেগ, ধ্বনি ও পাঠ মানুষের মনে আজও অমলিন স্মৃতি তৈরি করেছে।

প্রশ্ন ৪: স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের মহালয়া স্মৃতিতে বিশেষ কী ছিল?

উত্তর: মায়ের স্মৃতি, রেডিয়ো খোঁজা, ভোরের আবহাওয়া আর সন্তানের মঙ্গল কামনা—সবই তাঁর আবেগঘন অভিজ্ঞতার অংশ।

প্রশ্ন ৫: আজকের দিনে মহালয়া কীভাবে পালিত হয়?

উত্তর: টেলিভিশন, ইউটিউব, মোবাইল অ্যাপ থাকলেও রেডিয়োতে মহালয়া শোনা এখনও মানুষের কাছে বিশেষ আবেগের বিষয়।

বিষয়লিংক
বলিউডBollywood News
টলিউডTollywood News
সিরিয়ালSerial News

আমাদের পেজ টিকে ফলো করুনঃ Facebook