Rituparna Sengupta: বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর কাছে এ বছরের দুর্গাপুজো একেবারেই অন্যরকম। মায়ের মৃত্যুর পর উৎসবের আনন্দ যেন হারিয়ে গেছে তাঁর জীবনে। কীভাবে তিনি মায়ের স্মৃতি আঁকড়ে আছেন, আর পুজোকে উপলক্ষ করে পরিবার ও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন আবেগঘন স্মৃতি—জেনে নিন বিস্তারিত।
বাংলা সিনেমার সবচেয়ে সফল ও ব্যস্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। অভিনয়ের জগতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। একের পর এক হিট সিনেমা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, আর অসংখ্য চরিত্রে জীবন্ত অভিনয় তাঁকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে সম্প্রতি এক গভীর শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি—মা হারানোর বেদনা।
একনজরে
দুর্গাপুজো মানেই বাংলার মানুষের সবচেয়ে বড় উৎসব। আর এই উৎসব ঋতুপর্ণার কাছেও বরাবর আনন্দের প্রতীক ছিল। চার দিন ধরে খাওয়াদাওয়া, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও ভক্তদের সঙ্গে দেখা—সব মিলিয়ে পুজো মানেই উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু এ বছর সেই আনন্দে নেই উজ্জ্বলতা। অভিনেত্রীর কথায়, “মা নেই। এখনও ভাবতে পারি না এই কথাটা। এ বছরের পুজোটা একেবারেই অন্যরকম। সব আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে।”

পুজো মানেই পরিবারের সঙ্গে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। ছোট থেকে আজ অবধি এই আনন্দ ঋতুপর্ণা (Rituparna Sengupta)-র জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু মা-কে ছাড়া সেই আনন্দ আজ একেবারেই অসম্পূর্ণ। তিনি জানালেন— “পুজোর সময়ে আমরা কমিউনিটি হলে একসঙ্গে বসে খেতাম। মা সবসময় থাকতেন পাশে। ছোটদের আদর করতেন। ঢাক বাজানো উপভোগ করতেন। এখন আর সেই মুহূর্তগুলো পাওয়া যাবে না।”
আরও পড়ুনঃ Zubeen Garg: সমুদ্রেই নিভে গেল সুরের প্রদীপ! স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু
গত তিন মাসে একের পর এক ছবি মুক্তি পেয়েছে তাঁর। দর্শকরা উপহার দিয়েছেন বিপুল ভালোবাসা। ব্যস্ততার মধ্যে ডুবে গিয়ে নিজের শোক ভুলতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হল—কাজ যতই থাকুক না কেন, মা-কে ছাড়া তিনি অসম্পূর্ণ। “কাজ করি, শুটিং করি, ছবি মুক্তি পায়। কিন্তু রাতে একা থাকলে বারবার মায়ের কথাই মনে পড়ে।”
Rituparna Sengupta: মায়ের স্মৃতিচারণ
দুর্গাপুজোর আগেই মা সবসময় ঋতুপর্ণার জন্য শাড়ি বাছতেন। রঙ, নকশা, স্টাইল—সবকিছুতেই মায়ের ভালোবাসা মিশে থাকত। এবার সেই শাড়ির জায়গা ফাঁকা। অভিনেত্রীর আবেগঘন স্মৃতিচারণ— “মা বলতেন—‘দেখ তো, এই রঙের শাড়িটা তোর ভালো লাগছে কি না।’ সেই মুহূর্ত আর কোনোদিন আসবে না।”
বাবা মারা যাওয়ার পর মহালয়ার সকালে তাঁর ভাই তর্পণ করতেন। মা সবসময় পাশে থাকতেন। কিন্তু এবছর মা নেই। তাই ঋতুপর্ণা (Rituparna Sengupta) এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি তর্পণে অংশ নেবেন কি না। “আমি এখনও ভাবতেই পারছি না, মা নেই। তাই তর্পণের কথা মাথাতেই আসছে না।”

বিদেশে কাটতে পারে এবারের পুজো
শোকের আবহে পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করছেন ঋতুপর্ণা। তবে কাজের ব্যস্ততায় এবছর বিদেশে কাটাতে হতে পারে দুর্গাপুজো। তিনি জানান— “সম্ভবত এ বছরের পুজোটা বিদেশেই কাটাতে হবে।”
জীবনের আনন্দ, সাফল্য, ব্যস্ততা—সবকিছুই হয়তো অর্থহীন হয়ে পড়ে যখন সবচেয়ে কাছের মানুষ চলে যান। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)-র কথায় তা স্পষ্ট। দর্শকরা যদিও পর্দায় তাঁকে সবসময় শক্তিশালী চরিত্রে দেখেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আজও এক কন্যাসন্তান, যিনি মায়ের অভাবকে বুকে নিয়ে প্রতিদিন লড়াই করছেন।
আরও পড়ুনঃ অভিনেত্রী Madhumita Sarcar-এর কণ্ঠস্বর নিয়ে তুমুল বিতর্ক! সাত বছর পর ছোটপর্দায় ফেরা নিয়েও নেটিজেনদের প্রশ্ন
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
Q1: কেন এবারের দুর্গাপুজো ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর কাছে ফিকে লাগছে?
উত্তর: কারণ তাঁর মা আর নেই। মায়ের স্মৃতি ছাড়া তিনি উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন না।
Q2: মায়ের মৃত্যুর পর কি তর্পণে অংশ নেবেন ঋতুপর্ণা?
উত্তর: এখনও তিনি নিশ্চিত নন। মায়ের অনুপস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না বলে দ্বিধায় আছেন।
Q3: এবারের পুজো কোথায় কাটাবেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত?
উত্তর: সম্ভবত বিদেশে কাটাবেন, কারণ কাজের ব্যস্ততা রয়েছে।
Q4: মায়ের সঙ্গে পুজোর কোন স্মৃতি সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে তাঁর?
উত্তর: একসঙ্গে কমিউনিটি হলে খাওয়াদাওয়া, ঢাক বাজানো দেখা, আর মা-র হাতে বাছা শাড়ি—এসবই তাঁর কাছে সবচেয়ে স্মরণীয়।
Q5: দর্শকদের জন্য কী বার্তা দিয়েছেন তিনি?
উত্তর: পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই সবচেয়ে বড় আনন্দ। তাই যাঁরা মা-বাবাকে কাছে পাচ্ছেন, তাঁদের যেন প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন।
| বিষয় | লিংক |
| বলিউড | Bollywood New |
| টলিউড | Tollywood News |
| সিরিয়াল | Serial News |